বারনই নদী হারিয়েছে তার আপন রূপ: দখল-দূষণমুক্ত ও খননের দাবি

নিজস্ব প্রতিনিধি: রাজশাহী মহানগরীর পাশের উপজেলা পবা। উপজেলাটির ওপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছে বারনই নদী। এককালের সমৃদ্ধ নদীটির আজ বেহালদশা। হারিয়েছে তার আপন রূপ। মাছের দেখা মেলায় যেন ভার। বর্ষাকাল পেরুলে গন্ধে টিকে থাকা কঠিন হয়ে ওঠে পার্শ্ববর্তী মানুষের। করুণ এ অবস্থায় ঐতিহ্যবাহি বারনই নদীটি দখল-দূষণমুক্ত ও খননের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন এলাকার ছাত্র, শিক্ষক, কৃষক, জেলে, নির্বাচিত প্রতিনিধিসহ সর্বশ্রেণীর পেশাজিবি নারী পুরুষ। সোমবার বারনই নদী রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের আয়োজনে বেসরকারি উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্টান বারসিক’র সহযোগীতায় মানববন্ধনটি অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, রাজশাহী মহানগরীসহ রাজশাহী মেডিকেলের বর্জ্য দীর্ঘদিন থেকে বারনই নদীতে পড়ার ফলে নদীটির পরিবেশ প্রতিবেশ এবং জলজ উদ্ভিদবৈচিত্র্য ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। অনেক সময় নদীতে ইনজেকশনের সিরিঞ্জ ও ঔষধের বোতলসহ নানা বর্জ্য পানিতে ভাসতে দেখা যায়। পানি নীলাভ আকার ধারন করে। নদীতে আগের মতো আর মাছ নেই। নদী কেন্দ্রিক বিভিন্ন পেশাজিবির পেশা হারিয়ে সংকটে পড়ছে। বর্ষা মৌসুমে কিছু পানি থাকলেও তা বারো মাসে না থাকার কারনে ফসল ফলানো যাচ্ছে না। নদীর দুপার দখলের কারনে ভরাট হয়েছে। মানববন্ধনে নদীটির দখল দূষণ মুক্ত করাসহ নদীতীর রক্ষা করে খননের দাবি জানানো হয়। রাজশাহী পবা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান খায়রুন্নেছা বেগম, বড়গাছি ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচিত সদস্য মাইনুল হক, সংরক্ষিত মহিলা সদস্য সীমা বেগম, বারনই নদী রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের আহবায়ক ও জাতীয় কৃষি পদক প্রাপ্ত কৃষক চাষী রহিমুদ্দিন সরকার, সদস্য সচিব জব্বার মিয়া, যুগ্ন আহবায়ক রহিমা বেগম, সদস্য জুয়েল আহমেদ, বারসিক এর সহযোগী সমন্বয়কারী এরশাদ আলী, বরেন্দ্র অঞ্চল সমন্বয়কারী শহিদুল ইসলামসহ এলাকার সকল পেশাজিবির মানুষ মানবন্ধনে উপস্থিত ছিলেন। পবা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান খায়রুন্নেছা বলেন- নদীটি দূষণে এলাকার মানুষের স্বাস্থ্যগত সহ নানা সমস্যা দেখা দিচ্ছে। নদীটি খনন এবং দূষণ বন্ধে জরুরী পদক্ষেপ নেয়া দরকার।” বারনই নদী রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের আহবায়ক রহিমুদ্দিন বলেন- “ দ্রুত রাজশাহী শহরসহ মেডিকেলের বিষাক্ত বর্জ্য বন্ধে কতৃপক্ষকে পদক্ষেপ নিতে হবে। তা না হলে নদী পাড়ের মাুষসহ এই অঞ্চলের পরিবেশ বিপর্যয়সহ মানুষ ও প্রাণীর মহাসংকট অত্যাসন্ন।” এসময় তিনি বারনই নদীর সাথে বর্জ্য অপসারনের সকল ড্রেন বন্ধের দাবি করেন। মহানগরীর বর্জ্য বর্তমানে সিটিহাটের পার্শ্বে ড্রেন দিয়ে দুয়ারী খালে এবং রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ভবনের পেছনে পবা গাঙ্গপাড়ার দিয়ে বায়া বাজারের পাশের খালে ফেলা হচ্ছে। পরবর্তীতে তা বারনই নদীতে গিয়ে পড়ছে। বর্জ্য জমে নদীর তলদেশ ভরাট হচ্ছে। পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য নষ্ট হচ্ছে নদী ও পাশের এলাকাগুলোর। ফলে স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়েছেন নদীপারের লক্ষাধিক মানুষ।

এই রকম আরও খবর দেখুন

সর্বশেষ আপডেট

অ্যার্কাইভ ক্যালেন্ডার
সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
৩১