নাটোরে বিসিকের বাণিজ্যিক প্লট আবাসিক খাতে ব্যবহার নিয়ে তদন্ত শুরু জেলা প্রশাসনের

নাটোর প্রতিনিধি : গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর নাটোর বিসিক শিল্প নগরীর বাণিজ্যিক প্লট আবাসিক খাতে ব্যবহারের বিষয়টি খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করেছে জেলা প্রশাসন। ইতিমধ্যে তদন্তে নিয়োজিত ম্যাজিষ্ট্রেট সরেজমিনে গিয়ে বাণিজ্যিক প্লট আবাসিক খাতে ব্যবহারের সত্যতাও পান। অবৈধভাবে বসবাসকারিরা তালা ঝুলিয়ে লাপাত্তা হলেও এখনো প্রভাব খাটিয়ে বসবাস করছেন অনেকেই। অনিয়মের বিষয়টি ধামাচাপা দিতে এবং অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের দায় এড়াতে প্রভাব খাটাচ্ছে একটি মহল। জানা যায়, শিল্পনগরীর মধ্যে আবাসনের কোন অনুমতি না থাকলেও স্টেট অফিসার দিলরুবা দিপ্তি ও উপ-ব্যবস্থাপক বজলুর রশীদের যোগসাজসে নাটোর বিসিকের শিল্প প্লটে আবাসিক ভবন তৈরী করে দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করছিল অনেকেই। অভিযোগ আছে, মোটা অংকের ঘুষের বিনিময়ে আবাসিক বসবাসের বিষয়টি দেখেও নিশ্চুপ ছিলেন বিসিকের এই দুই কর্মকর্তা। এ বিষয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হলে নড়েচরে বসে প্রশাসন। গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদকে তথ্যসূত্র ধরে গঠন করা হয় তদন্ত কমিটি। এরপর রাতারাতি পাল্টে যায় দৃশ্যপট। আবাসিক ভবনে তালা ঝুলিয়ে লাপাত্তা হয় অনেকেই। কেউ কেউ আবার অবৈধ স্থাপনা ভেঙ্গে অন্যত্র সরিয়ে নেয়। কিন্তু প্রভাব খাটিয়ে এখনো বসবাস করছে বিসিক শিল্প মালিক সমিতির সভাপতি নুরন্নবী সোনারসহ প্রভাবশালী অনেকেই। সেই সাথে শিল্প প্লটে নতুন করে গড়ে উঠেছে গরুর খামার। গত ২৮ সেপ্টেম্বর তদন্ত নিয়োজিত জেলা প্রশাসনের এক্সিকিউটিভ ম্যাজিষ্ট্রেট মর্তুজা খাঁন স্বশরীরে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গিয়ে অভিযোগের সত্যতা পান। প্রথমেই তিনি বিসিক কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলেন। এরপর পূর্ব পাশে গ্রীণ জোন সংলগ্ন এলাকায় যান। সেখানে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে বসবাস করা বিসিকের পিওন মাজেদ মিয়ার বাড়ি ঘুরে দেখেন। ইতিমধ্যে বাড়িটি ভেঙ্গে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার চিত্র দেখেন তিনি। এরপর তিনি আনিকা এগ্রো কেমিক্যালসে যান। জনৈক নুরুল ইসলামের তিনতলা এই ভবনের নিচতলায় বন্ধ ফ্যাক্টরী এবং দোতলা ও তিনতলায় বসবাসের সত্যতা পান।

এরপর মৌমিতা আইসক্রিম ফ্যাক্টরী, নাটোর কেমিক্যাল পরিদর্শনে গেলে তা বন্ধ দেখতে পান। আগেই এই প্লট মালিকরা তালা ঝুলিয়ে লাপাত্তা হয়েছে পরিবার পরিজন নিয়ে। বিসিকের শিল্প প্লটে গরুর খামার গড়ে তুলেছে কান্তা ফুড ইন্ডাষ্ট্রিজ। শিল্প প্লটে গরুর খামার দেখে বিস্ময় প্রকাশ করেন ম্যাজিস্ট্রেট।

এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্টেট পরবর্তীতে নবতী ইন্ডাষ্ট্রিজে গেলে প্রভাবখাটিয়ে বিসিক মালিক সমিতির সভাপতি নুরন্নবী সোনার উল্টো ভিটিও ধারণ করে বিব্রত করেন ম্যাজিষ্ট্রেটকে। ম্যাজিষ্ট্রেটের কাছে কৈফিয়তের স্বরে বলে তার সাথে সংবাদকর্মী কেন।

পরে সংবাদকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা করার হুমকি দেবার পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও চালান অপতৎপরতা। ফেসবুক স্টেটাসে তিনি লিখেন ‘নাটোর বিসিক শিল্প নগরীর সংরক্ষিত এলাকায় কিছু জমি অবৈধভাবে দখল করার প্রচেষ্টায় রত নাটোরের এক সাংবাদিক’। মালিক সমিতির সভাপতির অপতৎপরতার পাশাপাশি বিসিকের স্টেট অফিসার দিলরুবা দিপ্তিও তৎপর হয়ে উঠেন।

বিসিকের ভাই ভাই প্লষ্টিক ফ্যাক্টরির মালিক রুহুল আমীনকে সংবাদ কর্মীদের হেনস্তা করতে নির্দেশ দেন। এবিষয়ে রুহুল আমীন জানান, বিসিকের স্টেট অফিসার দিলরুবা দিপ্তি আমাকে বলেছে বগুড়া বিসিকে সাংবাদিক গেলে বেধে রাখে, আপনারা কিছু করছেন না কেন। আপনারা সাংবাদিকদের মেরে বেধে রাখুন। আমি জবাবে বলেছি, সংবাদ কর্মীদের কাজে বাধা দেওয়া উচিত নয়।

জাকির হোসেন, ফারুক মোল্লা, নজরুল ইসলাম, সালাম মাষ্টারসহ একাধিক এলাকাবাসী জানান, নানা অনিয়মের কারণে ১৯৮৭ সালে ১৫.৫৬ একর জমিতে গড়ে উঠা বিপুল সম্ভবনাময় নাটোর বিসিক এখনো প্রাণহীন। ১০৪টি প্লট ৪৭টি কারখানার মালিকের লিজ প্রদান করা হয়। এই ৪৭ টি কারখানার মধ্যে ৭ টি কারখানার উৎপাদন একেবারেই বন্ধ। বিসিকটা আবাসিক এলাকা হিসাবে গড়ে উঠেছে। সকল অনিয়ম দুর করে বিসিক শিল্প নগরীর প্রাণ ফিরিয়ে আনা এবং অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের আইনের আওতায় আনা দাবী জানান তারা।

এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক ও বিসিক শিল্প নগরীর সভাপতি শাহিনা খাতুন জানান, গণমাধ্যমে বাণিজ্যিক প্লট আবাসিক খাতে ব্যবহার সংক্রান্ত সংবাদ প্রকাশের পর বিষয়টি খতিয়ে দেখতে একজন ম্যাজিস্ট্রেটের উপর তদন্তভার দেওয়া হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এই রকম আরও খবর দেখুন

সর্বশেষ আপডেট

অ্যার্কাইভ ক্যালেন্ডার
সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
৩১