এমপি এনামুলের ছত্রছায়ায় সর্বহারা ও জেএমবি ক্যাডাররা ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে

সংবাদ সম্মেলনে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা:


নিজস্ব প্রতিনিধি: জঙ্গিদের ‘আঁতুর ঘর’ হিসেবে পরিচিত রাজশাহীর বাগমারা উপজেলা। বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের কয়েকজন মন্ত্রী-এমপির মদদে এখান থেকেই জন্ম হয়েছিল জামায়াতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশের (জেএমবি)। এবার এই আসনের এমপি ইঞ্জিনিয়ার এনামুল হকের বিরুদ্ধে জঙ্গিদের মদদ দেয়ার অভিযোগ উঠল। খোদ স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরাই সংবাদ সম্মেলন করে তার বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ তুললেন।

উপজেলা আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের ব্যানারে মঙ্গলবার দুপুরে রাজশাহী মহানগরীর একটি রেস্তোরাঁয় এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সেখানে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি আবদুস সোবহান চৌধুরী। তিনি উপজেলা আওয়ামী লীগের বর্তমান সভাপতি এমপি এনামুল হকের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ তুলে ধরেন।

আবদুস সোবহান চৌধুরী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে একটি উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত করার জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। সে মুহুর্তে জঙ্গিবাদ মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে চাইছে। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, এতোদিন ঘাপটি মেরে থাকা জেএমবি, সর্বহারা সদস্যরা এখন বাগমারা আসনের এমপি এনামুল হকের মদদে আবার মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে। এতে বাগমারার মানুষ আবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে।

তিনি বলেন, সর্বহারা ও জেএমবি ক্যাডাররা এখন এমপি এনামুলের ছত্রছায়ায় এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে। গত রোববার তারা বাগমারা থানার একজন উপ-পরিদর্শককে পিটিয়েছে। তারা জেলা ও উপজেলা আনসার কর্মকর্তাদের লাঞ্ছিত করেছে। সেখান থেকে পুলিশ যে ৬ জনকে গ্রেফতার করেছে, তাদের একজনের কাছে গুলিভর্তি পিস্তল পাওয়া গেছে। অথচ হাবিবুর রহমান বাসার নামে এই ব্যক্তি পুলিশের তালিকাভুক্ত চরমপন্থি সদস্য।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, বাসারের মতো সাবেক যুবদল ও শিবিরের নেতাদের হাতে এমপি এনামুল অস্ত্র তুলে দিয়ে ব্যক্তিগত বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনী গঠন করেছেন। তিনি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে মুক্তিযোদ্ধার সন্তানকে বাদ দিয়ে জেএমবি ক্যাডারদের প্রার্থী করেছেন। এর মাধ্যমে দলের ভেতরে সৃষ্টি করেছেন কোন্দল। এমপি এনামুল আধাসরকারি (ডিও) চিঠি দিয়ে কয়েকজন জেএমবি সদস্যকে জামিনে মুক্ত করেছেন। তিনি জেএমবিদের দলে আশ্রয় দিয়েছেন বলেও সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়।

সোবহান চৌধুরী বলেন, শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করতে এমপি এনামুল হককে স্থানীয় নেতাকর্মীরা নির্বাচিত করেন। কিন্তু তারপরই এমপির মুখোশ উন্মোচিত হয়। প্রভাব বিস্তার করে তিনি দখল করেন উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতির পদ। মিথ্যা মামলা দিয়ে এবং গ্রেপ্তার করিয়ে নির্যাতন চালাতে শুরু করেন দলের নেতাকর্মীদের। সংবাদ সম্মেলনে অনেক নেতাকর্মীর নাম তুলে ধরা হয়। বলা হয়, তারা এমপির কারণে নানাভাবে হামলা-মামলা-নির্যাতনের শিকার হয়েছেন।

সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, এমপি এনামুল হক দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েছেন। উৎকোচ গ্রহণ, নারী কেলেঙ্কারীরও অভিযোগ আছে তার বিরুদ্ধে। তিনি একজন ‘হাইব্রীড’ আওয়ামী লীগ নেতাও বটে। তিনি আত্মসাত করেছেন বাংলা ভাইয়ের দ্বারা নির্যাতিতদের জন্য প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে বরাদ্দ করা টাকা। সাবেক শিবিরকর্মী জিল্লুর রহমানকে তিনি তার ব্যক্তিগত প্রেস সচিব নিয়োগ করে স্কুলের প্রহরী নিয়োগের নামে কোটি কোটি টাকা তুলে আত্মসাত করেছেন। জিল্লুর রহমান সরকারি জায়গা দখল করে বহুতল ভবন নির্মাণ করছেন। কিন্তু এমপি এনামুলের মদদ থাকায় অসহায় প্রশাসন।

লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয়, গোয়েন্দা সংস্থার মাধ্যমে খোঁজ নিলে এমপি এনামুলের জঙ্গি সম্পৃক্ততার সত্যতা মিলবে। তার কাছে আওয়ামী লীগ নিরাপদ নয়। তিনি জামায়াত-শিবির-জঙ্গিদের পালনকারি হিসেবে ভূমিকা রাখছেন। আর ত্যাগি নেতাকর্মীদের ধ্বংস করছেন। আগামিতে এ আসনে তাকে মনোনয়ন দিলে দলের বিজয় সম্ভব নয়। বিগত নির্বাচনে তাকে বিজয়ী করায় নেতাকর্মীরা এখন অনুতপ্ত। তারা বাগমারাবাসীর কাছে ক্ষমা চাইবেন।

এমপি এনামুল হকের কথায় নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের এবং নির্যাতিতদের অভিযোগ আমলে না নেয়ার জন্য সংবাদ সম্মেলন থেকে বাগামারা থানার ওসি নাসিম আহমেদের প্রত্যাহার দাবি করা হয়। পাশাপাশি আগামি সংসদ নির্বাচনে এমপি এনামুল হককে মনোনয়ন না দেয়ার জন্য দাবি জানানো হয়। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে জানানো হয়, নৌকা প্রতীক যিনি পাবেন, তার পক্ষেই কাজ করবেন দলের সব নেতাকর্মী।

সংবাদ সম্মেলনে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান জাকিরুল ইসলাম সান্টু, বাগমারার তাহেরপুর পৌরসভার মেয়র ও পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ, উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মকবুল হোসেন মৃধা, সাংগঠনিক সম্পাদক জিয়াউদ্দিন টিপু, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক শাহার আলী, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক মামুনুর রশীদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনের এসব অভিযোগের ব্যাপারে কথা বলতে দুপুরে রাজশাহী-৪ আসনের এমপি এনামুল হককে ফোন করা হয়। এ সময় এমপি এনামুল হক লিফটে আছেন জানিয়ে তিনি একটু পর ফোন করতে বলেন। তবে এরপর কয়েকবার ফোন করা হলেও তিনি তাতে সাড়া দেননি। তাই এসব অভিযোগের ব্যাপারে তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এই রকম আরও খবর দেখুন

সর্বশেষ আপডেট

অ্যার্কাইভ ক্যালেন্ডার
সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০