পুঠিয়ার বেসরকারী হাসপাতালে ফের নবজাতকের মৃত্যু

পুঠিয়া প্রতিনিধি: রাজশাহীর পুঠিয়ার গ্রামীন হাসপাতাল নামের বেসরকারী ক্লিনিকে ভুল চিকিৎসায় নবজাতকের মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন ভুক্তভুগির পরিবার। গত ৬ জুন উপজেলার ভালুকগাছী ইউনিয়নের কোনাপাড়া গ্রামের জেকের আলীর ছেলে আশরাফুল ইসলামের স্ত্রীর সিজারিয়ার অপারেশনের সময় ভূল চিকিৎসায় নবজাতকের মৃত্যুর অভিযোগে ইউএনও বরাবর একটি অভিযোগ করেন। এর আগেও ক্লিনিকটির বিরুদ্ধে কয়েকদফা লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে। সর্বশেষ চলতি মাসের ৩ অক্টোবর ক্লিনিকটিতে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে জরিমানাও করা হয়। সর্বশেষ গত ১৯ অক্টোবর বৃহস্পতিবার আশরাফুল ইসলাম ক্লিনিকটির বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগ সুত্রে জানা যায়, গত ৬ সেপ্টেম্বর সকালে আশরাফুল ইসলামের গর্ভবতী স্ত্রী শম্পা বেগমের (২১) প্রসবযন্ত্রনা উঠলে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লক্সে নিয়ে আসে। হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক বিভিন্ন পরীক্ষার জন্য পাঠান। পরীক্ষার জন্য শম্পা বেগমকে হাসপাতাল থেকে বের করা মাত্র গ্রামীন ক্লিনিকের মালিক সোহান আলী তার ক্লিনিকে কম খরচে যাবতীয় পরীক্ষা করার কথা বলে তার ক্লিনিকে নিয়ে যায়। ডাক্তার আসার কথা বলে তাদের সকাল ১০ টা থেকে বিকেল ৩ টা পর্যন্ত বসিয়ে রাখে। তিনি অভিযোগে উল্লেখ্য করেন, ঘন্টার পর ঘন্টা বসে থাকার পরেও কোন ডাক্তার আসেনী। পরে বিকেল সাড়ে ৫ টার দিকে রুগীর অবস্থা ক্রমেই খারাপ হতে থাকলে ক্লিনিকের পক্ষ থেকে যানানো হয় রুগীকে সিজারিয়ান অপারেশন করাতে হবে এবং তারাই ডাক্তার সেজে আশরাফুলের স্ত্রীকে অপারেশন টেবিলে নিয়ে যায়। সেখানে সিজারিয়ান অপারেশন করে কন্যা সন্তান বের করে। ভুক্তভুগি আশরাফুল ইসলাম বলেন, অপারেশনের পর বাচ্চার অবস্থা ভালো নয় বলে দ্রুত রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া লাগবে বলে আমাকে মাইক্রোবাস ভাড়া করতে বলে। পরে মাইক্রোবাস নিয়ে আসলে অক্সসিজেন ছাড়াই বাচ্চাটিকে রামেক হাসপাতালে পাঠায়। তিনি বলেন, রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে জুরুরি বিভাগের চিকিৎসক বাচ্চাটিকে মৃত ঘোষনা করেন। ভুল অপারেশনের পর ক্লিনিকেই বাচ্চাটির মৃত্যু হয়েছে বলে তিনি দাবী করেন। এঘটনার পর থেকে আশরাফুল ইসলামের স্ত্রী শম্পা খাতুনের অবস্থা ক্রমেই খারাপ হতে থাকে। এখন পর্যন্ত তার স্ত্রী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। অর্থের অভাবে আশরাফুল ইসলাম তার স্ত্রীর চিকিৎসা করাতে পারছেন না। ঘটনার এতোদিন পর অভিযোগ করা হলো কেন? জনতে চাইলে আশরাফুল ইসলাম বলেন, ঘটনার পর আমার স্ত্রীর অবস্থা খুব খারাপ ছিলো ক্লিনিক মালিক সোহান ও তার স্ত্রী আশা খাতুন আমার স্ত্রীর চিকিৎসা খরচ ব্যায় করবেন বলে কথা দেয় কিন্তু এখন পর্যন্ত কোন খবর নেয়নি এমনকি যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা কোন পাত্তা দেয়নি এর বিচার দাবী করেন তিনি। জানা গেছে, ক্লিনিকটিতে অভিজ্ঞ ডাক্তার নেই এবং ডাক্তারের সহযোগী হিসেবে কাজ করে অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করা ক্লিনিক মালিকের স্ত্রী আশা খাতুন নিজেই অপারেশন করেন। এমনকি ক্লিনিকের ছাড়পত্রে আশা খাতুন নিজেই সাক্ষর করেন। অভিযোগের ব্যপারে জানতে ক্লিনিক মালিক সোহান আলীর মুঠো ফোনে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, আপনি আমার প্রতিষ্ঠানে এসে আমার সাথে দেখা করেন বিস্তারিত বলছি বলে ফোন রেখে দেন তিনি। এব্যপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবদুল্লাহ আল মাহমুদ বলেন, এধরনের একটি অভিযোগ পেয়েছি বিষয়টি দেখার জন্য উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা ও স্বাস্থ্য কর্মকর্তাকে (টিএইচও) দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। তিনি ক্লিনিকটির বিরুদ্ধে পূর্বের অভিযোগ গুলোর কথা স্বীকার করে আরো বলেন, ঘটনাটি প্রমান হলে প্রয়োজনে ক্লিনিকটি বন্ধ করে দেয়া হবে। অভিযোগের ব্যপারে টিএইচও বলেন, আমি এখনও অভিযোগটি হাতে পাইনি। প্রশঙ্গত, এর আগেও ভূল চিকিৎসায় ক্লিনিকটিতে কয়েকটি এধরনের ঘটনা ঘটেছে। চলতি বছরের ৯ সেপ্টেম্বর আল-মাহাদী ইসলামিয়া হাসপাতাল নামের অন্য একটি বেসরকারী হাসপাতালে অপারেশন টেবিলে ভূল চিকিৎসায় নবজাতকসহ প্রসুতি মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে এব্যপারে পুলিশ ওই ভূয়া ডাক্তারকে গ্রেফতার করেছে এবং তাৎক্ষনাত প্রশাসন ক্লিনিকটি সিলগালা করে।

এই রকম আরও খবর দেখুন

সর্বশেষ আপডেট

অ্যার্কাইভ ক্যালেন্ডার
সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
৩১