রাজশাহীতে মোবাইল ব্যাংকিং হ্যাক করে ৮৩ হাজার টাকা চুরি

নিজস্ব প্রতিনিধি: রাজশাহীতে ডাচ বাংলা ব্যাংকে একাউন্টে আছে লতিফুর রহমান নামে এক যুবকের। অনেক কষ্টের উপার্জনের অর্থ। সম্প্রতি ডিজিটাল প্রতারনার শিকার হয়েছে তার অ্যাকাউন্ট থেকে ৮৩ হাজার টাকা খোয়া গেছে। ২৬ আগস্ট এ ঘটনা ঘটে। তবে ওই গ্রহক বিষয়টি জানতে পারে রোববার (২৭ আগস্ট)। লতিফুর রহমানের বাড়ি রাজশাহীর পবা উপজেলার নওহাটায়। গ্রহক লতিফুর রহমান জানান, ২৬ আগস্ট তার কাছে ডাচ-বাংলা ব্যাংকের কাস্টমার কেয়ারের পরিচয়ে ০১৮৮৩০৪৯৪৮২ নম্বর থেকে ফোন আসে। ওই নম্বর দেখে তার সন্দেহ হয়। ফোন করা ব্যক্তিকে সে জানায় যে এটা তো ডাচ-বাংলা ব্যাংকের কাস্টমার কেয়ারের নম্বর নয়। ওই সময় ফোন করা ব্যক্তিটি জানায় যে, স্যার কাস্টমার কেয়ারের নম্বরটি ব্যস্ত থাকে তাই এ নম্বরে ফোন দেয়া হয়েছে। তিনি ওই নম্বরে তথ্য দিতে অস্বীকার করায় ফোন করা ব্যক্তিটি জানায় যে আপনাকে কিছুক্ষণের মধ্যে কাস্টমার কেয়ারের নম্বর থেকে ফোন করা হবে। ফোনটি রেখে দেয়ার কিছুক্ষণের মধ্যে ডাচ-বাংলা ব্যাংকের কাস্টমার কেয়ারের নম্বর (১৬২১৬) থেকে তার ফোনে রিং আসে। এসময় তিনি আবার সেই ফোন ধরেন। এসময় বিপরীত দিক থেকে কথা বলা মানুষটি তাকে বলে যে, স্যার এবার বিশ্বাস হয়েছে তো যে ডাচ-বাংলা ব্যাংক থেকে ফোন করা হয়েছে? নম্বরটি দেখে লতিফুর রহমানের বিশ্বাস হয় যে এটি ডাচ-বাংলা ব্যাংক থেকে ফোন করা হয়েছে।
এরপরে তাকে বলা হয় যে, তার যে অ্যাকাউন্টটি আছে তার বন্ধ হয়ে আছে। কিছু টেকনিক্যাল সমস্যার কারণে এ সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। আমরা সেটি ঠিক করছি। এরপরেই তার নাম, পিতার নাম, জন্ম তারিখ জানতে চাওয়া হয়। ডাচ-বাংলা ব্যাংকের কাস্টমার কেয়ারের নম্বর বলে তিনি সব প্রশ্নের উত্তর দেয়। এরপরে কাস্টমার কেয়ারের পরিচয়ে ব্যক্তিটি জানায় যে আপনার অ্যাকাউন্ট ঠিক করা হচ্ছে কিছুক্ষণ পরে আপনাকে আবার ফোন দেয়া হবে।
লতিফুর রহমান জানান, আবার ১০ মিনিট পর কাস্টমার কেয়ার থেকে ফোন দেয়া হয়। এবার বলে *৩২২# (ডাচ-বাংলা ব্যাংকের অ্যাকাউন্টে প্রবেশের কোড) তে প্রবেশ করতে। কাস্টমার কেয়ারের ফোন বলে তিনি *৩২২# নম্বরে প্রবেশ করে। এরপরে তাকে জন্ম তারিখ কয়েকবার সেন্ড করতে বলেন। তিনি তাই করেন। এবার তাকে বলা হয় যে, তাকে বলা হয় যে আপনাকে কিছু কোড বলা হচ্ছে সেগুলো আপনি লিখে সেন্ড করবেন। প্রথম কোড বলা হয় ৯৯৯৯। তারপর বলা হয় ২৪২৭৫। তারপর ৩০০০০। এভাবে আরো কয়েকটি কোড নম্বর। কোড নম্বরগুলো সেন্ড করার পরে বলা হয় যে, আপনার অ্যাকাউন্ট ঠিক হয়ে গেছে। এ ভাবে ৭/৮ বারে মোবিক্যাশ, সেন্ডমানি ও বুথ থেকে টাকা উত্তোলন করা হয়।
পরের দিন তার ফোনে ০১৭৪৬১২৯২৬০ নম্বর থেকে ফোন আছে। ফোনে তাকে পরিচয় দেয়া হয় যে, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ থেকে তাকে রিং দেয়া হয়েছে। কারণ জানতে চাইলে ফোনে বিপরীত দিকের ব্যক্তিটি প্রশ্ন করেন, আপনার অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। বিষয়টি কি আপনি জানেন? এরপরেই অ্যাকাউন্ট হ্যাক করে টাকা উত্তোলনের বিষয়টি তার কাছে পরিষ্কার হয়।
এরপরেই লতিফুর রহমান তার অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা উত্তোলন করতে যায় তখন জানতে পারেন যে অ্যাকাউন্টে ৮৫ হাজার টাকার মধ্যে আছে মাত্র দুই হাজার টাকা। অ্যাকাউন্টের ৮৩ হাজার টাকাই গায়েব। ব্যাংকে খোঁজ নিয়ে জানতে পারে যে, ২৬ আগস্ট তার অ্যাকাউন্ট থেকে মোবিক্যাশের মাধ্যমে ৯ হাজার ৯৯৯ টাকা, সেন্ড মানির মাধ্যমে ২৪ হাজার ২৭৫ টাকা, এটিএম বুথের মাধ্যমে ৩০ হাজার টাকাসহ মোট ৮৩ হাজার টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। অ্যাকাউন্ট ঠিক করার সময় তারা যে কোডগুলো সেন্ড করতে বলেছিলেন সেগুলোই হচ্ছে বিভিন্ন মাধ্যমে টাকা হাতিয়ে নেয়ার পরিমান।
লতিফুর রহমান বলেন, বিষয়টি জানতে পেরে আমি ডাচ-বাংলা ব্যাংকের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। সেখানে বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক ও প্রশাসনের কাছে অভিযোগ দিতে বলেছেন।

এই রকম আরও খবর দেখুন

সর্বশেষ আপডেট

অ্যার্কাইভ ক্যালেন্ডার
সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০৩১