বাগমারায় পুনরায় সংগঠিত হচ্ছে সর্বহারা খুনিরা-জনমনে আতঙ্ক বিরাজ

মোস্তাফিজুর রহমান জীবন,বাগমারা : একসময়ের রক্তাক্ত জনপদ হিসেবে খ্যাত রাজশাহীর বাগমারার আসন্ন পৌরসভা ও ইউপি নির্বাচনকে সামনে রেখে সংগঠিত হচ্ছে আত্মগোপনে থাকা সর্বহারা সংগঠনের ক্যাডাররা। সর্বহারা ক্যাডাররা ইতোমধ্যেই রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় নিরব চাঁদাবাজী ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

এলাকাবাসী সুত্রে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, দীর্ঘদিন যাবত বাগমারায় চিহ্নিত সর্বহারা ক্যাডার ও খুনিরা আত্মগোপনে ছিল। বর্তমানে সর্বহারার চিহ্নিত খুনিরা প্রকাশ্যে চলাফেরা করায় জনমনে ভয়-ভীতি ও আতংকের সৃষ্টি হয়েছে।

সর্বহারা ক্যাডাররা বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ছত্রছায়ার পরিচয় দিলেও প্রকৃতপক্ষে তারা পুনরায় সর্বহারা সংগঠনকে বাগমারায় সংগঠিত করে খুনের রাজত্ব সৃষ্টি করে বাগমারাকে পুনরায় রক্তাক্ত বাগমারায় পরিণত করার অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অনেকেই জানিয়েছেন, তাদের কর্মকান্ড জনমনে নতুন করে আতংকের সৃষ্টি করেছে। অনেকেই আত্মসমর্পণ করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার প্রতিশ্রুতি দিলেও তারা দিনের বেলায় বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠনের পরিচয় দিয়ে চলে আর রাতের বেলায় সর্বহারা সংগঠনকে সংগঠিত করার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

বিভিন্ন ব্যবসায়ী ও রাজনৈতিক ব্যক্তিদের কাছ থেকে ধারে টাকা চাওয়া ও বাঁকিতে মোটা অংকের টাকার জিনিসপত্র ক্রয় করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে করে ওই অঞ্চলের ব্যবসায়ীদের মাঝে চাপা ক্ষোভ ও আতংক বিরাজ করছে। জীবন নাশের ভয়ে কাউকে কিছু বলতে পারছে না।

আসন্ন পৌরসভা ও ইউপি নির্বাচনে প্রভাব বিস্তার করে ভয়-ভীতি দেখিয়ে মোটা অংকের অর্থ হাতিয়ে নিয়ে তারা পুনরায় সংগঠিত হওয়ার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

শান্তির বাগমারাকে আবারও রক্তাক্ত বাগমারায় পরিণত করার অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে আত্মগোপনে থাকা ও প্রকাশ্যে থাকা সর্বহারা ক্যাডাররা। আইন শৃংখলা বাহিনী কঠোর অবস্থানে থাকলেও ভীতি কাটছেনা জনমনে।

রাজশাহী জেলার বাগমারা উপজেলা সর্ব বৃহৎ উপজেলা। এই উপজেলার ১৬টি ইউনিয়নের ভোটার সংখ্যা ২ লক্ষ ৪২ হাজার ৫৪০জন। বাগমারায় সর্বহারার হাতে প্রকাশ্যে জবাই হন যুগিপাড়া ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেন, তাহেরপুর পৌর সভার প্রতিষ্ঠাতা মেয়র মুক্তিযোদ্ধা আলো খন্দকার, বিএনপি নেতা শ্রীপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক আব্দুল ওয়াহেদ মন্ডল, জাপা নেতা দুলু সরকার, বিএনপি নেতা সাবেক ঝিকড়া ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল হামিদ মরু, হারিমকুৎসা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ খামারুর দুই পুত্র, গোয়ালকান্দি ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলমসহ বেশ কয়েকজন রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ওই সময় সর্বহারার হাতে প্রকাশ্যে জবাই হন। তখন থেকেই বাগমারাবাসী অন্ধকারে নিমজ্জিত হয়। তার পর হঠাৎ করেই সর্বহারা দমনের নামে বাংলাভাইয়ের সৃষ্টি হয়।

র‌্যাব গঠনের পরে বাগমারায় সর্বহারা ও বাংলাভাইয়ের সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে অনেকেই ক্রস ফায়ারে নিহত হয় এবং চিহ্নিত অনেক ক্যাডার এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায়। আবার অনেকেই বিভিন্ন মামলায় জেল হাজতে রয়েছে।

২০০৮ সালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য ইন্জিঃএনামুল হক নির্বাচিত হন।নির্বাচিত হওয়ার পর বাগমারা হতে জঙ্গি, সর্বহারা,বাংলা ভাইকে কঠোর হস্তে দমন করে শান্তির বাগমারা উপহার দেন।

এদিকে তাহেরপুর পৌর প্রতিষ্ঠাতা বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ আলো খন্দকার কে জবাই করে হত্যা করার পর কু চক্র মহল মেয়রের আসন দখল করার চেষ্টা চালায়।

সেই চেষ্টার অবসন ঘটায় ২০১১ সালে তাহেরপুর পৌর সভার মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পান রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের মুজিব চত্বরে বেড়া ওঠা আওয়ামী লীগের নিবেদিত প্রান তাহেরপুর পৌর জনগনের আস্হার প্রতিক মেয়র অধ্যক্ষ আবুল কালাম আজাদ। তিনি নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে তাহেরপুরের মাটি থেকে সর্বহারা, জিএমবি, বাংলা ভাইকে প্রতিহত করে তাহেরপুর পৌর সভায় জনগনের মনে স্থান করে নেন।টানা দুই দুই বার মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পর নানা মুখী উন্নয়ন দিয়ে আধুনিক পৌর সভা গড়ে তুলেন।

তিনি আসন্ন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের একক প্রার্থী হিসেবে বিপুল ভোটে জয়ী হয়ে অসমাপ্ত কাজ শেষ করে তাহেরপুর পৌর বাসি কে আধুনিক গ্রীন সিটি উপহার দিতে চান।

বর্তমানেপৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে প্রভাব বিস্তারের জন্য সর্বহারা ক্যাডাররা পুনরায় সংগঠিত হয়ে মাঠে নেমে পড়েছে।বাগমারা উপজেলার তাহেরপুর পৌরসভা, গোয়ালকান্দি, হামিরকুৎসা, ঝিকড়া ও যুগিপাড়া সর্বহারা অধ্যূষিত এলাকা হিসেবে পরিচিত রয়েছে।

আত্মসমর্পণের পর সর্বহরারা নিজেকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিশ্বস্ত ভ্যান গার্ড হিসেবে পোস্টর, ফেস্টুন, লিফলেটের মাধ্যমে পরিচিত দিচ্ছে। এতে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রতি জনমনের নানা মুখী বিরুপ প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। জনগণের মুখে বলাবলি শুরু হয়েছে ১৩/১৪ টি হত্যা মামলার আসামি সর্বহারা কিভাবে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিশ্বস্ত ভ্যান গার্ড হয়।

এবিষয়ে জানতে চাইলে বাগমারা ৪ আসনের সাংসদ সদস্য আলহাজ্ব ইন্জিঃমোঃএনামুল হক বলেন,আমি মাননীয় প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনার বিশ্বস্ত ভ্যান গার্ড ব্যাপারে কিছু জানি না।বিষয় টি দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্হা গ্রহন করা হবে।বাগমারা শান্তির বাগমারা কেউ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করলে ছাড় দেওয়া হবে না।

বর্তমান পরিস্থিতির ব্যাপারে বাগমারা থানার ওসি আতাউর রহমানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আশংকার কোন কারণ নেই। আত্মসমর্পনকৃত সর্বহারা ক্যাডারদের প্রতি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি রয়েছে। তাদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করছে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা। রাজনৈতিক পরিচয়ে কোন ফায়দা হাসিলের সুযোগ নেই। এক্ষেত্রে ওই সকল এলাকার জনগনকে সজাগ থেকে প্রশাসনকে সহযোগীতা করতে হবে। কোনরুপ সন্ত্রাসী কর্মকান্ড করার সুযোগ দেয়া হবেনা। শান্তির বাগমারাকে যারাই অশান্ত করার চেষ্টা করবে তাদেরকে কঠোর হস্তে দমন করা হবে।

এবিষয়ে জানতে চাইলে রাজশাহী জেলা পুলিশ সুপার এবিএম মাসুদ হোসেন বলেন, কেউ যদি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিশ্বস্ত ভ্যান গার্ড হিসেবে পরিচয় দেন সেটা তার বিষয়।মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিশ্বস্ত ভ্যান গার্ড আদো কি না সে বিষয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দপ্তর দেখবেন। আর এবিষয়ে মারধরের ঘটনা শুনেছি সঠিক তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

এই রকম আরও খবর দেখুন

সর্বশেষ আপডেট

অ্যার্কাইভ ক্যালেন্ডার
সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০৩১