বাগমারায় আলু নিয়ে বিপাকে কৃষক

বাগমারা প্রতিনিধি: রাজশাহীর বাগমারায় কৃষকরা স্টোরজাত আলু নিয়ে বিপাকে পড়েছেন। মওসুমে আলু বিক্রির পর তারা পুনরায় আলু চাষের জন্য প্রতি বছরের ন্যায় এবারেও বেশী দামের আশায় আলু স্টোরে মজুত করে। কিন্তু বর্তমানে বাজারে অন্য তরি-তরকারির দাম বেশী হলেও আলুর দাম নিতান্তই কম। পটল ৪০, বেগুন ৬০ টাকা, ঝিঙ্গা ৪০ টাকা। এমনকি সামান্যতম কচু বিক্রি চলছে বাজারে ৩০ টাকা কেজি। অথচ আলু বিক্রি চলছে ১০ টাকা থেকে ১২ টাকা কেজি। বাজারে প্রতিনিয়তই আলুর দাম নি¤œমূখি হওয়ায় আসন্ন মওসুমের আগে ন্যায্যমূল্যে আলু বিক্রি করতে না পেরে কৃষকরা দিশাহারা হয়ে পড়েছেন।

জানা গেছে, বাগমারা ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকায় আলু চাষের মাটি উপযোগী। উর্ব্বর মাটি ও অনুকূল আবহাওয়ায় প্রচুর পরিমানে আলু চাষ হয়। বিগত বছর আলুর ভালো ফলন ও দাম পেয়ে বেশী লাভের আসায় এবারে অধিক আলু চাষে কৃষকরা ঝুঁকে। কিন্তু সে আশা গুঁড়ে বালি হযে দাঁড়িয়েছে। মওসুমের শুরু থেকে আলুর মূল্য হ্রাস ও হিমাগার ভিত্তিক চক্রের কারণে কৃষকরা আলু নিয়ে এবারে বিপাকে পড়েন। মওসুমে উপজেলায় ১৭ হাজার হেক্টর জমিতে আলু চাষ করা হয়।

মওসুূমে আলু বিক্রির পর প্রতিবারের ন্যায় অতিরিক্ত আলু এলাকার কৃষকরা স্টোরজাত করে। লাভের আসায় আলু স্টোরজাত করা কৃষক ও ব্যবসায়ীরা ব্যাপক লোকশানের মুখে পড়েছেন। বাজার ব্যবস্থাপনার ত্রুটির কারণে প্রতি বস্তায় ৪০০ শত টাকা থেকে ৫০০ টাকা লোকশান গুণতে হচ্ছে।

বালানগর গ্রামের আলু চাষি দুলাল হোসেন জানান ১ বিঘা আলু চাষে ৪০ থেকে ৮২ হাজার টাকা খরচ হয়। এতে ৪০ থেকে ৪৫ বস্তা আলু উঠে। শ্রমিক, কীটনাশক ও স্টোর ভাড়া দিতে বস্তায় ৫০০ টাকা পড়ে যায়। বর্তমানে স্টোরে ১ বস্তা আলু প্রকার ভেদে বার্মা (৮৫ কেজি) ১২০০/-টাকা থেকে কার্টিনাল ১১৫০/-টাকায় , গ্যানুলা ১০০০/- টাকা , স্টিক ১২৫০ টাকায় বিক্রি চলছে। খুচরা বাজারে বিক্রি চলছে ১২ টাকা থেকে ১৩ টাকায়। এতে স্টোর ভাড়া ,শ্রমিক মজুরীসহ অন্যান্য খরচ দিয়ে বস্তায় ৫০০ থেকে ৫৫০ টাকা লোকশান গুণতে হচ্ছে। আর মাত্র ১ থেকে ২ মাস পর আলু চাষের আবারো সময় আসলেও স্টোরজাত আলু বিক্রি করতে না পেরে কৃষকরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন।

এলাকার আলুচাষি ও ব্যবসায়ীরা জানান, যে পরিমান স্টোর রয়েছে তা প্রয়োজনের তুলনায় কম সংকলণ ক্ষমতা। উপজেলার ১৬টি ইউনিয়ন ও ২টি পৌর সভা মিলে ৪টি স্টোরে ৮ লক্ষ বস্তা রাখা যায়। স্টোরগুলোর ধারন ক্ষমতার অতিরিক্ত আলু হওয়ার কারনে এলাকার আলুচাষিরা আলুর স্টোরগুলোর (হিমাগার) মধ্যস্বত্ব ভোগী সিন্ডিকেটের হাতে ধরাশায় হয়ে পড়ে।

আলু চাষি আকবর আলী, জালাল হোসেনসহ অনেকে জানান, স্টোরে কর্মচারীরা আলু রাখার সময় বিভিন্ন কৌশল করে স্টোরের ভাড়া বৃদ্ধি করে। অধিকাংশ স্টোরের সমস্যার অজু হাতে উপজেলার কোল্ট স্টোরে মাল নেওয়ার অভিনয় করে তারা।

তিনি অভিযোগে জানান, পার্শ্ববর্তি নওগাঁ ও রাজশাহী সদর এলাকার স্টোর ভাড়া প্রতি বস্তা (৮৫ কেজি) ২ শ’ ৬০ টাকা ভাড়া। এই তুলনায় বাগমারায় স্টোর ভাড়া ৩৫০/- টাকা আদায় করা হয়। স্থানীয় স্টোর কর্তৃপক্ষের অতিরিক্ত লাভ প্রবণতায় কৃষকরা আলুচাষে আগ্রহ হারিয়ে ফেলছেন।

এ ব্যাপারে উপজেলার নাটোর কোল্ড স্টোরের একাউন্ট অফিসার হানিফ বলেন, নিয়ম অনুযায়ী আলু স্টোরজাত করা হয়। কোন কোন হিমাগারে চক্রভিত্তিক ব্যবসা ও বাজার নিয়ন্ত্রণ সমস্যা থাকতে পারে। তবে ঢালাও ভাবে সবাই সমান না। মালিক ভাড়া নির্ধারন করে। এতে স্টোর কর্মকর্তা/কর্মচারী বাজার সিন্ডিকেট করে যদি জটিলত সৃষ্টি করার কোন ক্ষমতা নেই বলে দাবি করেন তিনি। তবে অন্য কোন স্টোরে এমন সমস্যা থাকতে পারে বলে জানান তিনি।

এছাড়া একই ভাবে ভবানীগঞ্জ বসার কোল্ড স্টোরের মালি শাহারুল হুদা জানান, সব জিনিসের দাম বাড়তি, বিদ্যুৎ খরচ ও শ্রমিক মূল্য দিতে হিমসিম খেতে হয়। একারণে ভাড়া বৃদ্ধি হয়েছে। তা ছাড়া অনিয়মের কোন কারণ নেই বলে তিনি দাবি করেন। এছাড়া আলুর বাজার নিয়ন্ত্রসহ বহির বিশ্বের সাথে সরকার বাস্তবমুখী পদক্ষেপ নিলে এ সমস্যার সমাধান সহজে হতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

এই রকম আরও খবর দেখুন

সর্বশেষ আপডেট

অ্যার্কাইভ ক্যালেন্ডার
সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০৩১