জেলায় খাদ্য সহায়তা পাচ্ছেনা দেড় লাখ পরিবার

নিজস্ব প্রতিনিধি: আমরা গরিব অসহায়। বয়স কম থাকায় পাইনা বয়স্ক ভাতা, স্বামী থাকায় পাই না বিধবা ভাতা। আবার গরিব হলেও ভিক্ষা করতে পারিনা। কিন্তু প্রতিবছরই সরকারের দেয়া চাল পেয়ে থাকি। ঈদের জন্য অন্তত: বছরে দুইবার কয়েকদিন চালের জন্য নিশ্চিন্তে থাকতে পারি। এবারে শুনছি সরকার আমাদের চাল দিবে না। কোরবানির ঈদে গরু ছাগলের মাংস পাওয়া যাবে কিন্তু চাল পাওয়া যাবে না। কথাগুলো বললেন পবা উপজেলার নওহাটা পৌরসভার তেঘর গ্রামের হতদরিদ্র রবিউল, সাফিউল ও আছিয়া বেগম। আর দু’দিন পরেই ঈদুল আযহা। প্রতিবছর পবিত্র ঈদকে সামনে রাখে সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনি খাতে অতিদরিদ্র ও অস্বচ্ছল পরিবারকে ১০ কেজি করে ভার্নারেবল গ্রুপ ফিটিং ভিজিএফ খাদ্য সহায়তা দিচ্ছেন সরকার। এবারের ঈদুল আযহায় জেলার এক লাখ ৫১ হাজার ১৬৯টি অতিদরিদ্র ও অস্বচ্ছল পরিবার সরকারি বিশেষ বরাদ্দের খাদ্য সহায়তা পাচ্ছে না। কিন্তু এবারে বন্যা দূর্গোতদের সহায়তা প্রদান করার জন্য এবার উপজেলায় তা দেওয়া হচ্ছে না বলে জানা গেছে। এতে বানভাসি মানুষের মত তাদেরও ঈদ আনন্দ ফিকে হয়ে আসছে। খাদ্য না পাওয়ার আশংকায় অনেকে মন:ক্ষুন্ন আবার অনেকে রাজনৈতিক ফাইদা নেয়ার চেষ্টা করছেন। দেশে প্রাকৃতিক দুর্যোগ বন্যা ও প্লাবনে এখনো অনেক মানুষ পানি বন্দী হয়ে আছে। এসব বানভাসি মানুষের দূর্ভোগের শেষ নেই। বেশীরভাগ মানুষের সাজানো সংসার, ক্ষেত-খামারসহ আগামীর স্বপ্নও যেন বানের পানিতে হারিয়ে গেছে। সব হারিয়ে তারা এখন নিঃস্ব। এবারের ঈদ যেন তদের কাছে একটি বোঝা। আনন্দই যেন দুঃখ। অতিতের ঈদ আনন্দের স্মৃতিগুলো যেন কুড়ে কুড়ে খাচ্ছে। অনেকটা তাদেরই মত নিঃস্ব দরিদ্র ও অসহায় অস্বচ্ছল মানুষ ডাঙ্গাতেও আছেন। যারা বিভিন্ন শর্ত পেরিয়ে পাই না বিধবা, মাতৃত্বকালিন ও বয়স্ক ভাতা। কিন্তু তারা প্রতিবছরই দুই ঈদে পেয়ে থাকেন সরকারের বিশেষ বরাদ্দের ভিজিএফ’র খাদ্য। এতে তারা বিনা চিন্তায় ঈদের আনন্দ উপভোগ করতেন। কিন্তু এবার ঈদুল আযহায় বন্যার্তদের টানতে এদের বরাদ্দ স্থগিত করেছেন সরকার। অনেকে এখনো প্রতীক্ষায় আছে তারা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক আওয়ামী লীগ নেতা বলেন, বন্যা ও বানভাসি মানুষের বাঁচাতে সরকার ভিজিএফ’র বিশেষ বরাদ্দ বাতিল করেছেন। তিনি আরো বলেন, খাদ্য ও বাণিজ্য মন্ত্রনালয়ের উচিৎ ছিল ভিজিএফ নামক অনুভুতি প্রবণ ও জনহিতকর উদ্যোগের বাস্তবায়নের জন্য সচেতন হওয়া। অর্থাৎ ভিজিএফ’র বরাদ্দ দেয়া। রাজশাহী জেলায় ৯টি উপজেলা ও ১৪টি পৌরসভায় ভার্নারেবল গ্রুপ ফিটিং ভিজিএফ’র কার্ডের সংখ্যা এক লাখ ৫১ হাজার ১৬৯টি। যার মধ্যে উপজেলাগুলোতে এক লাখ ৪ হাজার ৯৫৭ এবং ১৪টি পৌর সভায় পৌর সভায় ৪৬ হাজার ২১২টি কার্ড রয়েছে। অতিদরিদ্র ও অস্বচ্ছল পরিবারের মাঝে সরকারি বিশেষ বরাদ্দের জন্য প্রয়োজন এক হাজার ৫শ’ ১২ মে.টন খাদ্য। জেলার বাঘা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ হামিদুল ইসলাম বলেন, অতিদরিদ্র, প্রতিবন্ধী ও অস্বচ্ছল পরিবারের মধ্যে বিনামূল্যে খাদ্য সহায়তা প্রদানের সময় আছে। এছাড়া দেশে এবছর পর্যাপ্ত পরিমানে বন্যা হয়েছে। বন্যার্তদের সহায়তা করতে গিয়ে এবারে এই উপজেলায় এখন পর্যন্ত সহায়তা আসে নাই। তবে আসলে তাৎক্ষনিক বিতরণ করা হবে। জেলা ত্রাণ ও পূণর্বাসন কর্মকর্তা আমিনুল হক বলেন, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রনালয়ের নির্দেশনা না থাকায় এখন পর্যন্ত এবারের ভিজিএফ’র বরাদ্দ দেয়া হয়।

এই রকম আরও খবর দেখুন

সর্বশেষ আপডেট

অ্যার্কাইভ ক্যালেন্ডার
সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
৩১