মুক্তিযুদ্ধ না দেখলেও পদ্মা সেতুর উদ্বোধন দেখছি

মুক্তিযুদ্ধ না দেখলেও পদ্মা সেতুর উদ্বোধন দেখছিউপচার ডেস্ক : অপেক্ষার প্রহর শেষ হতে যাচ্ছে। শনিবার (২৫ জুন) সকাল ১০টায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উদ্বোধন করবেন স্বপ্নের পদ্মা সেতুর। এ উপলক্ষে মাওয়া প্রান্তে আয়োজিত সুধী সমাবেশ ও উদ্বোধন অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছেন দেশের সব শ্রেণির ব্যক্তি।

সমাবেশস্থলে রয়েছেন অভিনেত্রী ও পরিচালক মেহের আফরোজ শাওন। তিনি বলেন, “মুক্তিযুদ্ধ দেখিনি কিন্তু পদ্মা সেতুর উদ্বোধন দেখছি। সরাসরি ইতিহাসের সাক্ষী হতে পেরে অন্য রকম অনুভূতি কাজ করছে। এ প্রজন্মের কাছে এটি স্মরণীয় হয়ে থাকবে। জাতিগতভাবে আমরা আমাদের অধিকার আদায় করতে পারি; কেউ চাইলে যে আমাদের অধিকার খর্ব করতে পারবে না—এই সেতু তার প্রমাণ। আমাদের সবার জন্য এটি একটি অসাধারণ মুহূর্ত।”

পদ্মা সেতু নির্মাণের আদ্যোপান্ত

ভিত্তিপ্রস্তর:-

২০০১ সালের ৪ জুলাই (বাংলা বর্ষপঞ্জি অনুযায়ী ১৪০৮ বঙ্গাব্দের ২০ আষাঢ়) প্রথমবারের মতো পদ্মা সেতুর ভিত স্থাপন করেন শেখ হাসিনা। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী, আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, প্রয়াত আব্দুর রাজ্জাকসহ আরও অনেকে।

এর আগে ১৯৯৬ সালে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ক্ষমতায় আসে আওয়ামী লীগ। প্রথমবারের মতো দেশের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন শেখ হাসিনা। তার প্রথম মেয়াদের একেবারে শেষ প্রান্তে এসে পদ্মা সেতুর ভিত স্থাপন করেন তিনি। ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের ১১ দিন পর, অর্থাৎ ওই বছরের ১৫ জুলাই শেষ হয় শেখ হাসিনা সরকারের মেয়াদ। পরের জাতীয় নির্বাচনে ক্ষমতায় আসে বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট।

সরকারের সঙ্গে চীনা কোম্পানির চুক্তি সই:-

পদ্মা সেতু নির্মাণে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয় চীনা কোম্পানি মেজর ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেড। কোম্পানির চেয়ারম্যান লিউ জিমিং চুক্তিতে সই করেন। চুক্তি অনুযায়ী পদ্মা সেতুর ‘ডিফেক্ট লায়াবিলিটি পিরিয়ড’ (ক্রটিজনিত দায়ের মেয়াদ) এক বছর। এই সময়ের মধ্যে কোনো সমস্যা হলে দায়-দায়িত্ব হবে সেই প্রতিষ্ঠানের।

প্রকল্পে গঠিত কমিটি:-

পদ্মা সেতু প্রকল্প বাস্তবায়নে তিনটি বড় কমিটি কাজ করেছে। এগুলো হলো : বিশেষজ্ঞ কমিটি, স্টিয়ারিং কমিটি ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি। এর মধ্যে ১১ সদস্যের বিশেষজ্ঞ কমিটি সবার ওপরে। এই কমিটিতে দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞরা যেকোনো কারিগরি সমস্যার বিষয়ে মতামত দেওয়ার চূড়ান্ত কর্তৃপক্ষ। বিশেষজ্ঞ কমিটির প্রধান ছিলেন অধ্যাপক জামিলুর রেজা চৌধুরী। তার মৃত্যুর পর এই দায়িত্ব পালন করেন অবকাঠামো বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক শামীম জাহান বসুনিয়া। কমিটিতে বাংলাদেশিদের মধ্যে আছেন নদী বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক আইনুন নিশাত, পরিবেশ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ফিরোজ আহমেদ ও পাইলিং বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক হোসাইন মো. শাহীন। আরেক সদস্য মাটি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক এ এম এম সফিউল্লাহ মারা গেছেন। বিদেশিদের মধ্যে জাপানের দুজন, নেদারল্যান্ডস, ডেনমার্ক ও যুক্তরাষ্ট্রের একজন করে বিশেষজ্ঞ রয়েছেন। স্টিয়ারিং ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সদস্য নয়জন করে। এদের বেশির ভাগ সদস্য সেতু বিভাগ, অর্থ মন্ত্রণালয় ও অন্যান্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা। দুই কমিটির মূল কাজ সম্পন্ন হলে প্রতিটি কাজের মূল্যায়ন, সমস্যা দেখা দিলে তার সমাধান, প্রকল্পের কাজের অগ্রগতি পর্যালোচনা ইত্যাদি।

যেসব দেশ ও বিদেশি বিশেষজ্ঞ জড়িত:-

পদ্মা সেতু শুধু নদীর দুই পাড়কেই যুক্ত করেনি, বাংলাদেশকে যুক্ত করেছে অনেক দেশের সঙ্গে। সেতুতে বিদেশি বিশেষজ্ঞ, প্রকৌশলী আর কর্মীর মেধার ব্যবহার হয়েছে। এই প্রকল্পে বাংলাদেশসহ ২০টি দেশের মানুষ সরাসরি যুক্ত ছিলেন। ১০টি দেশের বিপুল উপকরণ এবং প্রায় ৫০টি দেশের কিছু না কিছু উপকরণ ব্যবহার করা হয়েছে। পদ্মা সেতুর বিশদ নকশা করা হয় হংকংয়ে। এতে নেতৃত্ব দেন ব্রিটিশ নাগরিক রবিন শ্যাম। সেতুর নির্মাণকাজের তদারকির নেতৃত্ব দেন নিউজিল্যান্ডের নাগরিক রবার্ট জন এভস। আর নদীশাসনের নকশা প্রণয়নে ছিলেন কানাডার ব্রুস ওয়ালেস। এ কাজে আরও ছিলেন জার্মানি ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রকৌশলীরাও। পদ্মা সেতু প্রকল্প বাস্তবায়নে সরাসরি যুক্ত ছিলেন ১৩৮ ব্যক্তি। এর মধ্যে প্রকল্প পরিচালকসহ বড় পদে দায়িত্ব পালন করেন ৩২ জন। এদের মধ্যে মো. শফিকুল ইসলাম সওজের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী পদে থাকাকালে ২০১১ সালে পদ্মা সেতু প্রকল্পের পরিচালক হন। বাংলাদেশ ছাড়াও যেসব দেশের মেধা পদ্মা সেতু নির্মাণে ব্যবহৃত হয়েছে, সেগুলো হলো চীন, ভারত, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, জার্মানি, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, নেদারল্যান্ডস, সিঙ্গাপুর, জাপান, ডেনমার্ক, ইতালি, মালয়েশিয়া, কলম্বিয়া, ফিলিপাইন, তাইওয়ান, নেপাল ও দক্ষিণ আফ্রিকা।

বিদেশ থেকে উপকরণ ক্রয়:-

ভূমিকম্পের কারণে সৃষ্ট কম্পন থেকে সেতুকে রক্ষায় ৯৬ সেট ফ্রিকশন পেন্ডুলাম বিয়ারিং ব্যবহার করা হয়েছে। এসব বিয়ারিং চীনের তৈরি। তবে চূড়ান্ত পরীক্ষা হয় যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায়। বাংলাদেশের বাইরে পদ্মা সেতু প্রকল্পে সবচেয়ে বেশি উপকরণ কেনা হয়েছে চীন, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া, সিঙ্গাপুর, লুক্সেমবার্গ, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ভারত, মালয়েশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে। মূল সেতুতে প্রায় ২ লাখ ৮৯ হাজার টন স্টিলের প্লেট লেগেছে, যার সবই এসেছে চীন থেকে। বেশির ভাগ পাথর এসেছে ভারত ও সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে। স্টিলের মালামাল ও পানি নিরোধক উপকরণ এসেছে যুক্তরাজ্য থেকে। রঙের পুরোটাই যুক্তরাষ্ট্রের। অস্ট্রেলিয়া থেকে এসেছে পাইপ ও পলিমার। বিশেষ সিমেন্ট সিঙ্গাপুর থেকে ও রেলওয়ে গার্ডার এসেছে লুক্সেমবার্গ থেকে। মালয়েশিয়া থেকে এসেছে কেমিক্যাল। এ ছাড়া জার্মানি, নেদারল্যান্ডস, বেলজিয়াম থেকেও যন্ত্রপাতি এসেছে।

স্প্যান বসানোর কাজ:-

২০১৯ সালে স্প্যান বসানোর কাজে শুরু হয়। ওই বছর সব মিলিয়ে ১৪টি স্প্যান বসানো হয়। পাইলিংয়ের নকশায় সংশোধন, বন্যা, ভাঙনসহ নানা জটিলতায় কাজ অনেকটাই গতি হারায়। এর কারণে ২০১৮ সালের জুনের পর ২০৮ দিন কোনো স্প্যান বসানো যায়নি। অবশ্য ২০২০ সালে পদ্মা সেতুর কাজে বেশ গতি ছিল। মাঝখানে বন্যা ও করোনা সংক্রমণ পরিস্থিতির কারণে কাজে কিছুটা ব্যাঘাত ঘটে। ২০২০ সালের জুন মাসের পর ১২২ দিন স্প্যান বসানো বন্ধ ছিল। এরপর টানা ১০টি স্প্যান বসানো হয়। সব মিলিয়ে ২০২০ সালে ২২টি স্প্যান বসে। পদ্মা সেতুর সর্বশেষ স্টিলের কাঠামো (স্প্যান) বসানো হয় ২০২০ সালের ১০ ডিসেম্বর। সেতুর ১২ ও ১৩তম পিলারের ওপর ৪১তম স্প্যানটি বসানোর মাধ্যমে পদ্মার দুই পাড় যুক্ত হয়ে যায়। এর মাধ্যমে বহুল আলোচিত পদ্মা সেতুর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বড় কাজের সমাপ্তি হয়। পদ্মা সেতুতে প্রথম স্প্যান বসানোর পর বাকি ৪০টি স্প্যান বসাতে তিন বছর দুই মাস লাগে।

কংক্রিটের স্ল্যাব বসানোর মাধ্যমে পদ্মা সেতু সড়কপথ দিয়ে যুক্ত হয় ২০২১ সালের ২৩ আগস্ট। ২ হাজার ৯১৭টি কংক্রিটের স্ল্যাব জোড়া দিয়ে মূল সেতুর যানবাহনের পথ তৈরি করা হয়। প্রতিটি স্ল্যাব ২২ মিটার লম্বা এবং ২ মিটারের কিছু বেশি চওড়া। যান চলাচল উপযোগী করে তুলতে সেতুতে পিচঢালাইয়ের কাজ শুরু হয়েছিল ২০২১ সালের ১০ নভেম্বর। পিচঢালাইয়ের কাজ শেষ হয় গত ২৯ এপ্রিল।

পদ্মা সেতুতে ল্যাম্পপোস্ট বসানোর কাজ শুরু ২০২১ সালের ২৫ নভেম্বর। মোট ৪১৫টি ল্যাম্পপোস্ট বসানো হয়েছে। এর মধ্যে মূল সেতুতে ৩২৮টি, জাজিরা প্রান্তের সংযোগ পথে (ভায়াডাক্ট) ৪৬টি, মাওয়া প্রান্তের ভায়াডাক্টে ৪১টি ল্যাম্পপোস্ট বসানো হয়েছে। গত ১৮ এপ্রিল এসব ল্যাম্পপোস্ট ও এর মধ্যে বাতি লাগানোর কাজ শেষ হয়। এরপর পুরো সেতুতে কেবল (তার) টানা হয়েছে। প্রথমবারের মতো সেতুতে পরীক্ষামূলক বাতি জ্বালানো হয় ৪ জুন।

সেতু নির্মাণে কর্মযজ্ঞ:-

পদ্মা সেতুর নদীশাসনে প্রায় ২ কোটি ১৭ লাখ জিও ব্যাগ ব্যবহার হয়েছে। এর কোনোটির ওজন ৮০০ কেজি। কিছু আবার ১২৫ কেজির। এসব জিও ব্যাগে বালু ভরে নদীর তলদেশে ফেলা হয়েছে। নদীতে পাথর ফেলা হয়েছে প্রায় সোয়া ১০ লাখ ঘনমিটার। নির্মাণকাজে মোট বালু ব্যবহার করা হয়েছে প্রায় ৬৫ লাখ ঘনমিটার। মূল সেতু ও সংযোগ সড়ক নির্মাণে রডের ব্যবহার হয়েছে ১ লাখ ৮ হাজার টন। এসব রডের সবই দেশীয়। এক টন করে এই রড যদি লম্বালম্বি রাখা হয়, তাহলে পদ্মা সেতুতে ব্যবহৃত রডের মোট দৈর্ঘ্য দাঁড়াবে ১ হাজার ২৯৬ কিলোমিটার। মূল সেতু, নদীশাসন ও সংযোগ সড়ক নির্মাণে সিমেন্ট ব্যবহার করা হয়েছে প্রায় সাত লাখ টন। পদ্মা সেতুতে ২৬২টি ইস্পাত বা স্টিল ও ৩২টি রডের পাইল ব্যবহার করা হয়েছে। ইস্পাতের পাইলের প্রতিটির ব্যাস তিন মিটার, যা একতলা ভবনের উচ্চতার সমান। নদীর তলদেশে সর্বোচ্চ ১২৫ দশমিক ৫ মিটার বা ৪১১ দশমিক ৫০ ফুট গভীরে ইস্পাতের পাইলগুলো বসানো হয়েছে। সেতুতে ইস্পাত ও রডের মিলিয়ে ২৯৪টি পাইল বসানো হয়েছে। সেতুতে মোট স্প্যান রয়েছে ৪১টি। প্রতিটি স্প্যানের দৈর্ঘ্য ১৫০ মিটার। স্প্যানগুলোর মোট দৈর্ঘ্য ৬ হাজার ১৫০ মিটার বা ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার। প্রতিটি স্প্যানের ওজন ৩ হাজার ২০০ টন।

একনজরে পদ্মা সেতু:-

প্রকল্পের অবস্থান: রাজধানী ঢাকা থেকে প্রায় ৪০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে। দেশের মুন্সিগঞ্জ, শরীয়তপুর ও মাদারীপুর জেলায় প্রকল্পের অবস্থান। সেতুর উত্তর প্রান্তে মাওয়া, লৌহজং, মুন্সিগঞ্জ এবং দক্ষিণ প্রান্তে জাজিরা, শরীয়তপুর, শিবচর ও মাদারীপুর।

প্রকল্পের নাম : পদ্মা বহুমুখী সেতু প্রকল্প।

সেতুর মোট খরচ : ৩০ হাজার ১৯৩ কোটি টাকার পুরোটাই অর্থ বিভাগ থেকে ঋণ নিয়েছে সেতু কর্তৃপক্ষ। এই টাকা ৩৬ বছরে শোধ করতে হবে।

প্রকল্পের মেয়াদ : ১ জানুয়ারি ২০০৯ থেকে ৩০ জুন ২০২৩।

মূল সেতুর ঠিকাদার : পদ্মা সেতু নির্মাণে চুক্তিবদ্ধ কোম্পানির নাম চায়না রেলওয়ে গ্রুপ লিমিটেডের আওতাধীন চায়না মেজর ব্রিজ কোম্পানি।

মূল চুক্তিমূল্য : ১২ হাজার ১৩৩ কোটি ৩৯ লাখ ৩০ হাজার টাকা।

কাজ শুরু : ২৬ নভেম্বর, ২০১৪।

চুক্তি অনুযায়ী কাজ সমাপ্তির তারিখ : ২৫ নভেম্বর, ২০১৮। পরে কয়েক ধাপে সময় বাড়ানো হয়।

কাজের মূল সময়সীমা : ৪৮ মাস। বর্ধিত সময় ৪৩ মাস।

কাজ সমাপ্তির পুনর্নির্ধারিত তারিখ : ৩০ জুন, ২০২২ (বর্ধিত সময়সহ)।

এ পর্যন্ত কাজের ভৌত/বাস্তব অগ্রগতি : ৯৮ শতাংশ।

রেল সংযোগ : পদ্মা সেতুতে রেললাইন স্থাপন হচ্ছে স্প্যানের মধ্য দিয়ে।

অফিশিয়াল নাম : পদ্মা সেতু।

নকশা : আমেরিকান মাল্টিন্যাশনাল ইঞ্জিনিয়ারিং ফার্ম এইসিওএমের (AECOM) নেতৃত্বে আন্তর্জাতিক ও জাতীয় পরামর্শকদের নিয়ে গঠিত একটি দল।

ধরন : পদ্মা সেতুর ধরন দ্বিতলবিশিষ্ট।

প্রধান উপকরণ : কংক্রিট ও স্টিল।

রক্ষণাবেক্ষণ : বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ।

দৈর্ঘ্য : পদ্মা সেতুর দৈর্ঘ্য ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার।

প্রস্থ : পদ্মা সেতুর প্রস্থ হবে ৭২ ফুট, এতে রয়েছে চার লেনের সড়ক। মাঝখানে রোড ডিভাইডার।

ভায়াডাক্ট : পদ্মা সেতুর ভায়াডাক্ট ৩ দশমিক ১৮ কিলোমিটার।

ভায়াডাক্ট পিলার : ৮১টি।

পানির স্তর থেকে উচ্চতা : ৬০ ফুট।

পাইলিং গভীরতা : ৩৮৩ ফুট।

মোট পিলার : ৪২টি।

মোট পাইলিং : ২৮৬টি।

সংযোগ সড়ক : পদ্মা সেতুর সংযোগ সড়ক দুই প্রান্তে (জাজিরা ও মাওয়া) ১৪ কিলোমিটার।

মোট লোকবল : পদ্মা সেতু প্রকল্পে কাজ করছে প্রায় চার হাজার মানুষ।

প্রবৃদ্ধি বাড়বে : ১ দশমিক ২ শতাংশ।

নদীশাসন : প্রকল্প এলাকায় প্রায় ১৪ কিলোমিটার নদীশাসন করতে হচ্ছে। এর মধ্যে মাওয়া এলাকায় ১ দশমিক ৬ কিলোমিটার এবং বাকি ১২ দশমিক ৪০ কিলোমিটার জাজিরা এলাকায়।

ঠিকাদারের নাম : সিনোহাইড্রো করপোরেশন লিমিটেড চায়না।

চুক্তিমূল্য : ৮ হাজার ৭০৭ কোটি ৮১ লাখ টাকা।

ভূমি অধিগ্রহণ : ভূমি অধিগ্রহণের পরিমাণ ২ হাজার ৬৯৩ দশমিক ২১ হেক্টর।

অ্যাপ্রোচ রোড : জাজিরা ও মাওয়া।

সেতু পাড়ে বৃক্ষরোপণ : লক্ষ্যমাত্রা প্রায় ৪ লক্ষাধিক।

পদ্মা সেতু জাদুঘর স্থাপন : পদ্মা বহুমুখী সেতু নির্মাণ প্রকল্প ও প্রাণিবিদ্যা বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে সম্পাদিত চুক্তির আওতায় ‘পদ্মা সেতু জাদুঘর প্রতিষ্ঠা’র জন্য নমুনা সংগ্রহ ও সংরক্ষণের কাজ চলমান আছে।

জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও অভয়ারণ্য ব্যবস্থাপনা কর্মসূচি : পদ্মা সেতু বন্য প্রাণী অভয়ারণ্য ঘোষণা সম্পন্ন হয়েছে এবং গেজেট প্রকাশিত হয়েছে। ‘খসড়া ম্যানেজমেন্ট প্লান’ চূড়ান্তকরণের কাজ চলমান।

এই রকম আরও খবর দেখুন

সর্বশেষ আপডেট

অ্যার্কাইভ ক্যালেন্ডার
সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
২৯৩০৩১