বোয়ালিয়া থানা এলাকায় ওরাঁ কারা?

সাদা পোশাকে পুলিশ পরিচয়ে ভয় দেখিয়ে চাঁদাবাজি।

রেজাউল করীম : রাজশাহী নগরীর বোয়ালিয়া থানার এ এস আই উত্তম সাধারণ নিরিহ মানুষেদের জন্য এক আতংক। কিছুদিন পূর্বেও এ এস আই উত্তমের বিরুদ্ধে হেতেম খাঁ এলাকার বিদেশ ফিরত একজন ব্যাক্তিকে ইয়াবা দিয়ে মামলা দেওয়ার ভয় দেখিয়ে পঞ্চাশ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করায়, পত্রিকায় তার বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ হলেও, সাময়ীক বরখাস্থ থাকলেও. পূর্বে অবস্থায় আবার ফেরে আসে তিনি। ঘটনার তদন্ত কর্মকর্তাকে ম্যানেজ করে ১০ দিনের মাথায় আবার সে বোয়ালিয়া থানায় যোগদান করে আবার নিরিহ সাধারণ মানুষজনকে হয়রানি করছে বলে অগনিত অভিযোগ আসছে। বোয়ালিয়া থানার এ এস আই উত্তম সহ পুলিশ লাইন হতে অল্প বয়সের কিছু কনস্টবল নিয়ে একটি টিম তৈরি করেছেন সেই আলোচিত সমালোচিত এস আই মহিউদ্দিনের আমলে। এস আই মহিউদ্দিন চলে যাওয়ার পরও একই ভাবে সেই টিমটি এখনো কোন প্রকার ডিউটির সিডিউল ছাড়াই থানা এলাকার বিভিন্ন স্থানে প্রতি মূহূর্ত অভিযানের নামে হয়রানি করছে সাধারন মানুষজনকে। যদিও থানা এলাকার বিভিন্ন ফাঁড়ির ইনচার্জ ছাড়াও বিট পুলিশিং কার্যক্রোম চালু আছে, সেখানে একমাত্র এ এস আই উত্তমের কোন এলাকা ভাগ নেই, যে থানা এলাকার দিন রাত ২৪ ঘন্টা মূভ করতে পারে। রাতের বেলায় হোক আর দিনের বেলায় হোক, যাকে যেখানে পায় তল্লাশির নামে সাধারণ জনগণের নিকট মামলার ভয় দেখিয়ে টাকা নেওয়া অভিযোগও অগনিত। অভিযোগ আসে তার বিরুদ্ধে সাগর পাড়া এলাকার তিন পরিবারে তিন ছেলেকে ধরে মাদক মামলা না দিয়ে আর এম পি মামলা দেওয়া কথা বলে দশ হাজার টাকা নিয়েছেন পরে তাদেরকে আর এম পি মামলায় কোর্টে পাঠালে সেখান থেকে দোষ স্বীকার করে তাদের বাহির করা হয়েছে বলে স্বীকার করেছেন ঐ তিন পরিবারে অভিভাবকরা। অভিযোগ করে অনেকে সাংবাদিককে বলেন, টিকাপাড়া এলাকার সোহেল নামে এক ব্যাক্তিকে ষোল হাজার টাকা বিনিময়ে রাতেই তাকে গ্রেপ্তার করে পরে ছেড়ে দিয়ে আসেন এ এস আই উত্তম। নাম প্রকাশে বিরত থেকে অনেকে জানান, এমন কোন দিন নাই, কোন না কোন এলাকা থেকে সে, কাউ কে না কাউকে গ্রেপ্তার করেন এবং গ্রেপ্তারকৃতদের পরিবারকে বড় মামলা দেওয়ার ভয় দেখিয়ে টাকা অংক দাবি করে বসে। অনেক অভিভাবক ক্ষোভ প্রকাশ করেন বলে, রাতে বেলায় হোক আর দিনের বেলায় হোক ছেলেদের বাহিরে পাঠাতে ভয় লাগে, যে কখন পুলিশ নামে সাদা পোশাকে ছেলেদের গ্রেপ্তার করেন, এমনো হয়েছে যে, যার ছেলে একটা সিগারেট খায় না তাকেও গ্রেপ্তার করে ইয়াবা পাওয়া গেছে বলে টাকা বিনিময়ে আর এম পি মামলায় চালান করেন। মজার বিষয় হলো আর এম পি মামলা নামের যে সকল লোক প্রতিনিয়ত কোর্ট কাস্টোরী হতে বের হয় তাদের জিংগাসা করলেই বোঝা যায় তার নিকট কত টাকার বিনিময়ে তাকে আর এম পি মামলা চালন করেছেন থানা। থানায় কোন গ্রেপ্তার হলে পুলিশ বলে এখান থেকে তো ছাড়া যাবে না, কারণ সিসিটিভি ক্যামেরা আছে যা সরাসরি কমিশনার মহোদয় পর্যবেক্ষন করেন। তাই একমাত্র ছোট মামলা আর এম পি মামলা নামের মামলায় চালান করেন অনেক সাধারন মানুষকে যাকে শুধু মাত্র হয়রানি ও টাকা আদায়ের লক্ষ মাত্র। নব্য নিযুক্ত কমিশনার মহোদয় যোগদানের পর থেকে ছোট বড় অনেক পদক্ষেপ নিয়েছেন যা সাধারন জনগন সাধুবাদ দিয়েছেন সে সাথে পূর্বের কমিশনারের চেয়ে আরো বেশি কাজ ও নগরবাসী নিরাপত্তা প্রদানে অগ্রনি ভুমিকা পালন করবেন বলেও নগরবাসীর আশা। কতিপয় অসাধু পুলিশ সদস্যের জন্য আজ নগরীতে সাধারন জনগণ আতংকগ্র¯,’ এছাড়া পুলিশ কমিশানার মহোদয়ের কাজগুলো বেশ প্রসংশনিয়। নগরবাসি প্রত্যাশা প্রতি মূহূর্তে নগরীর নিরাপত্তা প্রকারকারী পিতা যেন আগলিয়ে রাখে নিরিহ জনগনসহ সকলকে, কেউ যেন বিনা অপরাধে পুলিশের নিকট হয়রানি না হয়। তাছাড়াও বর্তমান পুলিশ কমিশনার মহোদয়ের অল্প কিছু দিনের যোগদানের কায্যক্রম প্রমাণ করেন যে, তিনিও পূর্বের কমিশনার মহোদয়ের মত একজন সত্য, ন্যায় নিষ্ঠ, ও মাদক বিরোধী এবং জঙ্গিবাদ বিরোধী ব্যাক্তিত্বপূর্ণ ব্যাক্তি। অনুসন্ধানে জানা যায়, বোয়ালিয়া থানা এলাকায় মাদক স¤্রাট জিল্লুর বাড়িতেও সে নিজে গিয়ে কয়েক দফায় মোটা অংকের মাসিক চাঁদা নিয়ে আসেন। এছাড়াও কয়েকদিন পূর্বেও উত্তমের সাথে থাকা কনস্টবল তহিদ মোবাইল কেনার নামে বিশ হাজার টাকা নিয়েছেন। প্রতিটি মাদক বিক্রেতার সাথে মাসিক চুক্তিও আছে এ এস আই উত্তমের যা, নব্য নিযুক্ত অফিসার ইনচার্জ জানে না। দীর্ঘদিন এককই থানায় থাকার সুবাদে চোর, ছিনতাইকারী, মাদক ব্যবসায়ী, সহ বিভিন্ন অপর্কমের সাথে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ভাবে এ এস আই উত্তম জড়িত বলে জানান, নাম প্রকাশে অনেচ্ছুক অনেকেও। সাধারন জনগনের প্রত্যাশা গোপনে এ এস আই উত্তমের উপর নজর রাখলেই জানা যাবে কোথায় কখন তিনি কার সাথে মিশে মাসিক ডিল করছেন। শিরোইল কলোনী এলাকার মাদক ব্যবসায়ীদের তিনি বলেছেন মাসে টাকা দিলে ব্যবসা করতে দিবো অন্যথায় মাদক না পেলেও ধরে নিয়ে যাবো। পূর্বের কমিশনার মহোদয় অনেকেই মাদক ব্যবসা ছেড়ে দিয়ে পূর্ণবাসনে এনেছেন যাদেরকেও এই এ এস আই উত্তম নানা ভাবে হয়রানি করছেন বলে জানান শিরোইল কলোনীর মাদক ব্যবসা প্রত্যাহারকারী। নব্য নিযুক্ত বোয়ালিয়া থানা অফিসার ইনর্চাজ পূর্বে রাজপাড়া থানা এলাকাও নগরীর সবচেয়ে মাদক ড্যান্ডিক্ষ্যত গুড়ি পাড়া এলাকায় মাদক ব্যবসা বন্ধ করেছেন, যা পূর্বে কোন অফিসার ইনচার্জ করতে পারেনি। সেই রকম একজন মানুষ এখন বোয়ালিয়া থানা এলাকার মানুষ পেয়েছে, যার মাদক, সন্ত্রাস বিরোধী, অভিযান গুলো ইতি মধ্যে চোখে পড়ার মত।

উক্ত বিষয়ে এ এস আই উত্তমের সাথে কথা বললে তিনি তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ গুলো মিথ্যা বলে অস্বীকার করেন। এছাড়াও তিনি কোন মাদক ব্যবসায়ীর সাথে কোন প্রকার অর্থনীতিক কোন লেন দেন করেন না।

 

বোয়ালিয়া থানার অফিসার ইনর্চাজ আমান উল্লাহ আমান জানান, উক্ত বিষয় গুলো ক্ষতিয়ে দেখা হবে, তাছাড়াও আমি সবেমাত্র ১ মাস হল বোয়ালিয়া থানা যোগদান করা। তিনি আশা রাখেন, যে বর্তমান বোয়ালিয়া থানা এলাকার প্রতিটি মাদক ব্যবসীদের গ্রেপ্তারে তার অভিযান অব্যহৃত আছে বলে জানান তিনি।

 

এ বিষয়ে মহানগর পুলিশের মুখপাত্র সিনিয়র সহকারী পুলিশ কমিশনার বলেন এ এস আই উত্তমের বিষয়টি আমরা তদন্ত করবো, প্রমান পেলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়াও তিনি বলেন বর্তমান কমিশনার মহোদয় বেশ কিছু অপরাধ দমনের নতুন পদক্ষেপও নিয়েছেন।

এই রকম আরও খবর দেখুন

সর্বশেষ আপডেট

অ্যার্কাইভ ক্যালেন্ডার
সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০৩১