কারিগরি বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহনের দাবিতে মানববন্ধন

নিজস্ব প্রতিনিধি: কারিগরি শিক্ষাবোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রণ দপ্তরের ভুলে ভুগছে তিন পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের ৩৫০ শিক্ষার্থী। সিলেবাসের বাইরে প্রশ্ন করার কারণে রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও মাগুরা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের একটি বর্ষের সব শিক্ষার্থী ফেল করার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষাবোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক সুশিল কুমার পালের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবিতে মানববন্ধন করেছেন রাজশাহী পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থীরা। সোমবার বেলা ১২টায় ইনস্টিটিউটের সামনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধন থেকে ফলাফল সংশোধনেরও দাবি জানানো হয়। ইনস্টিটিউটের মেকাট্রনিক্স বিভাগের পঞ্চম পর্বের শিক্ষার্থীরা জানান, গত ৪ জুন তাদের চতুর্থ পর্বের প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ কোর্সের পরীক্ষা ছিল। তারা বোর্ডের সিলেবাস অনুযায়ী ৬৬২২ কোডের বই পড়ে পরীক্ষা দিতে যান। কিন্তু পরীক্ষার হলে প্রশ্নপত্র পাওয়ার পর তারা দেখতে পান ৬৬৪৩ কোডের বই থেকে প্রশ্ন করা হয়েছে। তাৎক্ষণিক শিক্ষার্থীরা ইনস্টিটিউটের শিক্ষকদের জানান এবং পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানান। এরপর ইনস্টিটিউটের পক্ষ থেকে বোর্ডে যোগাযোগ করা হয়। বোর্ড কর্তৃপক্ষ জানায়, শিক্ষার্থীরা যে যা পারে তাই লিখতে বলেন। খাতা দেখার সময় বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে দেখা হবে। এমন আশ্বাসে শিক্ষার্থীরা পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন। গত ১ অক্টোবর তাদের পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়। এতে দেখা যায় রাজশাহী পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ কোর্সের ১২০ জন শিক্ষার্থীর সবাই ফেল করেছেন। রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও মাগুরা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে মেকাট্রনিক্স বিভাগ আছে। এই তিন ইনস্টিটিউটের ৩৫০ জনই ফেল করেছে। শিক্ষার্থীরা বলেন, বিষয়টি তাৎক্ষণিক আমরা অধ্যক্ষকে জানাই। কিন্তু সময় পার হয়ে গেলেও এ বিষয়ে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তাই বাধ্য হয়ে তারা মানববন্ধনে নেমেছেন। তারা বলেন, আমরা কোনো ভুল না করলেও শিক্ষাবোর্ডের ভুলের খেসারত কেন আমাদের দিতে হবে? এই ফলাফল যদি সংশোধন না করা হয় তবে ২১ জন শিক্ষার্থী ড্রপআউট হয়ে শিক্ষাজীবন শেষ হয়ে যাবে। আমরা দ্রুত এ বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাই। রাজশাহী পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের অধ্যক্ষ ফরিদ উদ্দিন আহম্মেদ বলেন, শিক্ষার্থীদের দাবি কে। সিলেবাসের বাইরে প্রশ্ন করা হয়েছিল। পরীক্ষার সময় তাদের আশ্বস্ত করা হলেও ফলাফলে দেখা যায় তিন পলিটেকনিকেটর সব শিক্ষার্থীই ফেল করেছে। শিক্ষার্থীদের পক্ষে আমরা বোর্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। আশা করছি শিক্ষার্থীদের পক্ষেই বোর্ড দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। এদিকে বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষাবোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক সুশিল কুমার পালকে একই সঙ্গে দুইটি গুরুত্বপূর্ণ পদে রাখা হয়েছে। এতে দাপ্তরিক কাজে চরম স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। এবিষয়ে কয়েকদিন আগেই ভুত্তভোগি দেশের ২০০ কলেজ প্রধান স্বাক্ষরিত একটি অভিযোগ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড চেয়ারম্যান বরাবরে দাখিল করেছেন অল্প দিন আগেই। শিক্ষকরা তাদের অভিযোগে জানান, গত ৩১ জানুয়ারি বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড’র উপ-সচিব (প্রশাসন) মো. নূর-এ-ইলাহী স্বাক্ষরিত (স্মারক নং বাকশিবো/প্র:/পি-৩৩৫/৪৩) অফিস আদেশে পরিক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রকৌশলী সুশীল কুমার পালকে অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসাবে বোর্ডের সিস্টেম এনালিষ্ট করা হয়। বোর্ডের এমন দুই গুরুত্বপূর্ন পদে একই ব্যক্তি আসীন হওয়ায় বাড়তে থাকে ভোগান্তি। সমস্যা নিরশনে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে কলেজ প্রধান ও শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা কাজে এসে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের স্বাক্ষাৎ না পেয়ে দিনের পর দিন হয়রানি হতে থাকে। কখনো কখনো পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের নাগাল পেলেও অপ্রত্যাশিত আচরণ করেন বলেও ওই অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

এই রকম আরও খবর দেখুন

সর্বশেষ আপডেট

অ্যার্কাইভ ক্যালেন্ডার
সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
৩১