থানা হেফাজতে আসামীর মৃত্যু

নাচোলের ওসিসহ ৮ জনকে অব্যাহতি দিয়ে চুড়ান্ত প্রতিবেদন

নাচোল প্রতিনিধি : চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল থানায় পুলিশি হেফাজতে থাকা রিমান্ডের আসামী মাহফুজুর রহমানের মৃত্যুর ঘটনায় ওসিসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে দায়ের করা হত্যা মামলার চুড়ান্ত প্রতিবেদন (ফাইনাল রিপোর্ট) দাখিল করেছেন পুলিশ। গত বৃহস্পতিবার চাঁপাইনবাবগঞ্জের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আমলী আদালতে (গ অঞ্চল) এই প্রতিবেদন দাখিল করা হয়।

প্রতিবেদনে ওই ঘটনাকে আত্মহত্যা উল্লেখ করে আসামীদের মামলা থেকে অব্যাহতি দেয়ার আবেদন করেছেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা চাঁপাইনবাবগঞ্জ গোয়েন্দা পুলিশের তদন্ত শাখার ওসি রেজাউল হাসান। তবে মামলার বাদী নিহত মাহফুজুর রহমানের বড় ভাই শাহিনুর আলম জানিয়েছেন, তারা এর বিরুদ্ধে বিচারিক আদালতে নারাজীর আবেদন করবেন।

গত ২৬ জুলাই চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল থানায় পুলিশি হেফাজতে মৃত্যু হয় রিমান্ডে থাকা অভিযুক্ত আসামি মাহফুজুর রহমানের। ভূয়া চিকিৎসক সেজে নাচোলের একটি ক্লিনিকে এক স্কুল ছাত্রীর অপারেশন করে তাকে হত্যার দায়ে গত ১৯ জুলাই পুলিশ মাহফুজুরকে গ্রেফতার করে। এই ঘটনায় ওই স্কুল ছাত্রীর বাবার দায়ের করা মামলায় গত ২৫ জুলাই তাকে ২ দিনের রিমান্ডে নেয় নাচোল থানা পুলিশ।

পুলিশের দাবী, ২৬ জুলাই দুপুর সোয়া একটার দিকে থানার পুরুষ হাজত খানার টয়লেটে নিজের প্যান্ট ছিড়ে দরজার ফাঁকা বীমে ঝুলে আত্মহত্যা করেন আসামী মাহফুজুর রহমান। পরে টয়লেটের দরজা ভেঙ্গে তার ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়। তবে নিহত মাহফুজের স্বজনদের দাবী, চাহিদা মত উৎকোচের টাকা না দেয়ার কারণেই পুলিশের নির্যাতনে মারা গেছে মাহফুজ।

এই ঘটনায় নাচোল থানার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-ওসি আনোয়ার হোসেন, উপ-পরিদর্শক আব্দুল বারিক, উপ-পরিদর্শক আহসান হাবিব, উপ-পরিদর্শক জহুরুল, সহকারী উপ-পরিদর্শক মোঃ সামসুল, ডিউটিরত কনস্টেবল চাঁনজারুল, রিমান্ডে নেয়া মামলার বাদী নাসির উদ্দিন এবং তার ভগ্নিপতি জাফর ইকবালসহ অজ্ঞাত আরো কয়েকজনকে আসামী করে গত ৬ আগষ্ট চাঁপাইনবাবগঞ্জের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে ‘২০১৩ সালের হেফাজত মৃত্যু (নিবারণ) আইন’-এ একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন নিহতের বড় ভাই শাহিনুর আলম। পরে আদালতের নির্দেশে নাচোল থানা পুলিশ মামলাটি এফআইআর হিসেবে গণ্য করে তদন্তের দায়িত্ব দেয় গোয়েন্দা পুলিশকে। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ওসি (তদন্ত) রেজাউল হাসান জানান, ভিসেরা প্রতিবেদনে আত্মহত্যার প্রমাণ মেলায় পুলিশ সুপারের নির্দেশে তিনি এই মামলার আসামীদের অব্যাহতি দেয়ার আবেদন জানিয়ে আদালতে চুড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করেছেন।

এদিকে পুলিশের এই চুড়ান্ত প্রতিবেদনে ক্ষুব্ধ মামলার বাদী শাহিনুর আলম। তিনি জানান, তদন্তকারী কর্মকর্তা রেজাউল হাসান মামলার বিষয়ে বাদী ও স্বাক্ষীদের কোন বক্তব্য নেননি। তিনি অভিযোগ করেন, পুলিশের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার তদন্ত পুলিশ করায় তিনি ন্যায় বিচার পাননি। বিষয়গুলো আদালতের নজরে এনে মামলাটির বিচার বিভাগীয় তদন্তের জন্য আদালতে আবেদন করবেন বলে জানান তিনি।

বাদী পক্ষের আইনজীবী মইনুল ইসলাম জানান, পুলিশের দেয়া চুড়ান্ত প্রতিবেদনের অনুলিপি সংগ্রহের জন্য তারা আবেদন করেছেন। অনুলিপিটি হাতে পেলেই আদালতে নারাজীর আবেদন করা হবে।

এই রকম আরও খবর দেখুন

সর্বশেষ আপডেট

অ্যার্কাইভ ক্যালেন্ডার
সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
৩১