রাজশাহী মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের আহ্বায়ক কামাল হোসেন রবির বিরুদ্ধে টাকা লুটপাটের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিনিধি: রাজশাহী জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের আহ্বায়ক কামাল হোসেন রবির বিরুদ্ধে প্রায় কোটি টাকা লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। সংগঠনটির আগের কমিটির সাধারণ সম্পাদক মাহাতাব হোসেন চৌধুরী সংবাদ সম্মেলন করে এই অভিযোগ তুলেছেন। তিনি বলেছেন, সভাপতির দায়িত্বে থাকাকালে কামাল হোসেন রবি সংগঠনের প্রায় কোটি টাকা আত্মসাত করেছেন। এখন আহ্বায়কের পদে আসীন হয়ে একই কায়দায় শ্রমিকদের টাকা লুটপাট করছেন। মঙ্গলবার রাতে নগরীর টিকাপাড়ায় মাহাতাব হোসেন চৌধুরী তার ব্যক্তিগত কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে এসব অভিযোগ তুলে ধরেন।
লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, কামাল হোসেন রবি সভাপতি থাকাকালে শিরোইল বাস টার্মিনালের দোতলা একটি ভবন জমিসহ এক কোটি টাকায় বিক্রি করেন। হাসেন আলী নামে এক ব্যক্তি এই সম্পত্তি কেনেন। হাসেন আলী দুটি চেকের মাধ্যমে এই টাকা পরিশোধ করেন। এর মধ্যে একটি চেকে দেয়া হয় ৩০ লাখ এবং অপরটিতে ৭০ লাখ। এরপর কামাল হোসেন রবি ভবন বিক্রির রেজুলেশন করলে তিনিসহ অন্য শ্রমিক নেতারা আদালতে গিয়ে হাসেন আলীকে জমির দলিল করে দিয়ে আসেন। কিন্তু পরবর্তীতে কামাল হোসেন রবি দাবি করেন, হাসেন আলী তাকে ৭০ লাখ টাকার যে চেকটি দিয়েছিলেন, সেটিতে ত্রুটি দেখিয়ে তিনি আবার ফেরত নিয়েছেন। এ ঘটনায় কামাল হোসেন রবি আইনজীবীর মাধ্যমে উকিল নোটিশও পাঠান হাসেন আলীর কাছে। মাহাতাব হোসেন বলেন, রবির চেক ফেরত দেয়ার এমন দাবি সম্পূর্ণ যুক্তিহীন। এতো টাকার চেক কেউ কখনো ফেরত দেন না। রবি এখন শুধু এই ৭০ লাখ টাকা আত্মসাত করেই ক্ষান্ত হননি, উল্টো হাসেন আলীর কাছ থেকেও আরও ৭০ লাখ টাকা আদায়ের জন্য তাকে হেনস্থা করছেন। সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের হাসপাতালের নামে প্রতি গাড়ি থেকে প্রতিদিন ২০ টাকা করে নেয়া হয়। তাতে প্রতিমাসে গড়ে প্রায় এক লাখ ২০ হাজার টাকা আদায় হয়। গত ৬ বছরে আদায় হয়েছে প্রায় ৮৬ লাখ ৪০ হাজার টাকা। এ সমস্ত টাকা কামাল হোসেন রবির কাছেই আছে। শুধু তাই নয়, এই ৬ বছরে কাশিয়াডাঙা মোড়ে ট্রাক থেকে আদায় করা প্রায় ৬০ লাখ টাকা শ্রমিক ইউনিয়নের তহবিলে জমা দেয়া হয়নি। মাহাতাব হোসেন চৌধুরী বলেন, নওদাপাড়া বাস টার্মিনালে ৭টি দূরপাল্লার বাস মালিকদের কাছে ৭টি কাউন্টার বিক্রি করা হয়েছে। এ থেকে পাওয়া এক কোটি ৬০ লাখ টাকাও আহ্বায়ক রবির কাছে জমা আছে। অন্যদিকে ১৯৬ জন শ্রমিকের কাছে কার্ড বিক্রির টাকা জমা আছে রবির অনুসারি এখনকার যুগ্ম সম্পাদক মোমিনুল ইসলাম মোমিনের কাছে। এসব কার্ড প্রতিটি ১৯ হাজার টাকা করে বিক্রি করা হয়েছিল। সংবাদ সম্মেলনে আরও অভিযোগ করা হয়, নওদাপাড়া বাস টার্মিনালের সামনে মোস্তাক আহমেদ নামে এক ব্যক্তি মার্কেট নির্মাণ করছিলেন। এতে বাঁধা দিয়েছিলেন শ্রমিক নেতারা। তখন রবি এসব শ্রমিক নেতার নামে মোস্তাক আহমেদের কাছ থেকে ৩৬ লাখ টাকা নিয়েছেন। কিন্তু এই টাকা শ্রমিক ইউনিয়ন কিংবা ইউনিয়নের কোনো নেতাকেই দেয়া হয়নি। সব টাকা আত্মসাত করেছেন রবি। সংবাদ সম্মেলনে তুলে ধরা নানা অভিযোগের ব্যাপারে গতরাতে মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের আহ্বায়ক কামাল হোসেন রবির মুঠোফোনেও একাধিকবার ফোন করা হয়। তবে মুঠোফোন বন্ধ থাকায় তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। মাহাতাব হোসেন চৌধুরীর ওই সংবাদ সম্মেলনে শ্রমিক ইউনিয়নের ২১ সদস্য বিশিষ্ট আগের কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি মুকুল আলী, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. ফেরদৌস, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মো. সুলতান, যুগ্ম সম্পাদক সাইফুল ইসলাম, মো. গাজী, সড়ক সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ, প্রচার সম্পাদক আনোয়ার পারভেজ, সহ-দপ্তর সম্পাদক মেরাজুল ইসলাম, সদস্য আরমান আলী, আমজাদ হোসেন, আবদুর রশিদ, পারভেজ হোসেন, সোহেল রানা প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

এই রকম আরও খবর দেখুন

সর্বশেষ আপডেট

অ্যার্কাইভ ক্যালেন্ডার
সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০