‘আমি স্তম্ভিত ও লজ্জিত হই, কাদের জন্য মুক্তিযোদ্ধারা যুদ্ধ করল?’

উপচার ডেস্ক : স্বাধীনতা স্তম্ভ, যেখানে জড়িয়ে থাকে মুক্তিযুদ্ধের অনেক ইতিহাস। যেটা বহন করে মুক্তিযুদ্ধের নানা স্মৃতিবিজড়িত নিদর্শন। সেই স্বাধীনতা মঞ্চ বা স্তম্ভের চত্বর ঘিরে রাখা দেয়াল ঘেঁষেই নির্দ্বিধায় প্রস্রাব করছেন অগণিত মানুষ! কেউবা আবার জুতা পায়েই স্বাধীনতা স্তম্ভের মূল বেদীতে উঠে সেলফি তোলায় ব্যস্ত! প্রতিনিয়ত এমন ঘটনাই ঘটছে বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার সান্তাহারে নিহত শহীদদের স্মরণে স্থাপিত স্বাধীনতা স্তম্ভে! তাই এমন সব কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছে সচেতন মহল। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার সান্তাহার পৌর শহরে মুক্তিযুদ্ধের অনেক স্মৃতি জড়িয়ে আছে। নানা গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাও রয়েছে এই শহরে। ১৯৭১ সালে প্রায় ২৫ হাজার বিহারির বসবাস ছিল এই শহরেই।

মুক্তিযুদ্ধ শুরুর প্রাক্কালে বিহারিরা পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী বাঙালি নিধন কার্যক্রম শুরু করে। সেই সময় বাঙালিদের ওপর শুরু হয় নিপীড়ন-নির্যাতন। ১৯৭১ সালের শেষ পর্যন্ত তাদের হত্যাযজ্ঞের ভয়ে ভিত না হয়ে প্রতিবাদী হয়ে দাঁড়ায় বাঙালিরা। এতে উভয় পক্ষের লোকজনই নিহত হয়। সে সময় মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে পাকবাহিনী বিহারি হত্যাকাণ্ডের প্রতিশোধ হিসাবে বাঙালিদের ওপর ব্যাপক হত্যাযজ্ঞ চালানো হয়। এতে প্রাণ যায় অনেক হিন্দু-মুসলমানসহ নানা ধর্মের মানুষের। পরবর্তীকালে ২০১৫ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে নিহত সেসব শহীদদের জন্য সান্তাহারে একটি স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করা হয়।

বর্তমানে সেই স্বাধীনতা স্তম্ভের মূল বেদীতে জুতা পায়ে উঠেই ঘোরাঘুরি কিংবা ছবি তোলায় ব্যস্ত অনেকেই। আবার কেউবা ব্যস্ত খোশগল্পে। জুতা পায়ে উঠা নিষেধ থাকলেও নির্দেশনা মানছে না খোদ দর্শনার্থীরাও। এ ছাড়া স্তম্ভের দেওয়ালেই প্রস্রাব করছেন অনেকে। ফলে দুর্গন্ধে পরিবেশ যেমন নষ্ট হচ্ছে তেমনি স্বাধীনতা চত্বরের যেখানে সেখানে মোটরসাইকেল পার্কিং করে রাখা হচ্ছে। এতে স্বাধীনতা স্তম্ভের সৌন্দর্য নষ্টের পাশাপাশি মুক্তিযোদ্ধাদেরও অবজ্ঞা করা হচ্ছে।

এমন সব কর্মকাণ্ড রোধ ছাড়াও এসবের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করে কড়া শাস্তির দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল। এ ব্যাপারে স্বাধীনতা স্তম্ভের ডিজাইনার সাজেদুল ইসলাম চম্পা অধিকারকে বলেন, স্বাধীনতা আমাদের গৌরবের বিষয়, আমাদের অহংকার। স্বাধীনতা স্তম্ভ তারই প্রতীক। এই স্বাধীনতা চত্বরে জুতা পায়ে ওঠা নিয়ে এর আগেও আমি বহুবার মানুষদের সচেতন করার চেষ্টা করেছি।

ক্ষোভ ও দুঃখের সাথে তিনি আরও বলেন, ‘লজ্জায় আমার মাথা অবনত হয়ে আসে। আমি স্তম্ভিত, লজ্জিত হই। মনে মনে ভাবি কাদের জন্য মুক্তিযোদ্ধারা যুদ্ধ করল? আর কাদের জন্যই বা স্বাধীনতার এই স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করলাম।’ বিষয়টিতে বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল কাশেম অধিকারকে বলেন, ‘স্বাধীনতা স্তম্ভে জুতা পায়ে উঠা আমাদের কারোই কাম্য নয়। এ বিষয়ে মানুষজনদের আরও সচেতন করতে হবে। সর্বোপরি নিজেদের আরও সচেতন হতে হবে। এ ছাড়া এটি বন্ধের জন্য সকলকে একসাথে এগিয়ে আসতে হবে।’

এই রকম আরও খবর দেখুন

সর্বশেষ আপডেট

অ্যার্কাইভ ক্যালেন্ডার
সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
৩১