নেতৃত্বের লড়াইয়ে বাগমারার আ.লীগ

বাগমারা প্রতিনিধি: সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার এনামুল হক এবং উপজেলা চেয়ারম্যান জাকিরুল ইসলাম সান্টুর নেতৃত্বের প্রতিযোগিতা ও ক্ষমতার দ্বন্দ্বে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে রাজশাহীর বাগমারা আওয়ামী লীগ। স্থানীয়ভাবে দ্বিধাবিভক্ত আওয়ামী লীগের একাংশের নেতৃত্ব দিচ্ছেন সভাপতি এনামুল হক এবং অপর অংশের নেতৃত্বে রয়েছেন সাধারণ সম্পাদক জাকিরুল ইসলাম সান্টু। সাংগঠনিক দিক থেকে দলের মডেল হিসেবে বিবেচিত বাগমারা আওয়ামী লীগের দুই নেতার দ্বন্দ্বে বহিস্কার হতে পারেন সাধারণ সম্পাদক জাকিরুল ইসলাম সান্টু। ইতোমধ্যেই উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির ৪৮ সদস্যের সম্মতিতে সান্টুকে বহিস্কারের সুপারিশ করা হয়েছে। আর দলীয় শৃংখলা ভঙ্গের দায়ে তাকে কারণ দর্শনের নোটিশ দিয়েছে জেলা কমিটি। গত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন কেন্দ্র করে এই দুই নেতা দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়েন।

স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায়, সর্বহারা ও জেএমবি’র জন্য সারা দেশে পরিচিত রাজশাহীর বাগমারায় আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের দ্বন্দ্বে এলাকাটি আবারও অশান্ত হয়ে ওঠেছে। উপজেলা চেয়ারম্যানের অভিযোগ, সংসদ সদস্য এনামুল হক সর্বহারা ও জঙ্গিদের মদদ দেন। অন্যদিকে সংসদ সদস্যের অভিযোগ, উপজেলা চেয়ারম্যান দলীয় কর্মী ও সরকারি কর্মকর্তাদের ওপর কথা কথায় হাত তোলেন। দুই পক্ষের এমন পাল্টাপাল্টি অবস্থানে বাগমারা আওয়ামী লীগ এখন কার্যত দ্বিধাবিভক্ত। ফলে সেখানে প্রায়ই ঘটছে সংঘাত।

সূত্র মতে, সর্বশেষ গত শুক্রবার রাতে আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতা আবদুর রশিদকে পেটানোর অভিযোগে জাকিরুল ইসলাম সান্টুসহ ২১ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়। আবদুর রশিদ বাদী হয়ে এ মামলা দায়ের করেন। এছাড়াও সান্টুর বিরুদ্ধে অভিযোগ আছে, বাগমারা থানার তৎকালীন পুলিশ পরিদর্শক মাসুদ পারভেজ, তৎকালীন উপ-পরিদর্শক আনিসুর রহমান, বাগমারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তরিকুল ইসলাম, বরেন্দ্র উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের প্রকৌশলী রেজাউল করিমকে মারধর করার। এসব ঘটনায় ওই কর্মকর্তারা থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন। এর আগে মাহফুজুর রহমান নামের এক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে মারধরের ঘটনায় তিনি জেলও খেটেছেন সান্টু।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে উপজেলা চেয়ারম্যান জাকিরুল ইসলাম সান্টু বলেন, তিনি কাউকে মারপিট করেননি। আগামী সংসদ নির্বাচনে তিনি আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী। তাই দলের একটা অংশ তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে।

অন্যদিকে এমপি এনামুল হকের বিরুদ্ধে জঙ্গি ও চরমপন্থীদের মদদ দেওয়ার অভিযোগ করেছেন উপজেলা চেয়ারম্যান সান্টু ও তার অনুসারী স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতারা। উপজেলা আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের ব্যানারে মঙ্গলবার দুপুরে রাজশাহী মহানগরীর একটি রেস্তোরাঁয় সংবাদ সম্মেলন করে তারা এ অভিযোগ করেন। সেখানে লিখিত বক্তব্যে দলের সভাপতি ও সংসদ এনামুল হকের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ তুলে ধরেন তারা।

তবে ওই সংবাদ সম্মেলনের লিখিত বক্তব্য রাজনৈতিক মিথ্যাচার বলে উল্লেখ্য করে এমপি এনামুল হক বলেন, আমি এমপি হওয়ার পর বাগমারায় জেএমবি-সর্বহারাদের নির্মূল করেছি। যারা অভিযোগ করছেন, তারা আমার আগে থেকেই এলাকায় নেতৃত্ব দেন। তাদের মদদেই বাগমারায় জঙ্গি-সর্বহারার উত্থান। যারা আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলছেন তাদের অনেকের বাড়িতে জঙ্গিদের বৈঠক হয়েছে। অনেকেই সেই বৈঠকগুলোতে অংশও নেয় বলে দাবি করেন তিনি।

তার আমলে বাগমারা আওয়ামী লীগ সাংগঠনিক শক্তিশালী হয়েছে, যা দলের কাছে মডেল হিসেবে বিবেচিত হয়েছে উল্লেখ্য করে সাংসদ এনামুল হক আরও বলেন, বিগত সব নির্বাচনে তারা দলের প্রার্থীর বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে আবারও তারা সক্রিয় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক শক্ত অবস্থান নষ্ট করতে বলেন সাংসদ এনামুল।

এদিকে, দলীয় শৃংখলা ভঙ্গ করে সভাপতির বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করায় বাগমারা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও স্থানীয় উপজেলা চেয়ারম্যান জাকিরুল ইসলাম সান্টুকে শোকজড করেছে জেলা আওয়ামী লীগ। বুধবার বিকেলে তাকে কারণ দর্শণের নোটিশ দিয়ে তিনদিনের মধ্যে জবাব দিতে বলা হয়েছে। এর আগে বুধবার দুপুরে উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সভায় সান্টুকে তার পদ থেকে বহিস্কারের সিদ্ধান্ত হয়। সেই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সান্টুকে বহিষ্কারের সুপারিশ করে জেলা কমিটিতে চিঠি পাঠায় উপজেলা আওয়ামী লীগ।

জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ বলেন, গত মঙ্গলবার আওয়ামী লীগের নাম ব্যবহার করে সভাপতির বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করে সাধারণ সম্পাদক সান্টু দলের শৃংখলা ভঙ্গ করেছেন। এ কারণে তাকে শোকজড করা হয়েছে। লিখিত জবাব পাওয়ার পর জেলা আওয়ামী লীগের সুপারিশসহ সেটি কেন্দ্রে পাঠানো হবে বলে জানান তিনি।

এই রকম আরও খবর দেখুন

সর্বশেষ আপডেট

অ্যার্কাইভ ক্যালেন্ডার
সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
৩১