বাগমারার আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সহ আ.লীগের ৯ নেতা বরখাস্ত

নিজস্ব প্রতিনিধি: দলীয় শৃংখলা ভঙ্গ করে সভাপতির বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করে জঙ্গিবাদ ও চরমপন্থীদের মদদ দেয়ার অভিযোগ তোলায় বাগমারা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাকিরুল ইসলাম সান্টুসহ ৯ নেতাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করেছে জেলা কমিটি। তাদের স্ব-স্ব পদ থেকে বরখাস্ত করা হয়। আজ বৃহস্পতিবার বিকাল ৩টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত জেলা আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির বিশেষ সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে জানান জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ। অন্যরা হলেন, উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহাবুবুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক জিয়াউল হক টিপু, বিজ্ঞান ও তথ্য বিষয়ক সম্পাদক মামুনুর রহমান মামুন, মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক সম্পাদক সাহার আলী, উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য আব্দুস সালাম, আব্দুস সোবহান, উপজেলার সদস্য ও তাহেরপুর পৌরসভার সাধারণ সম্পাদক মেয়র আবুল কালাম আজাদ ও যোগিপাড়া ইউনিয় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা কামাল। দলের কার্যনির্বাহী কমিটির জরুরী সভায় সভাপতিত্ব করেন রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ওমর ফারুক চৌধুরী এমপি। অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ, সাংসদ আখতার জাহান, সাবেক প্রতিমন্ত্রী জিনাতুন্নেসা তালুকদার ও এনামুল হক এমপি, আয়েন উদ্দিন এমপি প্রমূখ। জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ বলেন, জেলা আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সভায় ৯ জনকে তাদের স্ব-স্ব পদ থেকে সাময়িকভাবে অব্যাহতি দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। যা অনুমোদনের জন্য সুপারিশ আকারে কেন্দ্রে পাঠানো হবে। তিনি আরও বলেন, দলীয় শৃংখলা ভঙ্গের অভিযোগে ১১ জনকে কারণ দর্শনের নোটিশ দেয়া হয়। গত ১২ অক্টোবর জাকিরুল ইসলাম সান্টুসহ ১১ জন কারণ দর্শনের নোটিশের জবাব দেন। পরের দিন ১৩ আক্টোবর আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটিতে উপস্থাপন করে জেলা আওয়ামী লীগ। ওই দিন দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সঙ্গে রাজশাহীর নেতৃবৃন্দের বৈঠক হয়। ওই বৈঠকে কেন্দ্রের শীর্ষ নেতারা জেলা কমিটিতে ১১ জনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়ে সুপারিশ আকারে কেন্দ্রে পাঠাতে নির্দেশনা দেন। একই সঙ্গে কেন্দ্র থেকে কোন নিদের্শনা না যাওয়া পর্যন্ত তাদের নামে দলীয় চিঠি ইস্যু না করতেও জেলা কমিটিকে নির্দেশনা দেয়। কেন্দ্রের নির্দেশনা অনুযায়ী জেলা কমিটির সদস্য জাকিরুল ইসলাম সান্টুকে নির্বাহী কমিটির সভায় ডাকা হয়নি। তবে ১১ জনের মধ্যে দুইজন ওই সংবাদ সম্মেলনে ছিলেন না। এ জন্য তাদের ব্যাপারে কোন সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানান তিনি। উল্লেখ্য, গত ২৬ সেপ্টেম্বর বাগমারা আওয়ামী লীগের ব্যানারে সংবাদ সম্মেলন করে লিখিত বক্তব্যে সভাপতির জঙ্গিবাদ মদদদানসহ নানা অভিযোগ তোলা হয়। ওই সংবাদ বাগমারা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা চেয়ারম্যান জাকিরুল ইসলাম সান্টুসহ ১১ জন নেতা অংশ নেন। এ সংবাদ সম্মেলনের পরের দিন বাগমারা উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির জরুরী সভা ডাকা হয়। ওই সভায় সান্টুসহ ১১ জনকে দল থেকে বহিস্কারের সুপারিশ করে জেলা কমিটিতে পাঠানো হয়। একাই সঙ্গে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক গোলাম সারোয়ার আবুলকে ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব দেয়ার জন্য সুপারিশ করা হয়। ওই সুপারিশের চিঠির প্রেক্ষিতে জেলা কমিটি ১১ জনকে কারণ দর্শনের নোটিশ দিয়ে সাত দিনের মধ্যে জবাব দিতে বলা হয়। এদিকে, জেলা আওয়ামী লীগের জরুরী সভা চলাকালে নগরীর লক্ষ্মীপুর মোড়ে দলীয় কার্যালয়ের সামনে নেতাকর্মীদের নিয়ে অবস্থান নেন জাকিরুল ইসলাম সান্টু। সভা শেষ না হওয়া পর্যন্ত তারা দলীয় কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নিয়ে থাকে।

এই রকম আরও খবর দেখুন

সর্বশেষ আপডেট

অ্যার্কাইভ ক্যালেন্ডার
সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
৩১