তানোর আওয়ামী লীগ নেতাদের মধ্যে বিদায়ের সুর

তানোর প্রতিনিধি : রাজশাহীর তানোরে স্থানীয় সাংসদ ও রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ওমর ফারুক চৌধূরী এবং তানোর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও মুন্ডুমালা পৌর মেয়র গোলাম রাব্বানী একই মঞ্চে উপস্থিত হওয়ায় আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে ফের প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে। আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে কর্মী-জনবান্ধব ও পরিচ্ছন্ন ব্যক্তি ইমেজের অধিকারী অন্যতম জনপ্রিয় এই দুই নেতা ঐক্যবদ্ধ হয়ে মাঠে নামায় তৃণমূরের রাজনীতিতে প্রাণের সঞ্চার ঘটেছে। আর এই দুই নেতার যুগলবন্দী হয়ে পথ চলার খবরে তৃণমূলের রাজনীতি চাঙ্গা হয়ে উঠেছে।
অপরদিকে, ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের জামানত হারোনো জনবিচ্ছন্ন, বির্তকিত ও ডোম-চাঁড়াল-নাপিত নির্ভর এক বগি নেতা ও তাঁর অনুসারিগণ ইমেজ সঙ্কট ও জনবিচ্ছিন্ন হয়ে রাজনীতি থেকে ক্রমেই সরে যাচ্ছে বলে নেতা ও কর্মী-সমর্থকদের মনে শঙ্কা দেখা দিয়েছে। সূত্র জানায়, আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের পরে একশ্রেণীর বগি (আক্যাম্যা) নেতা নিয়োগ ও অপারেটর বাণিজ্য, মনোনয়ন বাণিজ্য, তদ্বির বাণিজ্য ও বিভিন্ন উন্নয়ন কাজের কমিশন বাণিজর মাধ্যমে রাতারাতি অগাধ ধনসম্পদ আর্জন এবং আখের গোছাতে ব্যস্ত থাকায় দীর্ঘদিন ধরে তৃণমূলমূখী হতে না পারায় নিজ দলের নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে দেখা দিয়েছে তাদের চরম ইমেজ সঙ্কট। আগামী দিনে আর কখনো স্থানীয় কোনো নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীর মনোনয়ন পাবেন কি ? না ? না পেলে কি ? হবে, রাজনীতিতে সক্রিয় থাকবেন কি না ? বা বগি নেতা ও তাঁর অনুসারিদের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে নিজ দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে গভীর শঙ্কা, উদ্বেগ-উৎকন্ঠা দেখা দিয়েছে। আগামিতে স্থানীয় কোনো নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হলে ওই নেতা ও তাঁর অনুসারিদের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ অনেকটা অনিশ্চিত ও অন্ধকারে নিমজ্জিত হবে। ইতমধ্যে নিজ দলে তাদের টিকে থাকায় কঠিন হয়ে পড়েছে তার বিকল্প নেতৃত্বের সন্ধান ও বিকল্প নেতৃত্ব দিতে নিজ দলের তৃণমূলের নেতাকর্মীরা দাবি তুলেছে। সংশ্লিষ্ট এলাকার রাজনৈতিক বিশ্লেষক, সচেতন মহল, আওয়ামী লীগের তৃণমূলের নেতাকর্মী এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, তানোরে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের জনবিজ্ঝিন্ন বির্তকিত ও ডোম-নাপিত নির্ভর ক্ষমতাধর এক নেতা ও তাঁর অনুসারিদের মধ্যে বিদায় ও বিষাদের সুর বেজে উঠেছে। বিশেষ করে, মহাজোট সরকার ক্ষমতায় আসার পর ওই বগি নেতা বিএনপি ও জামায়াতের সঙ্গে গোপণ আঁতাত করে জামায়াত-বিএনপি মতাদর্শীদের চাকরি, হাট-ঘাট ইজারা ও ঠিকাদারী সুবিধা দিয়ে তাদের কাছে থেকে লাখ লাখ টাকা পকেটে ভরেছে। রাজনৈতিক পট পরিবর্তন হলে তাঁর ও অনুসারিদের যেনো কোনো মামলা মোর্কদমায় পড়তে না হয় সেই জন্য ওই নেতা তাঁর অনুসারিদের নিয়ে বিএনপি-জামায়াতের সঙ্গে গোপণ আঁতাত করে নিজেদের ব্যবসা-বাণিজ্য ও ধন-সম্পদ রক্ষায় মরিয়া হয়ে গোপণে বিএনপি-জামায়াতের নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে সমঝোতা করে চলেছেন। ওই বগি নেতা ও তাঁর অনুসারিরা অন্তরে জাসায়াত-বিএনপির জন্য মুধু জমা রেখে সাধারণ মানুষের কাছে জামায়াত-বিএনপির বিপক্ষে জ্বালাময়ি কথা বলছে, যেটা সাধারণের মধ্যে ব্যাপক ভাবে প্রচার হচ্ছে। ইতমধ্যে ওই নেতাকে রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ের সামনে উত্তম-মধ্যম দিয়ে বিতাড়িত করা হয়েছে। রাজনৈতিক পট পরিবর্তনে তাঁর ও অনুসারিদের যেনো কোনো সমস্যায় পড়তে না হয় সেই জন্য বিএনপি-জামায়াতের ছায়াতলে আশ্রয় পাবার আশায় গোপণে তাদের সঙ্গে সমঝোতা করে চলছে বলেও তৃণমূলের নেতাকর্মীরা সন্দেহ প্রকাশ করছে। এব্যাপারে একাধিকবার যোগাযোগের চেস্টা করা হলেও আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের দায়িত্বশীল কারো কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এই রকম আরও খবর দেখুন

সর্বশেষ আপডেট

অ্যার্কাইভ ক্যালেন্ডার
সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০৩১