পাবনা-৩ আসনে আ.লীগ-বিএনপির এক ডজন নেতার দৌড়

পাবনা প্রতিনিধি: আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে পাবনা-৩ ( ভাংগুড়া, ফরিদপুর ও চাটমোহর) আসনে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও বিরোধীদল বিএনপির নবীন-প্রবীন মিলে ২৩ নেতা তৎপর রয়েছেন। ভোট যুদ্ধে নামতে সবাই চাইছেন দলীয় প্রতীক। এ সকল নেতৃবৃন্দের ছবি সংবলিত পোস্টার-বিল বোর্ডে ছেয়ে গেছে নির্বাচনী এলাকা। এলাকায় গণসংযোগের পাশাপাশি মনোনয়ন বাগিয়ে আনতে তারা যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছেন কেন্দ্রীয় নেতাদের সাথে। আওয়ামী লীগ চাইছে আসনটি ধরে রাখতে আর বিএনপি চায় তাদের হারানো আসনটি পুনরুদ্ধারের। নির্বাচনের সময় যতই ঘনিয়ে আসছে আসনটিতে প্রধান দুই দলের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের তালিকা ক্রমেই দীর্ঘ হচ্ছে।

চাটমোহর, ভাঙ্গুড়া ও ফরিদপুর উপজেলা নিয়ে গঠিত পাবনা-৩ আসনের ভোটার সংখ্যা সাড়ে ৪ লাখের অধিক। তাই এই আসনে সম্ভাব্য প্রার্থীদের সংখ্যাও অনেক। পাবনা ৫টি আসনের মধ্যে এই আসনেই সবচেয়ে বেশি প্রচার প্রচারণা চলছে। আওয়ামী লীগ ও বিএনপির প্রায় একডজন মনোনয়ন প্রত্যাশীরা তৃণমুল নেতাকর্মী ও দলীয় সমর্থকদের সাথে পরিচিতি ও কুশল বিনিময়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন। প্রচার-প্রচারণার দিক থেকে সব থেকে বেশি এগিয়ে আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থীরা। ক্ষমতাসীন দলের নেতারা বিভিন্ন এলাকা ও গ্রাম-গঞ্জে নিজের প্রার্থিতার বিষয়ে প্রকাশ করছেন। এছাড়া বেশ কয়েকজন প্রত্যাশী বঙ্গবন্ধু ও শেখ হাসিনার ছবি সম্বলিত নিজের ছবি দিয়ে শুভেচ্ছা ব্যানার, ফেস্টুন টাঙ্গিয়ে দিয়েছেন প্রত্যন্ত গ্রামগঞ্জে ও বিভিন্ন জন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায়।

১৯৯১ সালে বিএনপির বিমান বাহিনীর সাবেক প্রধান সাইফুল আযম আওয়ামী লীগের ওয়াজি উদ্দিন খানকে হারিয়ে এমপি নির্বাচিত হন। ১৯৯৬ সালে প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতা ওয়াজি উদ্দিন খান নৌকা প্রতীক নিয়ে জয়ী হন। সেময় বিএনপির প্রার্থী ছিলেন কে এম আনোয়ারুল ইসলাম। ২০০১ সালে বিএনপির প্রার্থী কে এম আনোয়ারুল ইসলাম জয়ী হয়। সেবার আওয়ামী লীগের প্রার্থী ছিল মকবুল হোসেন। আগের বার হেরে ২০০৮ সালে জয়ের মুখ দেখে জাতীয় পার্টি থেকে আওয়ামী লীগে আসা মকবুল হোসেন। সেবার বিএনপির প্রার্থী ছিল সাইফুল আযম। ২০১৪ সালেও জয়ী হয় মকবুল হোসেন। তবে বিএনপি জোটের বর্জন করা ওই নির্বাচনে ভোট নিয়ে প্রতিপক্ষের ছিল নানা অভিযোগ।

বর্তমান সাংসদ মকবুলের বিরুদ্ধে অভিযোগ আছে দলীয় নেতাকর্মীদের। তৃণমূল নেতাকর্মীদের অভিযোগ তিনি কর্মীদের মূল্যায়ন করেন না। গত পৌরসভা নির্বাচনে ত্যাগী নেতাদের বাদ নিজের ছেলেকে প্রার্থী করেছে। এছাড়া এ আসনের অন্য উপজেলা ও পৌরসভার নির্বাচনেও দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে কাজ করেছে। এছাড়া নানা কারণে তিনি দলীয় নেতাকর্মীদের কাছে প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছেন। ফলে তার বিরোধী ও দলের সম্ভাব্য প্রার্থীরা মনোনয়ন পেতে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছে। একাধিক নেতা মনোনয়নের ব্যাপারে উপর মহল থেকে সবুজ সংকেতও পেয়েছে বলে দাবি করছেন।

এ আসন থেকে নৌকার মাঝি হতে জোড় প্রচার চালাচ্ছেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপ-কমিটির সাবেক সহ-সম্পাদক ও রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল আলিম, চাটমোহর উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রলীগ নেতা অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন সাখো, পাবনা আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রলীগ নেতা অ্যাডভোকেট শাহ আলম, ফরিদপুর উপজেলা আওয়ামীলীগের সাবেক সহ-সভাপতি ও আমেরিকার ভার্জিনিয়া রাজ্যের আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি সাবেক ভিপি আবুল কালাম আজাদ, আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় উপ-কমিটির সাবেক সহ-সম্পাদক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এসএম হল ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি বিশিষ্ট শিল্পপতি আতিকুর রহমান আতিক, ফরিদপুর উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান খলিলুর রহমান সরকার, ফরিদপুর উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ও শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি আলী আশরাফুল কবীর এবং বিএমএ পাবনা জেলা শাখার সভাপতি আওয়ামীলীগ নেতা ডা. গোলজার হোসেন। এদের মধ্যে আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় উপ-কমিটির সহ-সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল আলীম,এলাকার তৃণমুল নেতা-কর্মীদের মাঝে ব্যাপক সাড়া জাগিয়ে তুলেছেন। চাটমোহর উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন সাখো, তিনি দলের হয়ে গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন। পাবনা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট শাহ আলম, এলাকায় পরিচিত মুখ । দলীয় মনোনয়নের আশায় মাঠে রয়েছেন তিনি। তার কর্মী বাহিনী নিয়ে গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন ।

এদিকে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীরা মাঠে দৌড়ে বেড়ালেও বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীরা প্রতিকূল রাজনৈতিক অবস্থায় হাইকমান্ডের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় করছেন। হাইকমান্ড থেকে নির্দেশ থাকলেও ক্ষমতাসীনের হয়রানীতে মাঠে প্রচার চালাতে পারছে না বলে সম্ভাব্য প্রার্থীদের অভিযোগ। তবে বিএনপির তালিকাতেও আছে প্রায় অর্ধ ডজন সম্ভাব্য প্রার্থী। ধানের শীষের প্রার্থী হতে কেন্দ্রে তদবির চালাচ্ছেন এমন নেতাদের মধ্যে রয়েছে সাবেক এমপি কে এম আনোয়ারুল ইসলাম ও বিমান বাহিনীর সাবেক প্রধান সাইফুল আযম। তবে সাইফল আযম এলাকায় কখোনই থাকেন না। তার সাথে এলাকার রোক জনের যোগাযোগ একেবারেই নেই। সাইফুল ১৯৯১ এবং আনোয়ারুল ২০০১ সালে বিএনপির সংসদ সদস্য ছিল। এলাকার মানুষ নতুন নেতৃত্বের অপেক্ষায়। এছাড়া প্রার্থী হতে চায় রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান বয়েন উদ্দীন মিয়া. যদিও এলাকায় তার তেমন চলাচল নাই। এ ছাড়া ফরিদপুর উপজেলা বিএনপি সভাপতি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান জহুরুল ইসলাম বকুল মনোনয়োনের জন্য এলাকায় ব্যাপক গনসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন। জাগদল থেকে এখন পর্যন্ত শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদর্শ ধারণ করে দলের পক্ষে কাজ করে চলেছেন। এলাকার নেতা কর্মিদের মধ্যে তার গ্রহন যোগ্যতা ব্যাপক । অনেকের ধারনা দল হয়তো তাকেই মনোনয়ন দেবে। এ ছাড়া জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় হবিবুর রহমান হল ছাত্র সংসদের সাবেক জিএস পাবনা বারের সাবেক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মাসুদ খোন্দকার মনোনয়োনের জন্য কাজ করছেন। তিনি বর্তমানে জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি পেশায় অ্যাডভোকেট, দলের দুর্দিনে নেতা-কর্মীদের পাশে থেকে সাহস জুগিয়েছেন। আইন পেশায় জড়িত থাকার সুবাদে নির্যাতিত-নিপীড়িত নেতা-কর্মীদের আইনী সহায়তা দিয়ে চলছেন।

বর্তমান সংসদ সদস্য মকবুল হোসেনের সাথে বেশ কয়েকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। তবে চাটমোহর উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রলীগ নেতা অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন সাখো বলেন, নানা কারণে বর্তমান সংসদ সদস্য দলীয় নেতাকর্মীদের কাছে প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছেন। আমি শোডাউনের রাজনীতিতে বিশ^াশ করি না, জননেত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনা অনুযায়ী তৃনমূলের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সরকারের উন্নয়ন কর্মকান্ড প্রচারের জন্য গ্রামে গ্রামে উঠান বৈঠক করছি। মনোনয়ন প্রত্যাশা করি, তবে দল যাকে মনোনয়ন দেবে আমি তার জন্যই কাজ করবো।
বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী ফরিদপুর উপজেলা বিএনপি সভাপতি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান জহুরুল ইসলাম বকুল বলেন, আওয়ামী লীগের আমলে এলাকায় কোন উন্নয়ন হয়নি, এলাকার মানুষ উন্নয়ন চায়। ভোটের অধিকার চায়। নিরেপক্ষ ভোট হলে এ আসনে এবার বিএনপি প্রার্থী জয়ী হবে ইনশা-আল্লাহ। এখানে দলের কোন দ্বন্দ্ব নাই। মনোনয়ন প্রত্যাশার মত অনেক যোগ্য নেতাই আছে। দল তৃনমুলের চাহিদার প্রতি গুরুত্ব দেবে বলে আমি মনে করি।

এই রকম আরও খবর দেখুন

সর্বশেষ আপডেট

অ্যার্কাইভ ক্যালেন্ডার
সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০৩১