চলছে অবাধে ইলিশ নিধন, সহায়তা পাচ্ছে না জেলেরা

নিজস্ব প্রতিনিধি: রাজশাহীর বিভিন্ন উপজেলায় অবাধে চলছে ইলিশ নিধন। সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে প্রতিদিন ধরা হচ্ছে শত শত ইলিশ মাছ। এইসব মাছ বিক্রি হচ্ছে স্থানীয় হাট-বাজারে প্রকাশ্যে অথবা গোপনে। সরকার ১ অক্টোবর থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত ইলিশ মাছ শিকার নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে। এ নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে জেলার বিভিন্ন এলাকায় ইঞ্জিন চালিত শ্যালো নৌকা নিয়ে মৌসুমী ও স্থায়ী জেলে দিনরাত এই ইলিশ নিধনে মেতে রয়েছে। ইলিশ শিকার বন্ধে প্রশাসনের অভিযান চললেও তা অনেকটা দুর্বল ও দায়সারা গোছের বলে অভিযোগ উঠেছে। জেলা মৎস্য অফিস সূত্রে জানা গেছে, ইতিমধ্যেই গত ১ অক্টোবর থেকে ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত জেলায় ২০৪টি অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। এরমধ্যে ১৮টি ভ্রাম্যমাণ আদালতে ৪৮ হাজার টাকা ২০০ জরিমানা ও ১৪টি মামলা করা হয়েছে। পোড়ানো হয়েছে ২ লাখ ৩৫৩ হাজার ৬৬০ মিটার জাল। যার মূল্য আনুমানিক ৫২ লাখ ৬৮ হাজার টাকা। সেইসাথে ১১জন জেলের ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে। তবে অভিযোগ রয়েছে যে পরিমাণ জাল ও জেলে আটক হয়েছে প্রতিদিন তার চেয়ে অনেক বেশী জেলে নদীতে ইলিশ শিকার করছে। এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক জেলে অভিযোগ করেছেন, সরকার ১লা অক্টোবর থেকে ইলিশ শিকার বন্ধ ঘোষণা করেছে কিন্তু আয়-রোজগারের বিকল্প কোন ব্যবস্থা ও সহায়তা প্রদান করেনি। তারা জীবিকার তাগিদেই বিপদ ও আর্থিক ক্ষতির ঝুঁকি নিয়েই পদ্মায় ইলিশ শিকারে বাধ্য হচ্ছে। তারা প্রশাসনের হাতে ধরা পরছে এবং জেল জরিমানা হচ্ছে তারপরও তারা বাধ্য হচ্ছে ইলিশ শিকারে । তারা বলেন, আমরাও চাই না এই সময় ইলিশ ধরে দেশের ক্ষতি করি কিন্তু পেটের দায়ে বাধ্য হয়ে এই কাজ করতে হচ্ছে। সরকারিভাবে খাদ্য সহায়তা দেয়ার কথা আছে তা সঠিক সময়ে পেলে বর্তমান অবস্থায় পরতে হতো না । রাজশাহীর চারটি উপজেলার ১০৫ কিলোমিটার পদ্মা নদীতে মাছ ধরে ৭ হাজার ৫৭৪ জন জেলে। এর মধ্যে পবা উপজেলায় ২০৫৮, গোদাগাড়ী উপজেলায় ২৪৩৪, চারঘাট উপজেলায় ১১৭৫ ও বাঘা উপজেলায় ১৩০৭ নিবন্ধিত জেলে রয়েছে। অথচ, নদীতরীরবর্তী ১ হাজার ৮০০ জেলেকে দুস্থ ও ইলিশ শিকারি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। তাদের জন্য এবারই প্রথম গত ১৫ অক্টোবর দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় থেকে ৩৬ মেট্রিক টন চালের বরাদ্দ এসেছে। যা এখন পর্যন্ত কোন জেলেকে দেয়া হয়নি। এরমধ্যে রাজশাহী সিটি করপোরেশন এলাকায় ১৩৮, পবা উপজেলায় ৪৫৩, গোদাগাড়ী উপজেলায় ৫৭৯, চারঘাট উপজেলায় ২৭৯ ও বাঘা উপজেলায় ৩১১ জন জেলে রয়েছে। রাজশাহী জেলা মৎস্য কর্মকর্তা সুভাস চন্দ্র সাহা বলেন, ‘এ মাসের শুরুতে অভিযান চালানোর আগেই জেলেদের জন্য চাল বরাদ্দের জন্য আবেদন করা হয়েছিল। আগামী ২২শে অক্টোবরের মধ্যে জেলা প্রশাসক রাজশাহী সিটি করপোরেশন ও উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তাদের মাধ্যমে জেলেদের কাছে চাল পৌছে দিবেন।’

এই রকম আরও খবর দেখুন

সর্বশেষ আপডেট

অ্যার্কাইভ ক্যালেন্ডার
সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০৩১