চোখের সামনেই হত্যা হলো ভাসুর

নিজস্ব প্রতিনিধি: মেয়েকে তুলে নিয়ে যাওয়ার সময় বাবা মোয়াজ্জেম দিলেন বাধা আর তাতেই মারা পড়লো জীবনটা। আপন চাচীকে তুলে নিয়ে যাওয়ার সময়ে কথিত প্রেমিক কুপিয়ে আহত করে মেয়ের সম্পর্কের ফুফি হাসনাকেও। চোখের সামনে ভাসুরকে খুন হতে দেখলেন তিনি। স্থানীয়া গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে পাবনা জেনারেল হাসপাতাল ও পরে নিয়ে আসা হয় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (রামেক)। রামেক হাসপাতালে উপস্থিত হাসনা বেগমের জামাতা সালমান, ভাতিজা জুয়েলের সাথে কথা বলে জানা যায়, বছর পাঁচেক পূর্বে বেড়া উপজেলার দাসপাড়া গ্রামের মোয়াজ্জেম শেখের বড় মেয়ে মারিয়া খাতুনের (২০) বিয়ে হয় একই গ্রামের নিকট আত্মীয় মুক্তার শেখের ছেলে শাজাহান শেখের সঙ্গে। বিয়ের পর থেকেই শাজাহান শেখ সৌদি আরবে শ্রমিকের কাজ করেন। স্বামী প্রবাসে থাকায় মারিয়া বাবার বাড়িতেই চার বছরের এক কন্যা সন্তÍান নিয়ে থাকেন। এ সময় একই বাড়িতে অবস্থান করা মারিয়ার বড় ভাসুর আসান শেখের ছেলে সবুজ শেখ (২৫) চাচির সঙ্গে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েন। এ নিয়ে দুই পরিবারের সঙ্গে মাঝেমধ্যেই ঝগড়া-বিবাদ হতো। এ ব্যাপারে বেশ কয়েকবার গ্রাম্য সালিসও হয়। গত রোববার সবুজ এ নিয়ে বাড়াবাড়ি না করার জন্য মোয়াজ্জেন শেখকে প্রকাশ্যে হুমকি দেয়। আজ মঙ্গলবার সকাল ৮টার দিকে সবুজ তাঁর প্রেমিকা ‘চাচি’ মারিয়ার হাত ধরে তাঁকে অন্যত্র নিয়ে যেতে চাইলে বাবা মোয়াজ্জেম শেখ তাতে বাধা দেন। এ সময় উভয়ের মধ্যে বাকবিতন্ডিতা হয়। এক পর্যায়ে সবুজ ছুরি দিয়ে মোয়াজ্জেম শেখের বুকে উপর্যুপরি আঘাত করলে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। হাসনা বেগম নামের এক আত্মীয়(সম্পর্কে ফুফু) তাঁকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে সবুজ তাঁকেও ছুরিকাঘাতে জখম করেন। আহত হাসনা বেগমের জামাতা সালমান বলেন, কথাকাটাকাটির এক পর্যায়ে ঘর থেকে হাসুয়া নিয়ে আসে সবুজ। এরপর মোয়াজ্জেমকে বুকের উপর কোপাতে থাকে। মাত্র ১০ সেকেন্ড সময়ের মাঝেই মারা যান তিনি। এ সময় আমার শ্বাশুড়ী বাধা দিতে গেলে সবুজ তাকেও পেটের বাম পাশে আঘাত করে। হাসনা বেগমের ভতিজা জুয়েল বলেন, সবুজ নাপিতের কাজ করতো। সে সব সময়ে একটি ধারালো খুর সাথে রাখতো। ঘটনার পর এলাকাবাসি এগিয়ে আসে কিন্তু অস্ত্র দেখিয়ে মারিয়েকে নিয়ে পালিয়ে যায় সে। একজনকে হত্যা ও অপরজনকে কোপানোর পর সবার সামনে মারিয়ার হাত ধরে তাঁকে নিয়ে পালিয়ে যান সবুজ। এলাকাবাসি বিষয়টি টের পেলেও অস্ত্রের মুখে ধরে নিয়ে যায় মারিয়াকে।

পরে স্থানীয়রা হাসনা বেগমকে উদ্ধার করে প্রথমে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়।

এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ সবুজের বাবা আসান শেখ, দুই চাচা আমোদ শেখ ও কোমর শেখকে আটক করেছে। তবে সবুজ ও মারিয়া ধরা-ছোঁয়ার বাইরে রয়েছে।

পাবনা পুলিশ সুপার (এসপি) জিহাদুল কবির ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বলেন, নিহত মোয়াজ্জেম শেখের মেয়ে মারিয়াকে উদ্ধারে পুলিশ কাজ করছে। একই সঙ্গে পুলিশ সবুজকে ধরতে বিশেষ অভিযান চালাচ্ছে। আশা করছি খুব শিগগির নারীকে উদ্ধার ও ঘাতককে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হবে পুলিশ।

এই রকম আরও খবর দেখুন

সর্বশেষ আপডেট

অ্যার্কাইভ ক্যালেন্ডার
সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
৩১