আ. লীগে নতুনদের দৌড় প্রার্থীর খোঁজে বিএনপি

উপচার ডেস্ক: জাতীয় সংসদের ১২ নম্বর আসনটি নীলফামারীর ডোমার ও ডিমলা উপজেলা নিয়ে গঠিত। এটি নীলফামারী-১ আসন। একাদশ সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগে প্রবীণদের পাশাপাশি মনোনয়ন দৌড়ে আছেন নতুনরাও। বিএনপি নতুন প্রার্থী খুঁজছে। দলটির নেতৃত্বাধীন জোটের শরিক দল ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টির (ন্যাপ) চেয়ারম্যান প্রার্থী হওয়ার কথা ভাবছেন। তবে মনোনয়নের বিষয়ে ভাবছে না জোটের প্রধান শরিক জামায়াত। জাতীয় পার্টির মনোনয়নপ্রত্যাশীর প্রতিদ্বন্দ্বী নেই। তবে নবম সংসদ নির্বাচনের মতো যদি ক্ষমতাসীন দলের সঙ্গে জোট হয়, সে ক্ষেত্রে প্রার্থী মনোনয়ন নিয়ে জাতীয় পার্টি ও আওয়ামী লীগকে আলোচনায় আসতে হবে। উল্লেখ্য, নবম সংসদ নির্বাচনে মহাজোটের পক্ষে এ আসনে জাতীয় পার্টি প্রার্থী দিয়েছিল। এ ছাড়া বাম মোর্চার শরিক বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ-খালেকুজ্জামান) স্থানীয় নেতারা দলীয় সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় আছেন। তবে অন্যান্য বাম দলের প্রার্থী দেওয়ার ভাবনা নেই বলে জানা গেছে। বিগত ১০টি নির্বাচন : ডোমার ও ডিমলা উপজেলায় রয়েছে ২০টি ইউনিয়ন, একটি পৌরসভা। ডিমলার ১০ ইউনিয়নে ভোটার এক লাখ ৭৫ হাজার ৮১৮। ডোমারের ১০ ইউনিয়ন ও এক পৌরসভায় আছে এক লাখ ৫৭ হাজার ৫১ ভোট। মোট তিন লাখ ৩২ হাজার ৮৬৯ ভোটারের মধ্যে পুরুষ এক লাখ ৬৬ হাজার ৬৫৩, নারী ভোটার এক লাখ ৬৬ হাজার ২১৬। এ আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য আওয়ামী লীগের আফতাব উদ্দিন সরকার। এ আসনে দলটির প্রার্থীরা নির্বাচিত হয়েছেন প্রথম, পঞ্চম, অষ্টম ও দশম সংসদ নির্বাচনে। বিএনপিদলীয় প্রার্থী নির্বাচিত হন দ্বিতীয় ও ষষ্ঠ (১৫ ফেব্রুয়ারি, ১৯৯৬) সংসদ নির্বাচনে। জাতীয় পাটির প্রার্থী নির্বাচিত হন তৃতীয়, চতুর্থ, সপ্তম ও নবম (মহাজোটর হয়ে) সংসদে। আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশী : দলীয় নেতাকর্মীদের সূত্রে জানা গেছে, আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশীদের মধ্যে বর্তমান সংসদ সদস্য ডিমলা উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি আফতাব উদ্দিন সরকার একজন প্রবীণ রাজনীতিবিদ। মনোনয়ন পাওয়ার ক্ষেত্রে এবারও শক্ত অবস্থানে রয়েছেন এই মুক্তিযোদ্ধা। একাধিকবার ডিমলা সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এবং ডিমলা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলেন তিনি। ২০১৪ সালে প্রথমবার তিনি জাতীয় সংসদের সদস্য নির্বাচিত হন। দীর্ঘদিন রাজনীতি করার অভিজ্ঞতা, দক্ষতা, দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে সুসম্পর্ক, এলাকার দৃশ্যমান উন্নয়ন ও সাধারণ মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্যতা বিবেচনায় তিনি এবার মনোনয়ন পাওয়ার ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী। এ বিষয়ে সংসদ সদস্য আফতাব উদ্দিন সরকার বলেন, ‘আমি গণমানুষের পাশে রয়েছি। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে মানুষের কল্যাণে কাজ করেছি। সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে সকল ক্ষেত্রে এলাকার উন্নয়ন এবং দীর্ঘদিনের জমিয়ে থাকা সমস্যার সমাধান করেছি। আগামী নির্বাচনে দলের মনোনয়ন আমিই পাব। ’ আবারও মনোনয়ন চান এ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য শিল্পপতি ড. হামিদা বানু শোভা। তিনি আওয়ামী লীগের টিকিটে অষ্টম সংসদের সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। নবম সংসদের সংরক্ষিত মহিলা আসনেরও সদস্য ছিলেন তিনি। মনোনয়ন প্রত্যাশার বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছেন ডোমার উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি খায়রুল আলম। এর আগে তিনি উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক ও আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করেন। খায়রুল আলম ডিমলা ইসলামিয়া ডিগ্রি কলেজে শিক্ষকতা করতেন। এক বছর আগে অবসর নিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘রাজনীতিতে নেতৃত্বের পরিবর্তন দরকার। আমি দীর্ঘদিন ধরে এলাকার সাধারণ মানুষের পাশে আছি, নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি। এলাকার আরো উন্নয়নের জন্য আমি মনোনয়ন চাচ্ছি। আশা রাখি দল সেটি বিবেচনা করবে। ’ সাবেক রাষ্ট্রদূত মুক্তিযোদ্ধা আমিনুল হোসেন সরকার এর আগে ২০০৮ ও ২০১৪ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশা করেছিলেন। আগামী নির্বাচনেও তিনি মনোনয়ন চাইতে পারেন বলে জানা গেছে। ২০০৫ সালে চাকরি থেকে অবসর নেওয়ার পর তিনি যোগ দেন আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে। বর্তমানে জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতির পদে থাকা আমিনুল হোসেন সরকার রাজনীতির পাশাপাশি সমাজসেবা ও এলাকায় শিক্ষাবিস্তারের কাজে জড়িত। এ ছাড়া তিনি ঢাকাস্থ ডোমার সমিতি, চিলাহাটি কল্যাণ সমিতি, নীলফামারী যুব সমিতি, নীলফামারী ছাত্রকল্যাণ সমিতির কর্মকাণ্ডে যুক্ত রয়েছেন। এ আসনে ক্ষমতাসীন দলের মনোনয়ন চান ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির উপসাহিত্য বিষয়ক সম্পাদক সরকার ফারহানা আক্তার সুমি। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ফার্মাসিতে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি নেওয়ার পর তিনি এখন আইন বিষয়ে পড়াশোনা করছেন। তিনি মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ডের কেন্দ্রীয় কমিটির কল্যাণ ও পুনর্বাসন বিষয়ক সম্পাদক, বাংলাদেশ যুব মহিলা লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সহশিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও গবেষণা সম্পাদক। সরকার ফারহানা আক্তার সুমি বলেন, ‘আমি মুক্তিযোদ্ধার সন্তান, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়ন এবং এলাকার মানুষের কল্যাণে কাজ করছি। এমন কাজে এলাকায় আমার ব্যাপক পরিচিতি ঘটেছে। নবীনদের কাজের সুযোগ সৃষ্টির জন্যই আমি মনোনয়ন প্রত্যাশা করছি। ’ আরেক মুক্তিযোদ্ধার সন্তান ও সাবেক এমএলএ প্রয়াত আব্দুর রহমান চৌধুরীর নাতি ব্যারিস্টার ইমরান কবির চৌধুরী জনি আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছেন। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় তিনি ছাত্রলীগ ও পরে জেলা যুবলীগের বিভিন্ন পদে ছিলেন। বর্তমানে তিনি নীলফামারী জেলা বঙ্গবন্ধু আইনজীবী পরিষদের সভাপতি। মনোনয়ন প্রশ্যাশায় এলাকায় গণসংযোগে করছেন আরেক আইনজীবী সুপ্রিম কোর্টের সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মনোয়ার হোসেন। সাবেক সেনা কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) মো. তছলিম উদ্দিনও আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চান। তিনি এলাকায় জনকল্যাণমূলক বিভিন্ন কাজ করছেন। আগামী নির্বাচনে নীলফামারী-১ আসনে দলীয় প্রার্থী মনোনয়নের বিষয়ে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মমতাজুল হক বলেন, ‘আওয়ামী লীগ বড় রাজনৈতিক দল। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় দলে একাধিক মনোনয়নপ্রত্যাশী থাকবেন—এটাই স্বাভাবিক। আর মনোনয়ন প্রত্যাশা করা দোষের কিছু নয়। দল সর্বাধিক গ্রহণযোগ্য ব্যক্তি বাছাই করে মনোনয়ন চূড়ান্ত করবে। ’ জাতীয় পার্টি : বর্তমানে বিরোধী দল জাতীয় পার্টির মনোনয়ন পাওয়ার ক্ষেত্রে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন সাবেক সংসদ সদস্য শিল্পপতি জাফর ইকবাল সিদ্দিকী। ২০০৮ সালে মহাজোট থেকে প্রার্থী হয়ে তিনি নীলফামারী-১ আসনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তবে ২০১৪ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর কাছে পরাজিত হন। জাফর ইকবাল সিদ্দিকী বলেন, ‘ক্ষমতায় থেকে এলাকার মানুষের কল্যাণে কাজ করেছি। ক্ষমতার বাইরে থেকেও গত প্রায় চার বছরে এলাকায় মানুষের পাশেই রয়েছি। জাতীয় পার্টির মনোনয়ন আমিই পাব। মহাজোটগত নির্বাচন হলে আসনটিতে জাতীয় পার্টির প্রার্থী হিসেবে আমার পক্ষেই মনোনয়ন চূড়ান্ত হবে। নির্বাচনে জয়ের ব্যাপারে আমি কাজ করে যাচ্ছি। ’ বিএনপি : নীলফামারী-১ আসনে বিএনপির প্রার্থী হওয়ার কথা দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ভাগ্নে শাহরিন ইসলাম তুহিন। কিন্তু বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে দায়ের হওয়া দুর্নীতির মামলায় সাজা হওয়ায় নির্বাচনে অংশগ্রহণের যোগ্যতা হারিয়ে তিনি দেশের বাইরে অবস্থান করছেন। তাঁর অনুপস্থিতিতে অনেকটাই প্রার্থী সংকটে বিএনপি। এমন সংকটে ওই আসনে ২০০৮ সালে প্রার্থী হয়েছিলেন তুহিনের বাবা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সাবেক ডিন অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম চৌধুরী। এবারও তিনি অথবা তুহিনের মা সেলিনা ইসলাম বিউটি (খালেদা জিয়ার বড় বোন) প্রার্থী হতে পারেন বলে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. সামসুজ্জামান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আসটিতে একক নির্বাচনে বরাবরই বিএনপির প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। জোটগত নির্বাচনেও বিএনপির প্রার্থীই ছিলেন। এবারও বিএনপির প্রার্থীই থাকবেন। ’ সামসুজ্জামান আরো বলেন, ‘দলের নেত্রী খালেদা জিয়ার ভাগ্নে শাহরিন ইসলাম তুহিন একাধিকবার নির্বাচন করেছেন এ আসনে। তাঁর অনুপস্থিতিতে তাঁর (তুহিন) বাবা অথবা মা নির্বাচন করবেন। ’ তবে তুহিনের মা-বাবা নিজেরা এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি। এদিকে বিএনপি জোটের শরিক ন্যাপের চেয়ারম্যান জেবেল রহমান গানি মনোনয়ন চান আসনটিতে। তিনি বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মন্ত্রিসভার সদস্য প্রয়াত মশিউর রহমান যাদু মিয়ার নাতি ও সাবেক মন্ত্রী প্রয়াত শফিকুল গণি স্বপনের ছেলে। জোটের মনোনয়নে তিনি নির্বাচন করার ব্যাপারে আশাবাদী। বাম দল : মাঠপর্যায়ে বাম দলগুলোর কর্মকাণ্ড তেমন একটা না থাকলেও ২০০৮ সালের নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন বাম মোর্চার শরিক বাসদ (খালেকুজ্জামান) নেতা মো. আসাদুজ্জামান পাটোয়ারী লাকু। তিনি বলেন, ‘নির্বাচনে অংশগ্রহণের বিষয়ে দলীয় সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় আছি আমি। ’ বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) নীলফামারী জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক শ্রীদাম দাস বলেন, ‘আসনটিতে বাম দলের উল্লেখযোগ্য প্রার্থী নেই। ’

এই রকম আরও খবর দেখুন

সর্বশেষ আপডেট

অ্যার্কাইভ ক্যালেন্ডার
সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
৩১