ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালে সিজারিয়ানের সময় ব্লেডের আঘাতে নবজাতক নিহত

হাসপাতাল প্রতিনিধি : সিজারিয়ান অপারেশনের সময় চিকিৎসকের ব্লেডের আঘাতে মাথা কেটে গিয়ে নবজাতক নিহত হয়েছে। শুক্রবার দুপুরের রাজশাহী নগরের লক্ষ্মীপুর ইসলামী ব্যাংক মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার পর প্রসূতির স্বাজনদের মধ্যে উত্তজনা সৃষ্টি হলে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে।

নগরীর তালাইমারী এলাকার খালেদ হাসান জানান, তার স্ত্রী তামান্নাকে শুক্রবার সকালে ইসলামী ব্যাংক মেডিকেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এরপরে তামান্নাকে পরীক্ষা-নিরিক্ষা করার পরে চিকিৎসক শায়লা আক্তার বাবলী দ্রুত সিজারের পরামর্শ দেন। চিকিৎসক শায়লা আক্তার বাবলী তাদের জানায় যে, প্রসূতির পেটে পানির উপস্থিতি কম। তাই দ্রুত সিজারিয়ান অপারেশন করতে হবে। তা না হয়ে নবজাতককে বাঁচানো মুশকিল হয়ে যাবে।

খালেদ হাসান আরো জানান, চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ি দ্রুত অপারেশনের প্রস্তুতি নেয়া হয়। চিকিৎসক শায়লা আক্তার বাবলী অপারেশনের এক ফাঁকে এসে তাদের জানান যে, নবজাতকের অবস্থা ভালো না। দ্রুত রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা প্রয়োজন। চিকিৎসকের কথা অনুযায়ি দ্রুত রামেক হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা জানান যে, নবজাতক অনেক আগেই মারা গেছেন।

খালেদ হাসান বলেন, ‘সদ্য ভূমিষ্ট আমার মেয়ে সন্তানটির মাথায় ধারালো কিছু দিয়ে কাটা চিহ্ন আছে। সেই কাটা অংশ দিয়ে রক্ত বের হচ্ছিলো। আমি ও আমার আত্মীয়-স্বজনরা ধারনা করছি যে, সিজারিয়ান করার সময় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

এ বিষয়ে চিকিৎসক শায়লা আক্তার বাবলী জানান, প্রসূতির পেটে পানি ছিলো না। নবজাতকের অবস্থা আগে থেকেই আশঙ্কাজনক ছিলো। সিজারিয়ান করার পরে তিনি নবজাতকের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় রামেক হাসপাতালে ভর্তির পরামর্শ দেয়। তিনি সুন্দরভাবে সিজার করছেন ও সিজারিয়ান অপারেশনের সময় নবজাতক কোন ধরনের আঘাত পাননি বলেও তিনি দাবি করেন।

ইসলামী হাসপাতালের সুরারিনটেনডেন্ট ডা. মাসুদ আলী জানান, প্রসূতির সিজারিয়ান অপারেশনের চিকিৎসকের কোন ক্রটি ছিলো না। প্রসূতির স্বজনরা বিষয়টি না বুঝেই উত্তেজিত হয়ে পড়েছে। তারপরে হাসপাতালের সুনামের দিক ভেবে ওই প্রসূতির চিকিৎসার ব্যায়ভাব হাসপাতাল বহন করবে বলেও তিনি জানান।

মৃত নবজাতকের পিতা খালেদ হাসান জানান, এ বিষয়ে তারা চিকিৎসক ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন তারা।

এদিকে এ ঘটনার পরে প্রসূতির স্বজনরা ইসলামী হাসপাতালে উপস্থিত উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশের সহযোগিতা চায় ইসলামী ব্যাংক হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

রাজপাড়া থানার ওসি হাফিজুর রহমান জানান, সংবাদ পেয়ে ইসলামী হাসপাতালে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। পরিস্থিতি শান্ত আছে। ওই ঘটনায় থানায় কোন অভিযোগ হয়নি। অভিযোগ হলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এই রকম আরও খবর দেখুন

সর্বশেষ আপডেট

অ্যার্কাইভ ক্যালেন্ডার
সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০