শক্তি প্রয়োগ না করে পুলিশের ওপর জনগণের আস্থা ফেরাতে হবে

নিজস্ব প্রতিনিধি :শক্তি প্রয়োগ করলে পুলিশের ওপর জনগণের আস্থা নষ্ট হয়। তাই শক্তি প্রয়োগ না করে পুলিশের ওপর জনগণের আস্থা ফেরাতে হবে। দেশে ভীতিমুক্ত পুলিশি ব্যবস্থা সৃষ্টি করতে হবে। তা না করতে পারলে জনগণের সহযোগিতা পাওয়া যাবে না। কমিউনিটি পুলিশিং ভীতিমুক্ত পুলিশ ব্যবস্থা সৃষ্টি করতে সহযোগিতা করছে।তারা না থাকলে হয়তো এতো সহজে দেশ থেকে জঙ্গিবাদ দমন করা সম্ভব হতো না শনিবার দুপুরে রাজশাহীতে পুলিশের কমিউনিটি পুলিশিং ডে পালন উপলক্ষে আয়োজিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পুলিশের বিশেষায়িত ফোর্স র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব) মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ এ কথা বলেন। শনিবার দুপুরে রাজশাহী মহানগর পুলিশ (আরএমপি) এই সমাবেশের আয়োজন করে।

সমাবেশে বেনজীর আহম্মেদ কমিউনিটি পুলিশিং সম্পর্কে তিনি বলেছেন,৭০ এর দশকে আমেরিকান পুলিশ কমিউনিটি পুলিশিং তৈরি করে। ১৮২৯ সালে লন্ডন মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিউনিটি পুলিশিং সৃষ্টি করেছিল। আমাদের অপরাধমুক্ত দেশ ও সমাজ গঠনে কাজ করতে হবে। যাতে রাত হোক নারী ও শিশুর যেনো বাড়ি ফিরে যেতে কোন সমস্যায় না পড়েন। এ জন্য এ কার্যক্রমকে আরও জোরদার করতে হবে।

র‌্যাব প্রধান আরও বলেন, স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে দেশে মোট চারবার জঙ্গিদের উত্থান হয়েছে। এ জঙ্গিবাদ আমাদের দেশের নয়। অন্যদেশ থেকে আমদানি। তবে প্রতিবারই জনগণকে সাথে নিয়ে জঙ্গিবাদ নির্মুল করা হয়েছে। এবারও প্রধানমন্ত্রীর কঠোর অবস্থানের কারণে জনগণকে সাথে নিয়েই জঙ্গিদের নির্মূল করা হয়েছে। এতে বিশ্ববাসী অবাক হয়েছে।

র‌্যাব মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ বলেন, জঙ্গিবাদ একটি বৈশ্বিক সমস্যা। কেবল বাংলাদেশই নয়, গোটা বিশ্বই এখন জঙ্গিবাদে আক্রান্ত। এর পরও জঙ্গিবাদ বাংলাদেশের বিরুদ্ধে একটি ষড়যন্ত্র। বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে হুমকির মুখে ফেলতে বিভিন্ন দেশ ও গোষ্ঠি জঙ্গিবাদকে যুগে যুগে এখানে ছড়ানোর অপচেষ্টা করেছে।

রাষ্ট্রিয় ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য জঙ্গিবাদকে সিঁড়ি হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পর্যন্ত জঙ্গি হামলার শিকার হয়েছেন। গুলশানের হলিআর্টিজনে হামলা ও তার পরবর্তি দেশব্যাপী জঙ্গি তৎপড়তাগুলো ছিল সর্বশেষ চেষ্টা। এর মধ্যে দিয়ে দেশী-বিদেশি ষড়যন্ত্রকারী ও বর্হিবিশ্ব মনে করেছিল এবার বুঝি বাংলাদেশ এই জঙ্গিবাদের গ্যাঁড়াকল থেকে আর কোনোভাবেই বের হতে পারবেনা। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিচক্ষণতা ও দূরদর্শীতা এবং আপনাদের মত প্রতিটি সাধারণ মানুষের সহযোগিতায় আজ বাংলাদেশ থেকে আমরা জঙ্গিবাদ প্রায় নির্মূলের পথে রয়েছি।

বেনজীর আহমেদ বলেন, এখন থেকে ঘটনা ঘটে যাওয়ার আগেই জঙ্গি-সন্ত্রাসীদের সমূলে নির্মুল করা হবে। সাধারণ মানুষের কাছ থেকেই তথ্য নিয়ে তাদের সহযোগীতায় এ কার্যক্রম পরিচালিত হবে। পুলিশ এবং র‌্যাব তাদের সর্বোচ্চ সামর্থ্য দিয়ে অপরাধমুক্ত দেশ গড়ে তোলার কাজ করছে। একে বারে অপরাধমুক্ত করা না গেলেও আগামী ৪১ সালের মধ্যে কাছাকাছি যেতে পারবো বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

বেনজীর আহমেদ বলেন, আমরা অপরাধ মুক্ত সমাজ চাই, আমরা অপরাধ মুক্ত রাষ্ট্র চাই। যে রাষ্ট্রের যে কোনো স্থানে রাত বা দিন, যে কোনো সময় একজন নারী বাইরে বের হলে নিজেকে নিরাপদ মনে করতে পারে। একটি শিশু যেন দেশের যে কোনো প্রান্তে গিয়ে মাঠে-ঘাটে বসেও নিরাপদ বোধ করতে পারে। এই নিরাপদ বোধই হলো আমাদের লক্ষ্যমাত্রা। আর এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে হলে কেবল পুলিশ বা রাষ্ট্র একা নয় প্রতিটি সাধারণ নাগরিককেই এগিয়ে আসতে হবে। আপনারা সবাই নিজ নিজ অবস্থান থেকে এগিয়ে আসবেন এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

কমিউনিটি পুলিশিংয়ের মাধ্যমে আমরা প্রতিটি নাগরিকের কাছে পৌঁছাতে চাই। তেমনি আপনাদেরও দায়িত্ব হচ্ছে সমাজবোধ নিয়ে প্রতিটি ক্ষেত্রে আমাদের সহযোগিতা করা। আমরা ক্ষুধা, দারিদ্র মুক্ত একটি আত্মসম্মান সম্পন্ন জাতি ও দেশ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে চাই। একই সঙ্গে বাংলাদেশ থেকে সকল ধরনের অপরাধ, অন্যায় ও সন্ত্রাসবাদকে আমরা সমূলে ধ্বংস করতে চাই। আমরা এই কমিউনিটি পুলিশিংয়ে ১৬ কোটি মানুষের সহযোগিতা চাই।

রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মো. মাহবুবর রহমানের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন, রাজশাহী-৫ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল ওয়াদুদ দারা, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক আবদুস সোবহান, মহানগর কমিউনিটি পুলিশিং কমিটির আহবায়ক প্রফেসর আব্দুল খালেক, মহানগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি শাহীন আক্তার রেনী, সাধারণ সম্পাদক ডাবলু সরকার, মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও রাজপাড়া থানা কমিউনিটি পুলিশিং কমিটির সভাপতি আজিজুল আলম বেন্টু, রাজশাহী চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ড্রাস্টির সভাপতি মনিরুজ্জামান মনি প্রমূখ।

অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, রাজশাহী-৩ আসনের সংসদ সদস্য আয়েন উদ্দিন, আরএমপির অতিরিক্ত কমিশনার সরদার তমিজ উদ্দিন আহম্মেদ, র‌্যাব-৫ এর অধিনায়ক লেফটেনেন্ট কর্ণেল মাহবুব আলম, রাজশাহী কলেজের অধ্যক্ষ হবিবুর রহমান প্রমূখ।

অনুষ্ঠান শেষে রাজশাহী শ্রেষ্ঠ কমিউনিটি পুলিশিং অফিসার হিসেবে এসআই নাসির, এসআই সেলিম ও কমিউনিটি পুলিশিং সভপতি আজিজুল আলম বেন্টুকে ক্রেষ্ট প্রদান করে সম্মাননা দেয়া হয়। পরে মাদক ব্যবসা পরিত্যাগকারিদের মাঝে রিকশা ভ্যান ও সেলাই মেশিন দেয়া হয়। এর মধ্যে ২ নারীকে সেলাই মেশিন ও ১০ জনকে রিকশা ভ্যান দেয়া হয়েছে।

এর আগে সকালে বেলুন উড়িয়ে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন র‌্যাবের মহাপরিচালক। পরে ‘পুলিশই জনতা, জনতাই পুলিশ’ স্লোগানে শহীদ এ.এইচ.এম কামারুজ্জামান কেন্দ্রীয় উদ্যান ও চিড়িয়াখানা চত্বর এলাকা থেকে একটি বর্ণাঢ্য আনন্দ র‌্যালি বের করা হয়। এতে র‌্যাবের মহাপরিচালক ও সমাবেশের অতিথিরাসহ আরএমপির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশ নেন। নগরীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে র‌্যালিটি সমাবেশস্থলে গিয়ে মিলিত হয়।

এই রকম আরও খবর দেখুন

সর্বশেষ আপডেট

অ্যার্কাইভ ক্যালেন্ডার
সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
৩১