টেক্সাস ঘাতককে অবিশ্বাস্য গতিতে গাড়ি নিয়ে ধাওয়া করেছিল দুই তরুণ!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: টেক্সাসের ঘাতককে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে বীরের মর্যাদা পাচ্ছেন দুই মার্কিনি তরুণ। পাল্টা গুলি চালিয়ে, গাড়ি নিয়ে পিছু ধাওয়া করে ঘাতক ডেভিন প্যাট্রিক কেলিকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেন এই দু জন। যদিও কেলির মৃত্যুর কারণ ও গুলিচালনার উদ্দেশ্য নিয়ে এখনও ধোঁয়াশায় গোয়েন্দারা। অনেকে বলছেন সে নিজেই গুলি চালিয়ে আত্মঘাতি হয়েছে। শোনা যাচ্ছে, শাশুড়ির সঙ্গে ঝামেলা থেকেই এই ঘটনা। স্ত্রীর পরিবার ওই চার্চে প্রার্থনা করতে যান, তাই সেখানেই খুন করা হবে এমন ভাবনাই ছিল ঘাতকের। কিন্তু ঘটনার সময় তাঁরা কেউই সেখানে উপস্থিত ছিলেন না। ওদিকে আরও একবার মার্কিন জনতা বন্দুক হামলার শিকার হলেও এ জন্য দেশের আগ্নেয়াস্ত্র আইনকে দায়ী করতে চাননি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গ্রামীণ টেক্সাসের ছোট জনপদ সাদারল্যান্ড স্প্রিংস। সেখানে যখন অবাধে তাণ্ডব চালাচ্ছে ২৬ বছরের কেলি, তখন প্রতিরোধ গড়ার জন্য কোনও পুলিশ ধারেকাছে ছিল না। সে সময় কেলিকে রুখতে তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালান এক অনামা ব্যক্তি। তাঁর গুলিতে হতচকিত কেলি পালাতে শুরু করে। টেক্সাস নাশকতার পর দুই মার্কিনির সাহসিকতার এই রোমহর্ষক আখ্যান সামনে এসেছে। বর্ণনা দিয়েছেন সাহসীদের একজন, স্থানীয় বাসিন্দা জনি ল্যাঙ্গেনডর্ফ। কী ঘটেছিল রবিবার সকালে? জনি বলেন, ‘আমি হঠাৎ দেখি দু জনের মধ্যে গুলির লড়াই চলছে। তাদের একজন আমার গাড়ির কাছে এসে বলে, অন্যজনের পিছু নিতে হবে। সে নাকি গির্জায় বহু মানুষকে মেরেছে। ’ এরপর দুজনে গাড়ি ছোটান কেলির পিছনে। জনির ভাষায়, ‘অবিশ্বাস্য গতিতে ছুটছিল আমার গাড়ি। একবার স্পিডমিটারে দেখলাম ঘণ্টায় ১৫৩ কিলোমিটার! শেষমেষ ঘাতকের গাড়ি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশে গিয়ে মুখ থুবড়ে পড়ে। আমরা পুলিশকে খবর দিই ’। এই অভিযানে তাঁর বন্দুকধারী সঙ্গীটি কে ছিলেন, সেই পরিচয় দিতে পারেননি জনি ল্যাঙ্গেনডর্ফ। ধোঁয়াশা রয়েছে কেলির মৃত্যুর সঠিক কারণ ঘিরে। গাড়ির ভিতর তার গুলিবিদ্ধ দেহ উদ্ধার হয়। গুলি না দুর্ঘটনায় মৃত্যু, তা স্পষ্ট নয়। গাড়ির ভিতর আরও বন্দুক মিলেছে। লাস ভেগাসের বন্দুকহামলাকারীর হোটেলের ঘরে যেমনটা পাওয়া গিয়েছিল। আগ্নেয়াস্ত্রের এই অবাধ ব্যবহার নিয়ে বারবার প্রশ্ন উঠেছে আমেরিকায়। কিন্তু, আগ্নেয়াস্ত্র আইন বদল নিয়ে হেলদোল নেই মার্কিন প্রশাসনের। টেক্সাসের গির্জার হত্যালীলায় শোকপ্রকাশ করলেও নাগরিকদের আগ্নেয়াস্ত্র রাখার অধিকারকে দুষতে চাননি ডোনাল্ড ট্রাম্প। জাপান সফরে থাকা মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘এই ব্যক্তির মানসিক সমস্যা ছিল। আমেরিকায় অনেকেরই এই সমস্যা রয়েছে। তবে এর সঙ্গে আগ্নেয়াস্ত্র রাখার কোনও সম্পর্ক নেই। ’ টেক্সাসের সান আন্তোনিয়োর বাসিন্দা কেলি মানসিক রোগী ছিল কিনা, তা নিয়ে নির্দিষ্ট তথ্য এখনও মেলেনি। তবে অপরাধের মানসিকতা ছিল পুরোদস্তুর। মার্কিন বিমানবাহিনীর এয়ারম্যান পদে চাকরি করত কেলি। স্ত্রী ও সন্তানের উপর অত্যাচারের অভিযোগে সামরিক আদালতে তার বিচার হয়। এ জন্য তাকে বছরখানেক বন্দি রাখাও হয়েছিল। শেষমেশ দোষ প্রমাণ হওয়ায় ২০১৪ সালে বিমানবাহিনীর চাকরি যায় কেলির। বদমেজাজি, নিষ্ঠুর মানসিকতাই সম্ভবত তাকে এ ধরনের হত্যালীলায় উসকে দিয়েছিল। তবে কী উদ্দেশ্যে হত্যাকাণ্ড, সে ব্যাপারে এখনও অন্ধকারে এফবিআই। এটা জঙ্গি গোষ্ঠীর কাজ নয়, সে ব্যাপারে অবশ্য গোয়েন্দারা নিশ্চিত। কেলির সঙ্গে কোনও জঙ্গি সংগঠনের যোগ পাওয়া যায়নি। ভয়াবহ হামলার সাক্ষী সাদারল্যান্ড স্প্রিংসের ফার্স্ট ব্যাপটিস্ট চার্চ শুধু নয়, গোটা জনপদই সোমবার ছিল থমথমে। যে ২৬ জনের মৃত্যু হয়েছে, তাঁদের মধ্যে ৫ বছরের শিশু থেকে ৭২ বছরের প্রবীণও রয়েছেন। প্রার্থনা করতে একই পরিবারের আটজন ঘাতকের গুলির শিকার হয়েছেন।

এই রকম আরও খবর দেখুন

সর্বশেষ আপডেট

অ্যার্কাইভ ক্যালেন্ডার
সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০