রাজশাহীর বিভিন্ন থানায় বিএনপির নামে পুলিশের ‘গায়েবি’ মামলা

রাজশাহীর বিভিন্ন থানায় বিএনপির নামে পুলিশের 'গায়েবি' মামলা

স্টাফ রিপোর্টার : রাজশাহীর বিভাগীয় গণসমাবেশ আগামী ৩ ডিসেম্বর। বিএনপির নেতারা দাবি করছেন, এই সমাবেশ ঠেকাতে সব থানায় শুরু হয়েছে নেতাকর্মীর নামে গায়েবি মামলা। পুলিশের দাবি, নাশকতা সৃষ্টির দায়েই মামলা হচ্ছে। গত রোববার রাতে নাশকতার দায়ে পুঠিয়া থানার সরগাছি এলাকার উপজেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি খোরশেদ আলমকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
রোববার রাতে পুঠিয়া উপজেলার মোল্লাপাড়ায় ককটেল বিস্টেম্ফারণের অভিযোগে থানার এসআই জীবন চন্দ্র সাহা বাদী হয়ে ১৫ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতপরিচয় আরও ১৮০ জনকে আসামি করে একটি মামলা করেন। অভিযোগে বলা হয়েছে, বিএনপির নেতাকর্মীরা সংঘবদ্ধ হয়ে মোল্লাপাড়ায় ককটেল বিস্ফোরণ করে আতঙ্ক সৃষ্টি করে। এ ঘটনার মামলায় বিএনপির নেতাকর্মীকে আসামি করা হয়েছে।

পুঠিয়া থানার ওসি সোহরাওয়ার্দী হোসেন বলেন, ‘বিএনপি নেতা-কর্মীরা রাতে আতঙ্ক সৃষ্টি করতে বৃষ্টির মতো ককটেল ফোটাতে থাকে। পুলিশ এ ঘটনায় খোরশেদ আলমকে গ্রেপ্তার করে। অন্যরা পালিয়ে যায়।

পুঠিয়ার শীলমাড়িয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি হাবিবুর রহমান বলেন, ‘রোববার রাত ১২টার দিকে পুলিশ এসে কয়েকটি ককটেল ফোটায়। পরে মামলা দিয়ে বিএনপির এই সাবেক নেতাকে ধরে নিয়েছে। অনেকের নামে মামলা দিয়েছে। তবে বিএনপির কেউ পটকা ফোটায়নি।’

একই রাতে রাজশাহীর দুর্গাপুর ডিগ্রি কলেজে ককটেল বিস্ফোরণ করে বিএনপি নেতাকর্মীরা। দুর্গাপুর থানার ওসি নাজমুল হক বলেন, রোববার রাত সাড়ে ৯টার দিকে ডিগ্রি কলেজের সামনে পুলিশকে দেখেই বিএনপি নেতাকর্মীরা ককটেল ছুঁড়তে থাকে। এ ঘটনায় এসআই জাহাঙ্গীর আরিফ বাদী হয়ে ১৫ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতপরিচয় আরও ১৭০ জনকে আসামি করে মামলা করেছেন। পুলিশ আসামি গ্রেপ্তারের চেষ্টা করছে।

এদিকে, চারঘাট থানার ওসি মাহবুবুল আলম জানান, প্রায় এক মাস আগে চারঘাট থানায় বিএনপি নেতাকর্মীর নাশকতার ঘটনায় একটি মামলা হয়েছে। চারঘাটের শলুয়ায় নাশকতা সৃষ্টির ঘটনায় ৬১ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতপরিচয় আরও ৭০ জনকে আসামি করে মামলা করা হয়েছে। কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়নি।

এ ছাড়া গত ১৬ নভেম্বর রাতে গোদাগাড়ী থানার সরমংলা হেলিপ্যাড এলাকায় পুলিশের ওপর ককটেল হামলার ঘটনায় পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতপরিচয় আরও ২০০ জনকে আসামি করে মামলা করা হয়েছে। এসআই মিজান বাদী হয়ে মামলাটি করেন। এজাহারে বলা হয়েছে, রাত সাড়ে ৯টার দিকে সরমংলা এলাকায় পুলিশের টহল গাড়িতে আসামিরা ককটেল নিক্ষেপ করে। পরে সেখান থেকে ককটেল ও দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। আসামিদের মধ্যে রয়েছেন পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রহমান বিপ্লব, নাফিউল নাহিদ, আব্দুল্লাহ, সজল ও নুর আলম। তারা সবাই বিএনপি নেতাকর্মী।

গোদাগাড়ীর ওসি কামরুল ইসলাম বলেন, পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। এ হামলার প্রত্যক্ষদর্শী রয়েছে।

এ বিষয়ে রাজশাহী জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবু সাঈদ চাঁদ বলেন, ‘৩ ডিসেম্বরের গণসমাবেশ বন্ধ করতে প্রতিটি থানায় মিথ্যা গায়েবি মামলা করা হচ্ছে। পুলিশ নিজেরাই গুলি ও ককটেল ফাটিয়ে বিএনপি নেতাকর্মীর নামে মামলা দিচ্ছে। এসব মামলা থেকে বাঁচতে নেতাকর্মীরা আত্মগোপনে থেকে কাজ করছেন। গণসমাবেশ সফল হবে।

এই রকম আরও খবর দেখুন

সর্বশেষ আপডেট

অ্যার্কাইভ ক্যালেন্ডার
সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০