অক্টোবর বিপ্লব ও সোভিয়েত ইউনিয়ন নীতি, বিতর্ক ও প্রচেষ্টার প্রথম পর্ব

উপচার ডেস্ক: ১৯১৭ সালের ২৫ অক্টোবর (নতুন ৭ নভেম্বর) বলশেভিক পার্টির নেতৃত্বে ক্ষমতা দখল সম্পন্ন হলেও রাশিয়ার বহু অঞ্চল বহুদিন পর্যন্ত বিপ্লবী সরকারের নিয়ন্ত্রণবহির্ভূত ছিল। ক্ষমতাচ্যুত সরকার, শ্বেতরক্ষী বাহিনী, সামাজিক ফ্যাসিস্ট বিভিন্ন গ্রুপ, দল ও বৃহৎ সম্পত্তি মালিক শ্রেণীর সঙ্গে যুক্ত হয়েছিল ১৭টি সাম্রাজ্যবাদী দেশ। বিভিন্ন অঞ্চলে তাদের বর্বর হামলা, গ্রামের পর গ্রাম পুড়িয়ে দেয়া, হত্যাযজ্ঞ, লুটপাট চলছিল। তার বিরুদ্ধে লালফৌজের সংহত হওয়া, যুদ্ধ পরিচালনা ও বিজয়ের জন্য ক্ষতি স্বীকার করতে হয়েছে— বহু সময় লেগেছে। বহু অঞ্চলেই আগে পার্টির ভিত্তি ছিল না, এ যুদ্ধের মধ্য দিয়েই সেখানে সংগঠন গড়ে উঠেছে। এ সময়ের খুব ভালো পরিচয় পাওয়া যায় নিকোলাই অস্ত্রভস্কির ইস্পাত উপন্যাসে।

বিশ্বযুদ্ধ শুরু হওয়ার আগেই রুশ অর্থনীতি চরম নৈরাজ্যের মধ্যে পড়েছিল, বিশ্বযুদ্ধে রুশ সাম্রাজ্যের অবস্থান ছিল খুবই নাজুক, যুদ্ধে অর্থনীতির সংকট গভীরতর হয়। রাশিয়ার বুর্জোয়া শ্রেণীর পক্ষে এ সংকট থেকে অর্থনীতির উত্তরণ ঘটানো ফেব্রুয়ারি বিপ্লবের পরও সম্ভব হয়নি। বরং এ সংকট থেকে নিজেদের উদ্ধার করার জন্য তারা সামরিক শাসনের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করেছিল। অক্টোবর বিপ্লব বুর্জোয়া শ্রেণীর এ অক্ষমতা এবং বিপ্লবী পার্টির দ্রুত বিকাশ ও সঠিক কর্মসূচি নিয়ে রাষ্ট্রক্ষমতা দখলের দিকে অগ্রসর হওয়া এবং রাশিয়ায় বিশ্বসাম্রাজ্যবাদের শৃঙ্খল দুর্বল হয়ে পড়ার সামগ্রিক ফলাফল।

বিপ্লব-পরবর্তী পরিস্থিতি

অক্টোবর বিপ্লব হওয়ার পর বিপ্লবী সরকারকে অর্থনীতির নৈরাজ্যিক অবস্থা, বিশ্বযুদ্ধের চাপ এবং একটানা সশস্ত্র হামলা চক্রান্তের মোকাবেলা করতে হয়। শ্রমিক কৃষকদের মধ্যে সংগঠনের ভিত্তি যে সব ক্ষেত্রে সমান ছিল তাও না। তাছাড়া বিভিন্ন সোভিয়েতের মধ্যে মেনশেভিক ও সোস্যাল রেভল্যুশনারীদের প্রভাব ছিল উল্লেখযোগ্য। এছাড়া বিপ্লব-উত্তরকাল সাবেক সরকারের আমলা, বিশেষজ্ঞ বুদ্ধিজীবী, শিল্প মালিক, ব্যবসায়ীদের প্রভাবও যথেষ্ট মাত্রায় ছিল। ক্রমাগত যুদ্ধের মোকাবেলা এবং অন্যদিকে সমাজ অর্থনীতি রূপান্তরের সংগ্রাম একসঙ্গেই চালাতে হচ্ছিল।

বিপ্লবের পরই জোতদার এবং চার্চের জমি জাতীয়করণ করা হয় এবং গ্রামাঞ্চলে ক্রমান্বয়ে সমবায়ী কৃষি ব্যবস্থা চালুর ওপর গুরুত্ব দেয়া হয়। ৮ ঘণ্টার শ্রম দিবস চালু করা হয়। বড় বড় শিল্প-কারখানা রাষ্ট্রায়ত্ত হয় এবং সব শিল্প প্রতিষ্ঠানে শ্রমিক কমিটিগুলোকে উৎপাদন ও ব্যবস্থাপনা তদারকের অধিকার দেয়া হয়।

বাণিজ্য রাষ্ট্রের হাতে আনা হয়। শ্রমিক এবং সৈনিকদের খাদ্য চাহিদা মেটানোর জন্য বাধ্যতামূলক খাদ্য সংগ্রহ নীতি চালু করা হয়। অর্থনৈতিক রূপান্তরের এ নীতিকে ‘যুদ্ধকালীন সাম্যবাদ’ বলা হয়।

কিন্তু বহু রকম চেষ্টা সত্ত্বেও শিল্প, কৃষি উৎপাদন, যোগাযোগ, বাণিজ্য ইত্যাদি ক্ষেত্রে এ সময় বিভিন্নমুখী সংকট দেখা দেয়। এর পেছনে কারণ ছিল— গৃহযুদ্ধের অব্যাহত চাপ, অন্তর্ঘাতমূলক তত্পরতা, কাঁচামালের অভাব, যুদ্ধে অধিকাংশ সম্পদ নিযুক্ত, দক্ষ জনশক্তির অভাব, ব্যবস্থাপনার সমস্যা ইত্যাদি। এ সময়ে উৎপাদন ১৯১৬-এর চেয়েও নিচে ছিল। মূল্যস্ফীতিও মারাত্মক আকার লাভ করে। শ্রমিক এবং সৈনিকদের খাদ্য জোগান দেয়ার জন্য বাধ্যতামূলক শস্য সংগ্রহ ছিল তখন অপরিহার্য, কিন্তু উৎপাদন ব্যাপক হ্রাস এবং বিভিন্ন অঞ্চলে কুলাকশ্রেণীর নেতৃত্বে এ সংগ্রহে বাধাদানের ফলে শ্রমিক এবং সৈনিকদের অনাহারের শিকার হতে হয়।

মূলত ‘যুদ্ধকালীন সাম্যবাদ’ বলে কথিত অর্থনৈতিক ব্যবস্থার প্রধান বৈশিষ্ট্য ছিল উৎপাদন বিনিময়ের ওপর রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ, যদিও ব্যক্তিমালিকানা তখনো কৃষিতে বেশ ব্যাপকভাবে এবং শিল্পে উল্লেখযোগ্য মাত্রায় ছিল। অবৈধ বাণিজ্য, চোরাচালানির অস্তিত্বও ছিল উল্লেখযোগ্য, কখনো কখনো অন্তর্ঘাতমূলক তত্পরতার অংশ।

গৃহযুদ্ধে বিজয় এবং শত্রুপক্ষের নিশ্চিত বিপর্যয়ের পর ১৯২১-এর যুদ্ধকালীন সাম্যবাদ থেকে সুচিন্তিতভাবে পশ্চাদপসরণ করা হয়, যুদ্ধকালীন সাম্যবাদের বেশকিছু মৌলিক নীতির স্থানে নতুন কিছু নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়, লেনিনের লেখাতেই যা পরে ‘নয়া অর্থনৈতিক নীতি’ নামে পরিচিত হয়। কৃষকদের কাছ থেকে বাধ্যতামূলকভাবে শস্য সংগ্রহ নীতি বাতিল করে তার স্থলে ফসলে কর (Tax in kind) চালু করা হয়। এ নীতি অনুযায়ী কৃষকরা কর দেয়ার পর উদ্বৃত্ত উৎপাদন বাজারে বিক্রির অধিকার লাভ করে। খুচরা বাণিজ্যের অধিকার দেয়া হয়। শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোয় সাবেক পরিচালকদের পরিচালনার সুযোগ দেয়া হয়। উৎপাদন ক্ষেত্রগুলোতে পার্টি নিয়ন্ত্রণ শিথিল করা হয়।

মোদ্দাকথায় অর্থনীতির ওপর রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ অনেকখানি শিথিল করে ব্যক্তিগত উদ্যোগকে উত্সাহিত করা হয়। এ নিয়ে পার্টিতে লেনিনকে তখন অনেক বিরোধিতারও মুখোমুখি হতে হয়। সোস্যাল রেভল্যুশনারি এবং মেনশেভিকদের অনেকে তাকে পুঁজিবাদের অনুসারী বলে আখ্যায়িত করে। পশ্চিমের বিভিন্ন মহল যুদ্ধকালীন সাম্যবাদকে প্রকৃত সাম্যবাদ বলে ভেবে এসব পদক্ষেপকে সাম্যবাদের ব্যর্থতা ও পুঁজিবাদের দিকে অবশ্যম্ভাবী যাত্রা বলে উল্লেখ করে। লেনিন যে নিজেও এসব পদক্ষেপ নেয়ার জন্য আনন্দচিত্তে উদ্যোগী হয়েছিলেন তা নয়। তিনিও এসব নীতি ও ব্যবস্থাবলিকে প্রয়োজনীয় ‘রাষ্ট্রীয় পুঁজিবাদ’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছিলেন। বলেছিলেন, সমাজতন্ত্রে উত্তরণের জন্য এ ধাপ আমাদের পার হতেই হবে। বরং ‘যুদ্ধকালীন সাম্যবাদ’ ছিল পরিস্থিতির চাপে বাধ্য হয়ে নেয়া। বিশের দশকে এক লেখক লিখেছিলেন, ‘যুদ্ধকালীন সাম্যবাদ ছিল আমাদের ওপর আরোপিত, যা আরোপ করেছিল প্রথমত জার্মান সাম্রাজ্যবাদ, দ্বিতীয়ত প্রতিবিপ্লবীদের তত্পরতা। যুদ্ধকালীন সাম্যবাদ কোনো স্বাভাবিক অর্থনৈতিক নীতি ছিল না। কিন্তু সেই সময়ের পরিস্থিতিতে ঐতিহাসিক ও অর্থনৈতিকভাবে এটাই ছিল অপরিহার্য।’

নয়া অর্থনৈতিক নীতিকে তার রাজনৈতিক সামাজিক পরিপ্রেক্ষিত ছাড়া বিবেচনা করলে নিশ্চিতভাবে তা অসম্পূর্ণ এবং বিভ্রান্তিকর হবে। এ রাজনৈতিক পরিপ্রেক্ষিতের মধ্যে এ নীতির পূর্বে ও সেই সময়ে বলশেভিক পার্টির সঙ্গে অন্যান্য দলের সম্পর্ক, পার্টির মধ্যে বিতর্ক, রাষ্ট্রের বল প্রয়োগকারী চরিত্র অন্তর্ভুক্ত। বলা বাহুল্য, যুদ্ধকালীন সাম্যবাদ ও নয়া অর্থনৈতিক নীতির সময়কালে বলশেভিক পার্টির গুণগত অগ্রগতি বিতর্ক, মতভেদ, বিভিন্ন পদক্ষেপ ও রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গির এক সুদূরপ্রসারী প্রভাব আমরা দীর্ঘদিন পর্যন্ত, কোনো কোনো ক্ষেত্রে বর্তমান পর্যন্ত, লক্ষ করি।

বিপ্লব-উত্তর রাষ্ট্র ও বিভিন্ন দল

সর্বহারার একনায়কত্ব প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য নিয়ে বলশেভিক পার্টি ক্ষমতা দখল করলেও তা ঠিক কীভাবে কার্যকর হবে, তার প্রাতিষ্ঠানিক রূপ কী দাঁড়াবে, সে সম্পর্কে পার্টি এবং লেনিনের সঙ্গত কারণেই খুব পরিষ্কার কোনো ছক ছিল না। সর্বহারার একনায়কত্ব প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে দুটো প্রধান উপাদান ছিল: এক. সোভিয়েত বা জনগণের সংগ্রামী সংস্থা এবং দুই. বলশেভিক পার্টি। সোভিয়েতগুলোতে তখনো সোস্যালিস্ট রেভল্যুশনারি ও মেনশেভিকদের অনেকখানি প্রভাব ছিল, কোনো কোনো সোভিয়েতে তারাই ছিল সংখ্যাগরিষ্ঠ।

বলশেভিক পার্টির শক্তির মূল উত্স ছিল শ্রমিক এবং সৈনিক সোভিয়েতগুলোতে বলশেভিক আধিপত্য। ১৯১৭ সালের ২৬ অক্টোবর সারা রাশিয়া শ্রমিক এবং সৈনিক সোভিয়েতগুলোর কংগ্রেসে ‘কাউন্সিল অব পিপলস কমিশার’ (SOVNARKOM) গঠিত হয়, যা বস্তুত প্রথম শ্রমিক এবং কৃষকদের সরকার। প্রধানত এর সদস্য ছিলেন বলশেভিকরাই। পরে এতে কিছুদিনের জন্য সোস্যাল রেভল্যুশনারিদেরও নেয়া হয়। ১৫ নভেম্বর সব সোভিয়েতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ গঠিত হয়। সভনারকম প্রথমে এ পরিষদের অধীন থাকলেও বাস্তবে সেটিই পরে মূল ক্ষমতার অধিকারী হয়। রাষ্ট্রের প্রশাসনিক ক্ষমতা, বলপ্রয়োগের চরিত্র ইত্যাদি তখন পর্যন্ত পরিষ্কার ছিল না। লেনিনের পূর্ব ধারণা ছিল, সোভিয়েত সরকারের সংগঠন বস্তুত অ-রাষ্ট্র সংগঠন হবে। কিন্তু বাস্তব অবস্থা এটিকে পূর্ণ মাত্রায় রাষ্ট্রের চরিত্রদান করে। গৃহযুদ্ধ এবং বিভিন্ন অন্তর্ঘাতমূলক তত্পরতা থেকে সোভিয়েত রাষ্ট্রকে রক্ষার জন্য, সমাজতন্ত্রের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ হলেও গোয়েন্দা সংস্থা ‘চেকা’কে ক্রমাগতভাবে শক্তিশালী করতে হয়।

বিপ্লবের পর কয়েক বছর পর্যন্ত বিভিন্ন পার্টির অস্তিত্ব ছিল। মেনশেভিক ও সোস্যাল রেভল্যুশনারিদের সরকারে অন্তর্ভুক্ত করা, বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে তাদের সদস্যদের অধিষ্ঠিত করার জন্য বলশেভিক পার্টি একাধিক উদ্যোগ ও প্রচেষ্টা গ্রহণ করে। এমনকি যেসব কাদেত সদস্য তখন পর্যন্ত সোভিয়েত সরকারের বিরুদ্ধে সরাসরি কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি, তাদেরও বিভিন্ন কমিটিতে রাখা হয়।

সারা রাশিয়া সোভিয়েতে মেনশেভিক ও সোস্যাল রেভল্যুশনারির (এসআর) ছিল সংখ্যালঘু, যদিও বলশেভিক পার্টিকে ক্ষমতা থেকে উচ্ছেদের জন্য একপর্যায়ে তাদের বিভিন্ন চক্রান্তমূলক তত্পরতা দেখা যায়। তারা সরকারে অংশগ্রহণের শর্ত হিসেবে বিপুল সংখ্যক বুর্জোয়া প্রতিনিধির অন্তর্ভুক্তি ও লেনিনের অপসারণ দাবি করে। বাম এসআরদের ক’জন সদস্য এরপরও কিছুদিন সরকারে ছিলেন। সব দলেরই ভিন্ন ভিন্ন পত্রিকা ছিল। এসব পত্রিকায় তারা বলশেভিকবিরোধী বক্তব্যও উপস্থিত করেছেন। বাম এসআররা একপর্যায়ে বিদ্রোহের আহ্বান জানায়, উস্কানিমূলকভাবে জার্মান রাষ্ট্রদূতকে হত্যা করে। গৃহযুদ্ধের কারণে সৃষ্ট খাদ্য ও অন্যান্য দ্রব্যাদির অভাব ও প্রশাসনিক ব্যর্থতার সুযোগ এবং বাধ্যতামূলক খাদ্য সংগ্রহ নীতির কারণে কিছু কিছু অঞ্চলে কৃষকদের বিক্ষোভকে পুঁজি করে তারা বিভিন্ন অঞ্চলে বিদ্রোহ সংগঠিত করারও চেষ্টা করে। পরিস্থিতি তখন একসঙ্গে কাজ করা এবং ঐক্যের মধ্যে মতাদর্শিক সংগ্রাম করার স্তর অতিক্রম করেছে। এ পর্যায়ে যখন তারা সোভিয়েত সরকারের বিরুদ্ধে সশস্ত্র আক্রমণের পাঁয়তারা করতে থাকে, তখন তাদের বিরুদ্ধে বলপ্রয়োগের নীতি অবলম্বন করা হয়। লেনিন এ সময় বলেন, ‘সন্ত্রাস এবং চেকা দুটোই এখন চূড়ান্তভাবে অপরিহার্য।’

১৯২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে সোস্যাল রেভল্যুশনারীদের ২২ জন নেতার বিচার করা হয় ও তাদের বিভিন্ন শাস্তি দেয়া হয়; তাদের পত্রপত্রিকা প্রকাশ বন্ধ করা হয় এবং চক্রান্তমূলক ও সামরিক অন্তর্ঘাতমূলক তত্পরতা রোধের জন্য চেকাকে অনেকখানি ক্ষমতা দেয়া হয়। কাজেই নয়া অর্থনৈতিক নীতি বাস্তবায়নের সূচনাকালের মধ্যেই সর্বহারার একনায়কত্বের অধীনে বিভিন্ন ‘গণতান্ত্রিক’ পার্টিকে অংশীদার করার চেষ্টা ব্যর্থ হয় এবং ‘সোভিয়েত রাষ্ট্র বস্তুত একদলীয় রাষ্ট্রে পরিণত হয়।’

সোভিয়েত প্রশাসন সম্পর্কে তখন পর্যন্ত লেনিনের বক্তব্য ছিল, ‘আমাদের এক বিশাল রাষ্ট্রযন্ত্র রয়েছে; কিন্তু সঠিকভাবে চালাতে না জানার ফলে এটি খুবই খারাপভাবে চলছে। …হাজার হাজার কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়েছে, যারা হয় বুর্জোয়া বা আধা বুর্জোয়া অথবা এমন অধঃপতিত যে, তাদের সোভিয়েত সরকারের ওপর কোনো আস্থাই নেই।’ একদিকে পার্টি ক্যাডারদের দক্ষতার অভাব, অন্যদিকে প্রশাসনকে সচল রাখার প্রয়োজনীয়তা— এ দুই কারণে বহু সংখ্যক আমলাকে পুনর্বহাল করা হয়। নয়া অর্থনৈতিক নীতির সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণভাবে তাদের অনেকখানি অধিকারও দেয়া হয়।

বলশেভিক পার্টির মধ্যে বিভিন্ন উপদল

বিপ্লবের পর নতুনভাবে বলশেভিক পার্টির মধ্যে বিভিন্নমুখী প্রবণতা দেখা দেয়। এসব প্রবণতা থেকে বিভিন্ন গ্রুপ উপদলেরও জন্ম হয়। বিতর্ক বা মতবিরোধের উত্স ছিল বহু প্রশ্ন। সোভিয়েত রাষ্ট্র ঠিক কী? রাষ্ট্রের সঙ্গে পার্টি সোভিয়েত-ট্রেড ইউনিয়ন-জনগণের সম্পর্ক কী হবে? উৎপাদিকা শক্তির বিকাশ না উৎপাদন সম্পর্কের রূপান্তর কোনটি প্রধান, পাটিতে গণতান্ত্রিক অধিকার চর্চার ধরন, কৃষকদের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি, বিভিন্ন জাতির প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি, জার্মানির সঙ্গে চুক্তি ইত্যাদি প্রশ্ন তখন পার্টির মধ্যে সুনির্দিষ্ট সমাধানের লক্ষ্যে ঘুরপাক খাচ্ছে। সব উত্তর কারও কাছেই স্পষ্টভাবে ছিল না।

সোস্যাল রেভল্যুশনারি ও মেনশেভিকদের সঙ্গে কোয়ালিশন সরকার গঠনের ব্যাপারে পার্টির মধ্যে মতবিরোধ থাকলেও তা প্রকট আকার নেয়নি। মতবিরোধ প্রকট আকার নেয় জার্মানির সঙ্গে চুক্তি যা ‘ব্রেস্ট-লিটস্ক’ চুক্তি নামে পরিচিত তা নিয়ে। এ চুক্তি সম্পাদনের বিরুদ্ধে ছিলেন ট্রটস্কি-বুখারিনসহ আরো অনেকেই। লেনিন বারবার চুক্তি সম্পাদনের প্রস্তাব নিয়ে হেরে যাচ্ছিলেন, চুক্তি যত বিলম্বিত হচ্ছিল, ততই জার্মানি নতুন নতুন অঞ্চল দখল করে নিচ্ছিল। অনেক বিলম্বে ট্রটস্কি লেনিনের সঙ্গে একমত হন।

তখন ‘বাম কমিউনিস্ট’ গ্রুপ নামে একটি উপদল ছিল। এ গ্রুপ থেকে কমিউনিস্ট নামে একটি পত্রিকাও প্রকাশিত হয়। এ পত্রিকা শ্রমিকদের শৃঙ্খলা সম্পর্কিত নীতিকে তাদের জন্য দাসত্ব আরোপের নয়া চেষ্টা বলে বর্ণনা করে। পত্রিকা আমলাতন্ত্রের কেন্দ্রিকতার প্রবণতার বিরোধিতা করে, তাদের মূল বক্তব্য ছিল সমাজতন্ত্রের পরিপন্থী অনেক রকম পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে। অন্যদিকে লেনিনের বক্তব্য ছিল, ‘সমাজতন্ত্র নির্মাণের স্তর এটা নয়, উৎপাদন সম্পর্কের ক্ষেত্রে গভীর কোনো পরিবর্তন আনারও স্তর এটা নয়, এটি হচ্ছে নৈরাজ্যিক অবস্থা থেকে অর্থনীতিকে সুশৃঙ্খল পর্যায়ে আনার স্তর, যা বস্তুত ‘সর্বহারা একনায়কত্বের অধীন রাষ্ট্রীয় পুঁজিবাদ।’ বিভিন্ন পক্ষের বিভিন্ন বক্তব্য নিয়ে সপ্তম কংগ্রেসে বিস্তারিত আলোচনা হয়, বিরোধী নেতারা পার্টির নেতৃস্থানীয় অবস্থানেই ছিলেন।

১৯১৮ সালের মাঝামাঝি থেকে পার্টির কেন্দ্রীয় নীতির বিরুদ্ধে আরেকটি উপদল সৃষ্টি হয়, যার নাম ‘মিলিটারি অপজিশন’-এর সঙ্গে স্ট্যালিনেরও সম্পর্ক ছিল; যে উপদলের মূল বক্তব্য ছিল, লালফৌজে সামরিক বিশেষজ্ঞদের অন্তর্ভুক্তির বিরোধিতা। ১৯২০ সালের দিকে পার্টিতে আরো একটি নতুন বামবিরোধী গ্রুপ সৃষ্টি হয়, যারা রাষ্ট্রের কেন্দ্রিকতার বিরোধিতা করে। এদের বিপরীত দিকে ট্রটস্কি এবং বুখারিনের নেতৃত্বে আরেকটি গ্রুপ দাঁড়ায়, যারা যুদ্ধকালীন সাম্যবাদের কঠোর নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থাদি অব্যাহত রাখার পক্ষে ছিলেন। শ্রমের সামরিকীকরণ অর্থাৎ ট্রেড ইউনিয়নগুলোকে কঠোরভাবে রাষ্ট্রের প্রশাসনিক যন্ত্রের অধীন রাখার পক্ষে তারা বক্তব্য দিতে থাকেন। ট্রটস্কির বক্তব্য অনুযায়ী, শ্রমিকদের অবশ্যই কঠোর শৃঙ্খলার অধীন থাকতে হবে, সামরিক শৃঙ্খলা অনুযায়ী চলতে হবে, যেকোনো শৈথিল্যের জন্য তাদের শাস্তি পেতে হবে। সব শ্রমিককে নিজেদের সৈনিক হিসেবে ভাবতে হবে। শ্রমের স্বাধীনতা— মেনশেভিক ধারণা ছাড়া আর কিছু নয়। নবম কংগ্রেসে এ বক্তব্য উত্থাপিত হলেও তা গৃহীত হয়নি। বুখারিন বলেন, সর্বহারার একনায়কত্ব একটি পরিস্থিতিতে অবশ্যই ‘সামরিক সর্বহারা একনায়কত্বের’ রূপ নিতে পারে।

এর বিপরীত গ্রুপ ‘ওয়ার্কার্স অপজিশন’ সব শিল্পের নিয়ন্ত্রণ ট্রেড ইউনিয়নের হাতে দেয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করে। লেনিন এ দুটো প্রবণতার বিরুদ্ধেই সংগ্রাম করেন এবং একদিকে শুধু উৎপাদন বৃদ্ধির তত্ত্ব কিংবা অন্যদিকে ট্রেড ইউনিয়নবাদী প্রবণতার বিরোধিতা করে শ্রেণী দৃষ্টিভঙ্গির ওপর জোর দেন। দশম কংগ্রেসে এ লাইনগুলো দিয়ে বিস্তারিত বিতর্ক আলোচনা হয় এবং ওয়ার্কার্স অপজিশন পায় ১৮ ভোট, ট্রটস্কি বুখারিন মত পায় ৫০ ভোট এবং লেনিন-স্ট্যালিন মত পায় ৩৩৬ ভোট।

দশম কংগ্রেস উপদলগুলোর এ পরাজয় হয় এবং সব উপদলের অস্তিত্ব, তাদের ভিন্ন শৃঙ্খলা, গোপন কার্যকলাপের প্রভাব ও প্রতিক্রিয়া গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হয় এবং পার্টির মধ্যে আলাদা পার্টি গঠন করার প্রবণতাসম্পন্ন গ্রুপ গঠনকে নিষিদ্ধ করা হয়। দশম কংগ্রেস যে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে, স্ট্যালিনের পরবর্তী বিভিন্ন সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে তা গুরুত্বপূর্ণ প্রভাবক হিসেবে কাজ করে।

নয়া অর্থনৈতিক নীতি: বিভিন্নমুখী প্রবণতা

নয়া অর্থনৈতিক নীতির অধীনে রাষ্ট্রায়ত্ত বৃহৎ ও মাঝারি শিল্প-প্রতিষ্ঠানগুলোকে ট্রাস্টের অধীনে আনা হয় এবং এসব প্রতিষ্ঠানকে দুটো ভাগে ভাগ করা হয়। একটি ভাগে ছিল সেসব শিল্পপ্রতিষ্ঠান, যেগুলো রাষ্ট্রীয় জোগানের ওপর নির্ভরশীল; অন্যদিকে ছিল সেসব প্রতিষ্ঠান, যেগুলো অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক স্বাধীনতা ভোগ করছিল। জ্বালানি, অস্ত্র ও অন্যান্য ধাতব শিল্পগুলোকে আগের পর্যায়ে রাখা হয়।

নবম সোভিয়েত কংগ্রেসে গৃহীত সিদ্ধান্তে বলা হয়, ‘সব রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান, তা যে ভাগেই পড়ুক না কেন, তাকে অবশ্যই বাণিজ্যিক ভিত্তিতে পরিচালনা করতে হবে।’ কিছু প্রতিষ্ঠান রাষ্ট্রের হাত থেকে সমবায়ের হাতে অর্পণ করা হয়। সমবায়গুলোকে অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক স্বাধীনতা প্রদান এ নীতির অধীনে বাজার পুনঃস্থাপনের অন্যতম দিক। ১৯২১-এর শেষ দিকে ঋণ ও অন্যান্য সুবিধা সুলভ করার উদ্দেশ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংক পুনরায় চালু করা হয়। একই বছর বিভিন্ন শিল্প ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান থেকে কর আদায়ের জন্য করনীতি প্রণীত হয়। ১৯২৩ সালের মধ্যে পুরনো রুবল একাধিকবার অবমূল্যায়নের কারণে দামস্তর খুবই বেড়ে যায়। ১৯২৪ সালের মধ্যে মুদ্রা সংস্কার সম্পূর্ণ হয় এবং সম্পূর্ণ নতুন মুদ্রা চালু করা হয়।

যুদ্ধকালীন সাম্যবাদের পর মালিকানা ব্যবস্থার তেমন কোনো পরিবর্তন হয়নি, বরং এক ধরনের স্থিতাবস্থা ছিল। শিল্প-বাণিজ্য ক্ষেত্রে নতুন বুর্জোয়া শ্রেণী সংগঠিত হচ্ছিল, গ্রামাঞ্চলে কুলাক শ্রেণীর মুনাফা অর্জনের পথে বাধা অপসারিত হওয়ার পর তাদেরও আধিপত্য বাড়ছিল— শোষণমূলক অর্থনীতি তখনো বেশ দাপটের সঙ্গেই ছিল। বাধ্যতামূলক খাদ্য সংগ্রহ নীতি রহিত করার কারণে শিল্প এবং কৃষির যোগাযোগের মাধ্যমে হয়ে দাঁড়ায় বাজার। অসংগঠিত বাজার ব্যবস্থা দ্রুত সংগঠিত ও বিস্তৃত হতে থাকে। উৎপাদনের ক্ষেত্রে এবং অর্থনৈতিক বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে পূর্বের নৈরাজ্য অনেকখানি কাটতে থাকে।

নয়া অর্থনৈতিক নীতি পার্টির অনেককেই হতাশ করে তুলেছিল। পরিবর্তনের প্রবণতা থেকে এটা ভাবা অস্বাভাবিক ছিল না যে, যেভাবে কুলাক শ্রেণী, পুঁজিপতি ও ব্যবসায়ী শ্রেণীকে বিকশিত হওয়ার সুযোগ দেয়া হচ্ছে, তাতে পুঁজিবাদের রাজনৈতিক বিজয় আসন্ন। নয়া অর্থনৈতিক নীতি যে একটি পশ্চাদপসরণ, এটি লেনিন বারবার গুরুত্বের সঙ্গে বলেছেন। একে বলেছেন, ‘উত্ক্রমণশীল মিশ্র ব্যবস্থা’ (যেখানে পুঁজিবাদী ও সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থার উপাদান রয়েছে, রয়েছে খুদে পণ্য উৎপাদন, এমনকি আরো পশ্চাত্পদ স্বনির্ভর কৃষক অর্থনীতি; যেগুলোর কোনোটাই স্থায়ী নয়) বলেছেন, এটি হচ্ছে রাষ্ট্রীয় পুঁজিবাদ।

অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে যেসব পদক্ষেপ নেয়া হয়েছিল তা নিশ্চিতভাবে পুঁজিবাদের দিকে যাওয়ার সমূহ সম্ভাবনা ও শক্তি ধারণ করছিল। তাকে প্রতিহত করার শক্তি ছিল অর্থনৈতিক নয়, রাজনৈতিক। এ রাজনৈতিক শক্তিটি হচ্ছে সর্বহারা শ্রেণীর একনায়কত্ব, শ্রমিক কৃষক মৈত্রীর ভিত্তিতে শ্রমিক শ্রেণীর রাষ্ট্রক্ষমতা। এ ক্ষমতা ধারণ করেই বলশেভিক পার্টি পুঁজিবাদী উপাদানের বিকাশকে রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রেখেছে এবং সমান্তরালভাবে সমাজতান্ত্রিক অর্থনৈতিক ক্ষমতা ধারণ করার মতো প্রতিষ্ঠানগুলো গড়ে তুলেছে।

এ সময়ই রাষ্ট্রীয় ও সমবায়ী বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে সংগঠনিকভাবে সম্প্রসারণ করা হয়েছে। যে সময় গ্রামাঞ্চলে কুলাক শ্রেণীর বিকাশ ঘটছে, সে সময়ই রাষ্ট্রীয় ও যৌথ খামারের সম্প্রসারণ ঘটানো হয়েছে। বলা বাহুল্য, কাজ খুব সহজসাধ্য ছিল না, বিভিন্ন বাধা অতিক্রম করতে হয়েছে। বুর্জোয়া শ্রেণী নিজেদের অর্থনৈতিক ক্ষমতা, আন্তর্জাতিক যোগাযোগ, সামাজিক আধিপত্যকে পুঁজি করে বারবার উঠে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে, কোথাও কোথাও সশস্ত্র তত্পরতাও চালায়।

এর মধ্যে গুলিবিদ্ধ হয়ে লেনিন নিহত হন। ১৯২৪-এর জানুয়ারিতে লেনিন মৃত্যুবরণ করার পর বিরূপ পরিস্থিতি মোকাবেলা করে অর্থনীতিকে সমাজতান্ত্রিক রূপান্তরের দিকে নিয়ে যাওয়ার নেতৃত্বের দায়িত্ব পড়ে স্ট্যালিনের ওপর। শিল্প-বাণিজ্য, প্রশাসন ও কৃষিক্ষেত্রে পুরনো মালিক যারা ছিলেন এবং নতুনভাবে যে বুর্জোয়া শ্রেণী বিকাশ লাভ করছিল, তারা মোটেই শক্তিহীন ছিল না এবং তাদের নিরীহ মনে করারও কারণ নেই। তাছাড়া তাদের সঙ্গে বিভিন্ন সাম্রাজ্যবাদী দেশের যোগাযোগও কমবেশি ছিল।

যুদ্ধকালীন সাম্যবাদের সময় বিপ্লবপূর্ব বড় মাঝারি বুর্জোয়ারা বস্তুত উৎপাদনক্ষেত্র থেকে সরে যেতে বাধ্য হয়েছিল। কিন্তু নয়া অর্থনৈতিক নীতি চালুর পর তারা ‘মৃত’ অবস্থা থেকে আবার বেশ ‘স্বাস্থ্যোজ্জ্বল’ অবস্থায় আবির্ভূত হয়েছিল। বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠানে বুর্জোয়া বিশেষজ্ঞদের উচ্চ বেতনে নিয়োগকে লেনিন বলেছিলেন, ‘বুর্জোয়াদের সঙ্গে আপস’, এ বিশেষজ্ঞ ও কর্মকর্তারা গঠন করেছিল একটি ‘আমলা শ্রেণী’। গ্রামাঞ্চলে কুলাক শ্রেণী আগে থেকেই ছিল। নয়া অর্থনৈতিক নীতি চালুর সময় পেটি বুর্জোয়া বিভিন্ন পার্টি কার্যত বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া এবং অন্য কোনো নতুন পার্টি খুলতে না পারার কারণে এসব শক্তি রাজনৈতিকভাবে সংগঠিত হতে পারেনি। কিন্তু তাদের দৃষ্টিভঙ্গি, স্বার্থ, চিন্তাচেতনার প্রভাব বলশেভিক পার্টির মধ্যেই পড়েছে; যার বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে বিভিন্নভাবে।

সোভিয়েত ইউনিয়নে সে সময় পর্যন্ত শিল্প-কৃষি উৎপাদন মোটেই আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর ছিল না। যোগাযোগ ব্যবস্থা দুর্বল, বিদ্যুদায়ন আংশিক, শিল্পায়নের জন্য সম্পদ জোগান দেয়ার মতো অবস্থা কৃষির নেই, দক্ষ জনশক্তি পর্যাপ্ত নয়; যারা আছে তারাও রাজনৈতিক নির্ভরযোগ্য নয়; শিল্পায়ন ব্যাপক না হওয়ার ফলে কৃষির দুর্বলতা দূর হচ্ছে না; একইভাবে কৃষির পশ্চাত্পদ অবস্থা শিল্পায়নকে বাধাগ্রস্ত করছে। এ অবস্থায় সমাজতন্ত্রের বিজয়ের জন্য লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয় একদিকে আধুনিক শিল্পায়ন, অন্যদিকে সোভিয়েত নিয়ন্ত্রিত বৃহদায়তন কৃষি উৎপাদন। এ কাজগুলো করতে গিয়েই পার্টির ভেতরে অনেক জটিলতা ও দ্বন্দ্ব-সংঘাত তৈরি হয়। (চলবে)

এই রকম আরও খবর দেখুন

সর্বশেষ আপডেট

অ্যার্কাইভ ক্যালেন্ডার
সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০৩১