প্রেমতলী গৌরাঙ্গবাড়ী ট্রাস্ট কমিটির বিরুদ্ধে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ

বিশেষ প্রতিনিধি : রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার প্রেমতলীর খেতুর ধামে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা ব্যবসায়ীদের নিকট হতে গৌরাঙ্গবাড়ী মন্দিরের জায়গায় দোকানপাট বসাতে গালাকাটা ফি আদায়ের অভিযোগের উঠেছে গৌরাঙ্গবাড়ী ট্রাস্ট কমিটির বিরুদ্ধে ।
জানা যায়, প্রতি বছরের ৯ অক্টোবর হতে শুরু হয় এই মেলার কার্যক্রম। ৩ দিন ব্যাপী চলে এই মেলার কার্যক্রম। এ মেলা উপলক্ষে দেশ বিদেশ ও জেলা সদরের বিভিন্ন স্থান থেকে বিভিন্ন ব্যবসায়ীরা মন্দিরের আশেপাশের জায়গায় বসে দোকানপাট নিয়ে। এই মেলায় অন্তত অনুমানিক এক হাজার দোকানপাট বসেছে বলে ব্যবসায়ীদের ধারণা। এই মেলায় কাঠের আসবাবপত্র, কসমেটিক্স, মনোহারী, বিছানার কম্বল, হাঁসুয়া, মিষ্টি ও বিভিন্ন ধরনের ক্ষুদ্রকুটি শিল্প সহ হরেক রকমের মালের দোকান পাট বসেছে এই মেলায়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য দোকান হলো সদর ঘাটের বিল্লারের ৪০ প্রকারের মসলা দিয়ে তৈরী পানের দোকান বাড়িয়েছে মেলার আকর্ষণ। বিল্লারের পানের মূল্য ৫ টাকা থেকে ১৫২ টাকা পর্যন্ত। সেখানে রয়েছে লাভপান, সিংড়াপানসহ অন্যান্য ডিজাইনের পান। এই মেলায় আগত ব্যবসায়ীদের লাভের অংশে ভাগ বসিয়েছে গৌরাঙ্গবাড়ী ট্রাস্ট কমিটির সদস্যরা। শুধু কমিটির মধ্যে সীমাবন্ধ নয়। স্থানীয় একটি চক্র প্রেমতলী ও বসন্তপুরমোড়ে যান বহন সিরিয়ালের নামে অতি গোপনে চলছে চাঁদাবাজী। গত রবিবার সন্ধ্যায় সরজমিনে গিয়ে দর্শনাথী ও ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বলে এসব তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে। মেলায় আগত ব্যবসায়ী নয়ন বাড়ী যশোর জেলার পূজারী মেলা নামের একটি হরেক মালের দোকান বসিয়েছেন তিনি। এ প্রতিবেদকের নিকট তিনি জানান, ১২ ফিট দৈর্ঘ ৬ ফুট প্রস্থ একটি জায়গা নিয়েছেন তিনি। ৩ দিন ব্যবসা করে মেলা কমিটির সদস্যদের দিতে হবে ২০০০/- টাকা। চাঁপাইনবাবগঞ্জের মনোহারী ব্যবসায়ী জানান, ১২ ফুট দৈর্ঘ ৮ ফুট প্রস্থ এই জায়গাটির জন্য তাকে দিতে ২ হাজার টাকা। রহনপুর এলাকার কালাই রুটির দোকানদার জানান জায়গার ভাড়া বাবদ দিতে হবে ২হাজার ৫শ টাকা। নাম প্রকাশ না কারার শর্তে এক সো-পিচ দোকানদার জানান, ১২ ফিট দীর্ঘ ৫ ফুট প্রস্থ এই স্থানে বসার জন্য তাকে দিতে ২হাজার টাকা। চাঁপাইনবাবগঞ্জের মিষ্টির দোকানদার বিমল চন্দ্র সাহা দৈর্ঘ প্রস্থ বুঝিনা লম্বা ৩৫ হাত চওড়া ৩০ হাত এ জায়গার মেলা শেষে বাড়ীর যাওয়ার আগে তাকে দিতে হবে ২০ হাজার টাকা। আরেক মিষ্টির দোকানদার জানান তাকে দিতে হবে ১৫ হাজার টাকা। এক ভাতের দোকানদার জানান তাকে দিতে হবে ৩ হাজার টাকা। বগুড়া থেকে আসা ফার্নিচার ব্যবসায়ী জানান, গত বছর এই মেলায় এসেছিলেন তিনি। জায়গার ভাড়া বাবদ মেলার কমিটিকে ৩ হাজার টাকা দিয়েছিলেন কিন্তু এবার কত টাকা দিতে হবে এ নিয়ে চিন্তায় আসেন তিনি।
এছাড়া মনোহারী দোকার থেকে শুরু করে বিভিন্ন হরেক মাল ও পান সিগারেটের দোকানের জায়গার ক্ষেত্রে হাত প্রতি দিতে হবে ২শ টাকা করে দিতে হবে বলে মেলায় আসা ব্যবসায়ীরা জানান। তারা আরো জানান, এভাবে গলাকাটা ফি আদায়ের কারণে মেলায় ব্যবসায়ীদের আসার আগ্রহ কমে যাচ্ছে এবং সাথে সাথে মেলার ঐতিহ্য নষ্ট হয়ে যাচ্ছে মর্মে দর্শনার্থী ও ব্যবসায়ীদের অভিযোগ।
এ বিষয়ে গৌরাঙ্গাবাড়ীর ট্রাস্ট কমিটির ম্যানেজার গোবিন্দপালের সাথে যোগাযোগ করা হলে, জায়গার খাজনা আদায়ের বিষয়ে বলেন, ট্রাস্ট কমিটির খাজনা আদায়ের একটি নীতিমালা রয়েছে। এ নীতিমালা অনুযায়ী ব্যবসায়ীদের নিকট হতে রশিদের মাধ্যমে টাকা আদায় করা হয়। তবে কি পরিমান দোকান মেলাতে বসেছে তা তিনি জানাতে পারেন নি।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার জাহিদ নেওয়াজ বলেন, বিষয়টি মন্দির কমিটির মধ্যে সীমাবন্ধ। যেহেতু মেলা করতে বিভিন্ন খরচপাতি আছে তাই তারা কিছু টাকা হয়ত নিচ্ছে। তবে কি পরিমাণ টাকা তারা নিচ্ছে বা কি নিয়ম-নীতিমালা আছে তা আমার জানা নেই। তবে চাপ প্রয়োগ করে অতিরিক্ত ফি আদায় করাও ঠিক হবে না।

 

এই রকম আরও খবর দেখুন

সর্বশেষ আপডেট

অ্যার্কাইভ ক্যালেন্ডার
সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
৩১