দুর্গাপুরে ফসলের ক্ষেতে ইঁদুরের আক্রমণে, দিশেহারা কৃষক

দুর্গাপুর প্রতিনিধি: দুর্গাপুরে এবারের আমন ধান ক্ষেতে ব্যাপক ভাবে ইঁদুরের আক্রমণ দেখা দিয়েছে। ক্ষেতের কাঁচা ও পাকা ধান কেটে সাবাড় করে ফেলছে ইঁদুর। আমন ধান ঘরে তোলার আগ মূহুর্তে ইঁদুরের আক্রমণে দিশেহারা পড়েছে কৃষক। বাধ্য হয়ে কৃষক বিপদজনক বিদ্যুতের ফাঁদও ব্যবহার করছেন। তাতেও আশানুরুপ ফল পাওয়া যাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন কৃষকরা। এছাড়াও কৃষকরা কীটনাশক বিভিন্ন পদ্ধতিতে সুগন্ধি চালের টোপ কিংবা ফাঁদ পেতেও কোন প্রতিকার পাচ্ছেন না। কাঁচা ও পাকা ধান কেটে সাবাড় করে দিচ্ছে ইঁদুর। ইঁদুরের উপদ্রবে আমন ক্ষেত নিয়ে বিপাকে পড়েছেন উপজেলার চাষিরা। বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, কুষকরা ইঁদুরের হাত থেকে আমন ধান রক্ষায় জমিতে পলিথিন, বিষের টোপ, টায়ারে আগুন ইত্যাদি পদ্ধতি ব্যবহার করছেন। এছাড়াও কৃষকরা ইঁদুর ধান রক্ষায় বিভিন্ন এলাকায় বিপদজনক কারেন্ট ফাঁদ ব্যবহার করছেন কৃষকরা। কারেন্ট ফাঁদ পেতে ওইসব এলাকায় বিকেল ৫টার পর থেকে গ্রামবাসির পক্ষ থেকে বিলে নামতে নিষেধ করে এলাকায় মাইকিং করা হচ্ছে। উপজেলার কসেমপুর গ্রামের কৃষক আকরাম হোসেন জানান, তাদের মাঠে ইঁদুরের হানায় কৃষক দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। ইঁদুর দমনে বিভিন্ন রকমের ফাঁদ পেতেও কৃষকরা ফসল রক্ষা করতে পারছেন না। তাই কৃষকরা (গুনা) তাঁর ধানের জমির ভিতর দিয়ে টেনে দিয়েছেন। এবং ওই (গুনা) তাঁর বিদ্যুত সংযোগ দেওয়া হয়েছে। এবং এলাকার জনগণ সচেতন করতে মাইকে বিকেল ৫টার পর থেকে মাঠে না যাওয়ার অনুরোধ করা হয়। এতে আশষ্কাজনক হারে ইঁদুর মারা পড়ছে বলে জানান তিনি। উপজেলার মাঠ পর্যায়ের কৃষি কর্মকর্তারা জানান, উপজেলায় এবার ৫হাজার ৬শ হেক্টর জমিতে আমন চাষ হয়েছে। চাষিরা আমন ধান ঘরে তোলার অপেক্ষায় রয়েছেন। শেষ সময়ে এবার ইঁদুরের উপদ্রব বেড়েছে। তবে বিষ টোপ, কলা গাছ, লাঠি কিংবা বাঁশের কঞ্চিতে পলিথিন বেধে দিলে ইঁদুরের উপদ্রব কম হবে। এ পদ্ধতি ব্যবহারে চাষিদের ইতিমধ্যে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। উপজেলা কাশিপুর গ্রামের আবদুল কুদ্দুস জানান, চলিত মৌসুমে তিনি ৩বিঘা জমিতে ধান চাষ করেছেন। অনুকুল আবহাওয়া থাকায় তার ক্ষেতে ধান আশেপাশের ধানের চেয়ে ভাল ছিলো। কিন্তু তার ধানের মধ্যে প্রায় ১০থেকে ১৫শতক কাঁচা ধান কেটে সাবাড় করে ফেলেছে ইঁদুর। তিনি আরো জানান, কৃষি অফিসের পরামর্শ অনুযায়ী ক্ষেতে বিষ টোপ ব্যবহার করেও ইঁদুর দমন করা যাচ্ছে না। ধান ঘরে তোলা নিয়ে দু:চিন্তায় রয়েছেন তিনিসহ এলাকার কৃষকরা। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ডক্টর বিমল কুমার প্রামানিক জানান, ইঁদুর যা খায় তার চেয়ে বেশি নষ্ট করে। কৃষকদের পোকাদমনে যেমন পরামর্শ দেওয়া হয় তেমনি ইঁদুর দমনেও নানা পদ্ধতি ব্যবহার করে পুরোপুরি ইঁদুর দমন করতে হবে। যাতে তারা যেন আর বংশ বিস্তার করতে না পারে।

এই রকম আরও খবর দেখুন

সর্বশেষ আপডেট

অ্যার্কাইভ ক্যালেন্ডার
সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
৩১