কর্মকর্তা হেনস্তা ও অবরুদ্ধের ঘটনায় আসছে তদন্ত কমিটি

কর্মকর্তা হেনস্তা ও অবরুদ্ধের ঘটনায় আসছে তদন্ত কমিটিস্বেচ্ছাচারিতা আর চেইন অব কমান্ড অমান্যতায় সচিবের প্রতি অসন্তোষ প্রকাশ……

স্টাফ রিপোর্টার : গেল মাসের ১২ তারিখে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড রাজশাহীর সচিবের কক্ষে অপ্রীতিকর ঘটনার প্রেক্ষিতে চেয়ারম্যান কর্তৃৃক তিন সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠিত হবার পরেও মন্ত্রণালয় কর্তৃক আবারো নতুন করে তদন্ত কমিটি গঠণের কারণে অসন্তোষ বিরাজ করছে সেখানে কর্মরতদের মধ্যে।
একই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দু-দুটো তদন্ত কমিটির বিষয়টি নিয়ে শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মোহা. মোকবুল হোসেনের সাথে কথা বললে তিনি গণমাধ্যমে বলেন, গেল মাসের ১২ তারিখে আমার অনুপস্থিতিতে বোর্ড সচিব মোয়াজ্জেম হোসেনে কক্ষে যে অনাকাঙ্খিত ঘটনা ঘটেছিল সেটি নিয়ে আমি এখনো বিব্রতকর পরিস্থিতির মধ্যে আছি। উক্ত ঘটনার প্রেক্ষিতে উভয় পক্ষ থেকেই গত ১৩ সেপ্টেম্বর আমার কাছে তাঁরা লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। লিখিত অভিযোগ পাবার পর বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে আমি শিক্ষা বোর্ডের বাইরের তিনজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার সমন্বয়ে তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠণ করেছিলাম। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. এম আনিসুর রহমানকে আহবায়ক করে, সদস্য সচিব হিসেবে রাখা হয়েছিল রাজশাহী বারের এ্যাডভোকেট ইয়াহিয়া ও বগুড়া সরকারী শাহ সুলতান কলেজের অধ্যক্ষ ও শিক্ষা বোর্ডের সদস্য শহিদুল ইসলামকে। ঘটনার ভিডিও ফুটেজ পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বিশ্লেষণ করাসহ সরেজমিনে শিক্ষা বোর্ডে এসে তদন্ত সাপেক্ষে প্রতিবেদন দেবার কথা থাকলেও মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে আরে একটি তদন্ত কমিটি গঠণ করা হয়েছে। উক্ত তদন্ত কমিটি আজ সোমবার রাজশাহী এসে পৌছাবে বলে জানান বোর্ড চেয়ারম্যান। সেই তদন্ত কমিটিতে আছেন, ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান ও আন্তঃশিক্ষা বোর্ড কমিটির সমন্বয়ক অধ্যাপক নেহাল আহমেদকে প্রধান করে গঠিত তদন্ত কমিটির অপর দুই সদস্য হলেন মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের ঢাকা অঞ্চলের পরিচালক অধ্যাপক মনোয়ার হোসেন ও মাউশির হিসাব ও নীরিক্ষা বিভাগের উপ-পরিচালক আবুল কালাম আজাদ।
এদিকে, রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের অফিসার্স কল্যাণ সমিতির সকল কর্মকর্তা ও শিক্ষা বোর্ড কর্মচারি ইউনিয়নের সদস্যরা অভিযোগ করে বলেন, বোর্ডে অর্ডিন্যান্স-৬১ অনুযায়ী চেয়ারম্যান সকল ক্ষমতার অধিকারি। তিনি শিক্ষা বোর্ড সংক্রান্ত সকল সমস্যার সমাধান ও তদন্ত সাপেক্ষে যে কোন বিষয়ের জন্য চুড়ান্ত ক্ষমতার অধিকারী। বোর্ড চেয়ারম্যান এক আলাপ চারিতায় জানান, শিক্ষা বোর্ডে বহিরাগত উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার সমন্বয়ে এগাড়ো সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি আছে। সেখানে বিষয়টি আমি উপস্থাপন করে তদন্ত সাপেক্ষে ন্যায় বিচারের নিশ্চয়তা দিতে পারতাম। কিন্তু সচিবের কারণে সেটি সম্ভব হয়নি। এককথায় বলতে গেলে শিক্ষা বোর্ডে প্রেষণে নিয়োগ পাওয়া বেশ কিছু কর্মকর্তা বোর্ডের রুলস্ এন্ড রেগুলেশন মান্য করেন না প্রায়শই। এছাড়াও তাঁদের স্বেচ্ছাচারিতার জন্য বোর্ডের ‘চেইন অব কমান্ডও’ মাঝে মধ্যে ভেঙ্গে যাচ্ছে। সরকার আমাদেরকে এখানে প্রেষণের মাধ্যমে নিয়োগ দিয়েছেন সেবামূলক কাজের জন্য। নিজেদের মধ্যে আন্তঃদ্বন্দ্ব কিংবা রেষারেশি সৃষ্টি করার জন্য নয়। বিষয়গুলো নিয়ে আমি খুব বিব্রত।
গেল মাসের ১২ তারিখে বোর্ড সচিবের কক্ষে ঘটে যাওয়া ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায় বিচার সাপেক্ষে তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি গঠণ করলেও অভিযুক্ত সচিব নিজের দোষ ও অপরাধ ঢাকার জন্য ঢাকাতে গিয়ে লবিং গ্রুপিং করে মন্ত্রণালয় কর্তৃক একটি তদন্ত কমিটি গঠণের জন্য সুপারিশ করেন। এছাড়াও শিক্ষা বোর্ডে ঘটে যাওয়া বিষয়টি নিয়ে তিঁনি শিক্ষা ক্যাডার সমিতিকেও প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ব্যবহার করছেন নিজের স্বার্থ হাসিলের জন্য বলেও অভিযোগ বোর্ডে কর্মরত কর্মকর্তা ও ইউনিয়ন নেতাদের।
এদিকে, শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান গণমাধ্যমকে জানান, উভয় পক্ষের লিখিত অভিযোগ পাবার পর আমি বোর্ড সচিবকে সেদিনের ভিডিও ফুটেজের ক্লিপটি চেয়েছিলাম। কিন্তু, ঘটনার সাত থেকে আট দিন পরেও তিনি ভিডিও ফুটেজটি আমাকে না দেবার কারণে সুষ্ঠু ও ন্যায়পরতার কারণে অবশেষে আমি নিজেই আইটি শাখার সিনিয়র সিস্টেম এ্যানালিষ্ট এর কাছে সেদিনের ভিডিও ফুটেজের পুরো ক্লিপটা চেয়ে পাঠায়। কিন্তু তিনিও বিষয়টি নিয়ে প্রথমে গড়িমসি করেন। অবশেষে আমি তাঁকে চাঁপ প্রয়োগ করলে সিনিয়র সিস্টেম এ্যানালিষ্ট আমাকে জানায়, সচিব সাহেব নাকি উনাকে নিষেধ করেছেন ভিডিও ফুটেজটি দেবার না দেবার জন্য। আমি উনার কথা শুনে হতভম্ব হয়ে পরি। অথচ কে বা কাহারা সরকারি দপ্তরের গোপনীয় ও স্পর্শকাতর সেই ভিডিও ফুটেজটি গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে পৌছে দেয়া ছাড়াও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল করে দেয়। বিষয়টি সত্যি খুব লজ্জাজনক ও দাপ্তরিক অপরাধও বটে বলে মন্তব্য চেয়ারম্যানের। তিনি আরো বলেন, সরকারি অফিসের গোপনীয় নথি কিংবা কোন কাগজপত্র টেম্পারিং করাটাও চরম অন্যায়। আর এই কারণেই সেদিনের সেই শারিরীক হেনস্তা, উভয় পক্ষের মধ্যে অসদাচরণ আর কক্ষে অপরুদ্ধের মতো ঘটনার উদ্ভব হয়েছিল। আমার অনুমতি সাপেক্ষে কিংবা আমায় অবগত করে সংস্থাপন শাখা থেকে প্রয়োজনীয় সেই ডকুমেন্টগুলো যদি উনারা নিতেন তবে এমন অনাকাঙ্খিত ঘটনার সৃষ্টি হতো না। চেয়ারম্যান আরো বলেন, মন্ত্রণালয় থেকে উচ্চপদস্থ যে তদন্ত কমিটি আসছে আশা করি তাঁরা সার্বিক দিক বিবেচনায় সঠিক সিদ্ধান্তই নেবেন।
উল্লেখ্য যে, গেল সেপ্টেম্বর মাসের ১২ তারিখে রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডে নয়জন কর্মকর্তার বেতন স্কেল নির্ধারণ বিবরণী ও গোপনীয় কাগজপত্র বোর্ড চেয়ারম্যানের অনুমতি ব্যতিরেকে অনৈতিক পন্থায় ফটোকপি করার প্রতিবাদ করায় দুই কর্মকর্তাকে শারীরিকভাবে হেনস্তা ও লাঞ্ছিত করার পাশাপাশি বেআইনি ভাবে তাঁদেরকে প্রায় এক ঘন্টা সচিবের কক্ষে অবরুদ্ধ করে রাখার অভিযোগ উঠেছিল বোর্ডের সচিব ড. মোয়াজ্জেম হোসেনের বিরুদ্ধে। রুদ্ধদ্বার ঐ ভিডিও ফুটেজে দেখাগেছে, বোর্ড সচিবের সাথে উপরোক্ত বিষয় নিয়ে উপ-সচিব (প্রশাসন) ওয়ালিদ হোসেন ও হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা মানিকচন্দ্র সেন বাকবিতন্ডায় জড়িয়ে পড়ার কিছুক্ষণ পড়েই সচিব দৌড়ে গিয়ে বাইরে দায়িত্ব থাকা একজন আনসার সদস্যকে ভেতরে আসতে বলে নিজের কক্ষের দরজা ভেতর থেকে লক করে দেন। ঐ দুই কর্মকর্তা বাইরে বের হতে চাইলে আনসার ও সচিব মিলে তাদেরকে শারীরিকভাবে জোড়-জবরদস্তি করার পাশাপাশি হেনস্তা করেন নানাভাবে। উপরন্তু সচিবের রুমে জোড়পূর্বক প্রায় একঘন্টা আটকে রাখেন ভুক্তভোগী ঐ দুই কর্মকর্তাকে। বিষয়টি নিয়ে ঐদিন সন্ধ্যায় ভুক্তভোগী দুই কর্মকর্তাসহ বোর্ড সচিবও চেয়ারম্যান বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

 

এই রকম আরও খবর দেখুন

সর্বশেষ আপডেট

অ্যার্কাইভ ক্যালেন্ডার
সোমমঙ্গলবুধবৃহশুক্রশনিরবি
 
১০
১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
১৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৮২৯৩০৩১