দুর্গাপুরে যুবলীগ কর্মী খুনের মামলায় সাবেক ছাত্রলীগ নেতাসহ দুই জন কারাগারে

দুর্গাপুর প্রতিনিধি: রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি আমিনুল হক টুলু সহ দুই জনকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। আজ রোববার রাজশাহীর অতিরিক্ত চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির হয়ে জামিনের আবেদন জানালে জামিন আবেদন না মঞ্জুর করে বিজ্ঞ আদালতের দায়িত্বে থাকা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট-২ এর বিচারক মো. শরিফুল ইসলাম এ আদেশ দেন। টুলুর সহযোগী অপর আসামী দুর্গাপুর পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক আব্দুস সামাদ। দুর্গাপুর সদরের সিংগা গ্রামের যুবলীগ কর্মী সোহেল রানা হত্যাকান্ডের ঘটনায় দায়ের করা মামলার আসামী ছিলেন টুলু ও সামাদ। মামলার অন্য আসামীরা এর আগে আদালতে হাজির হয়ে জামিন নিলেও টুলু ও সামাদ দীর্ঘ দিন থেকে পলাতক ছিলেন। এ কারনে আদালত টুলু ও সামাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারী পরোয়ানা জারী করেছিলেন। মামলার আইনজীবী এ্যাড. শহিদুল ইসলাম জানান, জমিজমা সংক্রান্ত বিষয়ের জের ধরে সন্ত্রাসীরা ২০১২ সালের ৭ জুন সন্ধ্যায় দুর্গাপুর সদরের সিংগা পুর্ব পাড়ার বাসিন্দা নুর ইসলামের পুত্র যুবলীগ কর্মী সোহেল রানা সহ আরো ২ জনকে লোহার রড, হাতুড়ি ও চাইনিজ কুড়াল দিয়ে এলোপাতাড়ি ভাবে মারপিট করে। এরপর গুরুতর জখম অবস্থায় আহত রানাকে প্রথমে দুর্গাপুর স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ভর্তি করা হয়। পরে রানার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে ওই দিনই রামেক হাসপাতালের ৮ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি করা হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় রানার পিতা নুর ইসলাম বাদী হয়ে ঘটনার একদিন পর ৯ জুন দুর্গাপুর পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক আব্দুস সামাদ, উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি আমিনুল হক টুলু সহ মোট ৯ জনকে আসামী করে থানায় মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় আসামীদের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এক নম্বর আসামী আব্দুস সামাদ ও দুই নম্বর আসামী আমিনুল হক টুলুকে অব্যাহুতি দিয়ে অপর ৭ আসামীকে অভিযুক্ত করে ২০১২ সালের ২১ নভেম্বর আদালতে অভিযোগপত্র দেন। ২০১৩ সালের ১৭ জানুয়ারী মামলার ধার্য তারিখে মামলার বাদী ওই অভিযোগপত্রের বিরুদ্ধে নারাজী আবেদন করলে ওই বছরের ৩ ফেব্রুয়ারী শুনানী শেষে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-১ এর বিচারক মমিনুন নেছা বাদীর নারাজী পিটিশন আমলে নিয়ে অব্যাহুতি দেয়া আসামীদের এজাহার ভুক্ত করে মামলাটি পুনরায় তদন্তের জন্য সিআইডিকে (ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন ডিপার্টমেন্ট) তদন্তভার দিতে পুলিশ সুপারকে নির্দেশ দেন। একই সাথে দুই নম্বর আসামী আমিনুল হক টুলু পলাতক থাকায় তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরোয়ানা জারী করেন আদালত। পরবর্তীতে সিআইডি দীর্ঘ সময় তদন্ত করে আবারো মামলার এক নম্বর আসামী আব্দুস সামাদ ও দুই নম্বর আসামী টুলুকে অব্যাহুতী দিয়ে আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। এবারো বাদী সিআইডির দাখিল করা প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে আদালতে নারাজী পিটিশন দাখিল করে জুশিয়াল তদন্তের জন্য আইনজীবীর মাধ্যমে আদালতের কাছে আবেদন করেন। আদালত বাদীর আবেদন গ্রহন করে একজন ম্যাজিস্ট্রেটের মাধ্যমে মামলাটি তদন্তের নির্দেশ দেন। তদন্তে হত্যাকান্ডের ঘটনার সাথে আব্দুস সামাদ ও টুলুর জড়িত থাকার বিষয়টি প্রতীয়মান হলে আদালত পুণরায় আসামী আব্দুস সামাদ ও টুলুর বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরোয়ানা জারী করেন। তারপর থেকেই পলাতক ছিলেন আব্দুস সামাদ ও টুলু। রাজশাহী সদর কোর্টের পুলিশ পরিদর্শক খুরশীদা বাণু কণা জানান, গতকাল রোববার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে মামলার এক নম্বর আসামী আব্দুস সামাদ ও দুই নম্বর আসামী আমিনুল হক টুলু তাদের আইনজীবীর মাধ্যমে রাজশাহীর অতিরিক্ত চীফ জুড়িশিয়াল আমলী আদালত-৪ এ আত্মসমর্পন করে জামিনের আবেদন জানান। এ সময় বিজ্ঞ আদালতের অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত বিচারক সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট-২ মো. শরিফুল ইসলাম আসামীদের জামিন আবেদন না মঞ্জুর করে তাদের কারাগারে পাঠানোর নিদের্শ দেন।

 

এই রকম আরও খবর দেখুন

সর্বশেষ আপডেট

অ্যার্কাইভ ক্যালেন্ডার
সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
৩১