গোদাগাড়ীতে প্রতিপক্ষের হামলায় আইনজীবীসহ চার জন আহত

গোদাগাড়ী প্রতিনিধি: রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলায় প্রতিপক্ষের হামলায় জেলা জজ আদালতের আইনজীবী মিনারুল ইসলামসহ (৩৪) চারজন আহত হয়েছেন। আজ শুক্রবার সকালে উপজেলার কুমরপুর রাণীনগর গ্রামে আইনজীবী মিনারুল ইসলামের বাড়িতেই এ ঘটনা ঘটে। আহত অন্যরা হলেন- মিনারুল ইসলামের মা মার্জিনা বেগম (৪৮), তার স্ত্রী সাফিয়া সুলতানা (২৫) এবং ভাগ্নে আহনাফ তাহমিদ ওরফে সাকিব (১৭)। আহত সবাইকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এদের মধ্যে সাফিয়া সুলতানাকে হাসপাতালের নিউরো সার্জারি বিভাগের ৩০ নম্বর ওয়ার্ডে, মার্জিনা বেগমকে ৪০ নম্বরে এবং আইনজীবী মিনারুল ইসলাম ও তার ভাগ্নে সাকিবকে ৮ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়েছে। হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, মিনারুলের মাথা ও পা এবং সাকিবের মাথায় গুরুতর জখম হয়েছে। ভেঙে গেছে সাফিয়া সুলতানার একটি পা। এছাড়া মারপিটে মার্জিনা বেগমের শরীরের বিভিন্ন স্থানে ফোলা জখমের সৃষ্টি হয়েছে। পুরোপুরি সুস্থ্য হতে তাদের বেশ কিছুদিন সময় লাগবে। আহতদের স্বজনরা জানান, আইনজীবী মিনারুলের বাড়ির পেছনে প্রতিবেশি খোরশেদ আলম ওরফে রেন্টুর বাড়ি। রেন্টুর বাড়িতে যাতায়াতের জন্য একটি রাস্তা থাকলেও তিনি অনেকদিন ধরেই মিনারুলদের জমির ওপর দিয়ে একটি রাস্তা করতে চান। কিন্তু এতে রাজি হননি এই আইনজীবীর পরিবার। কিন্তু জমি দখল করে রাস্তা করতে ২০১৫ সালে রেন্টু তার সহযোগিদের নিয়ে মিনারুলদের ওপর হামলা চালান। এ ঘটনায় মিনারুল ইসলাম থানায় মামলা করেন। এ মামলাটি তুলে নেয়ার জন্য রেন্টু বিভিন্ন সময় হুমকি দিয়ে আসছিলেন। মাস তিনেক আগে রেন্টু মোবাইল ফোনে এসএমএস দিয়ে প্রাণনাশের হুমকি দিলে থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয় । এতে আরও ক্ষিপ্ত হন রেন্টু। পরবর্তীতে শুক্রবার রেন্টু তার বাড়িতে চলাচলের রাস্তা তৈরির জন্য আসাদুজ্জামানের জমিতে কীটনাশক প্রয়োগ করে সেখানকার ঘাস ও গাছপালা মেরে ফেলার চেষ্টা করেন। এতে বাধা দেয় সাকিব। এ সময় রেন্টু তাকে মারপিট শুরু করেন। বিষয়টি দেখে মিনারুল ইসলাম তাকে রক্ষায় এগিয়ে যান। এ সময় রেন্টু, তার স্ত্রী মিলি বেগম, দুলাভাই মোজাহার হোসেন, ভাগ্নে মুক্তার হোসেন, ছেলে উজ্জল হোসেন ও আকাশ হোসেন এবং উজ্জলের স্ত্রী অতসি খাতুন একযোগে বেরিয়ে এসে হাঁসুয়া, নিড়ানি ও লাঠিসোটা নিয়ে মিনারুল ও সাকিবের ওপর হামলা চালান। এতে তারা আহত হন। তাদের উদ্ধার করতে মার্জিনা বেগম ও সাফিয়া সুলতানা এগিয়ে গেলে তাদেরকেও মারপিট করা হয়। পরে স্থানীয় লোকজন একত্রিত হয়ে তাদের উদ্ধার করে রামেক হাসপাতালে নিয়ে যান। এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছেন আহতদের স্বজনরা। গোদাগাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হিপজুর আলম মুন্সি বলেন, ঘটনাটি তিনি শুনেছেন। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শনও করেছে। তবে অভিযুক্ত রেন্টুর বাড়িতে কাউকে পাওয়া যায়নি। হামলার পর থেকে তারা আত্মগোপন করেছেন। থানায় মামলা হলে এ ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান ওসি।

এই রকম আরও খবর দেখুন

সর্বশেষ আপডেট

অ্যার্কাইভ ক্যালেন্ডার
সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০৩১