শহীদ কামারুজ্জামান কি জাতীয় পর্যায়ের নেতা হয়ে উঠতে পারবেন না ?

রাবি রিপোর্টার্স ইউনিটির ১৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আলোচনা সভায় এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাবি : শহীদ কামারুজ্জামান কি জাতীয় পর্যায়ের নেতা হয়ে উঠতে পারবেন না? বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ সহচররা কি কেউই আঞ্চলিকতার গন্ডি থেকে বের হয়ে জাতীয় পর্যায়ের নেতা হয়ে উঠবেন কবে? রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে রিপোর্টার্স ইউনিটির ১৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব প্রশ্ন রাখেন শহীদ জাতীয় নেতার পুত্র ও সাবেক রাসিক মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন। মঙ্গলবার বেলা ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিনস কমপ্লেক্স ভবনের সম্মেলন কক্ষে ‘জাতীয় নেতা শহীদ কামারুজ্জামান ও রাজশাহীর গণমাধ্যম’ শীর্ষক এ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

আলোচনা সভায় খায়রুজ্জামান লিটন আরও বলেন, শহীদ কামারুজ্জামান শুধু রাজশাহীর নয়, জাতীয় পর্যায়ের অসংখ্য পত্রিকা প্রর্বতনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ভাষা আন্দোলনের পর থেকে তার পিতার হাতে প্রবর্তিত সাপ্তাহিক ‘প্রবাহ’ থেকে শুরু করে সর্বশেষ বাকশাল গঠনের আগে ‘জনপদ’ পত্রিকার প্রাণ পুরুষ ছিলেন তিনি। জনপদ পত্রিকা এখনও ঢাকা থেকে প্রকাশিত হয়। তিনি মুক্তিযুদ্ধের সময় প্রকাশিত ‘বাংলার কথা’ পত্রিকাটি প্রকাশেও অবদান রাখেন।

তিনি আরও বলেন, শহীদ কামারুজ্জামান যে শুধু রাজনীতি নয়, গণমাধ্যমেও ভূমিকা রেখেছেন এটা অনেকেই জানে না। এমনকি আওয়ামী লীগের অধিকাংশ নেতাই জানে না। কারণ ১৯৭৫ এর ১৫ মার্চ ও ৩ নভেম্বরের ঘটনার পর এদেশে দীর্ঘ সময় স্বাধীনতার বিপক্ষের অপশক্তিরা মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে আড়ালে রেখে বিকৃত করে তরুণ প্রজন্মের কাছে উপস্থাপন করেছে। মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস ধারণ করে সেই সব অপশক্তির বিরুদ্ধে লড়াই করতে হবে তরুণ প্রজন্মকে।

 

 

আলোচনা সভার মূল আলোচক ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক চিত্তরঞ্জন মিশ্র। তাঁর আলোচনায় তিনি বলেন, জাতীয় নেতা শহীদ কামারুজ্জামানের সঙ্গে রাজশাহীর গণমাধ্যম কথাটি ঠিক যায় না। তাকে নিয়ে এ বিষয়ে কথা বলতে হলে আরও বৃহৎ পরিসওে যেতে হয়। আমাদের কথা বলা উচিৎ বাংলাদেশের গণমাধ্যমে শহীদ কামারুজ্জামানের অনন্য ভূমিকা নিয়ে। কেননা বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের সংগে জড়িত অনেক পত্রিকার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তাঁর পিতার প্রবর্তিত সাপ্তাহিক ‘প্রবাহ’ ভাষা আন্দোলনের কথা বলেছে, যা পরবর্তীতে ‘রাজশাহীর বার্তা’ নামে এ অঞ্চলের মানুষের কণ্ঠস্বর হয়ে যায়। ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের সময় এ অঞ্চলের মানুষকে মুক্তিযুদ্ধে সম্পৃক্ত করেছে যে পত্রিকা, ‘দৈনিক সোনার দেশ’ তা প্রকাশে উদ্যোগ নেন কামারুজ্জামানের সহধর্মিনী জাহানারা কামরুজ্জামান।
তিনি আরও বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সময়ে যে ৬৪টি পত্রিকা প্রকাশিত হত, সেগুলোতে অবদান রেখেছেন শহীদ কামারুজ্জামান। মুক্তিযুদ্ধের সময় প্রকাশিত হত ‘বাংলার কথা’ পত্রিকা। পত্রিকাটি মুক্তিযদ্ধের সংবাদ প্রকাশ কওে স্বাধীনতা যুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছিল। এ পত্রিকাটি প্রকাশে অবদান রেখেছেন।

 

 

রাবি রিপোর্টার্স ইউনিটির সাবেক সভাপতি মেহেরুল সুজনের সঞ্চালনায় সভায় আরও বক্তব্য দেন সিটিএম হাসপাতালের চেয়ারম্যান চৌধুরী মাহমুদুর রহমান। সভায় মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন রিপোর্টার্স ইউনিটির সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক গোলাম মোস্তফা এবং ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক হোসাইন মিঠু। এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন রাবি ছাত্রলীগ সভাপতি গোলাম কিবরিয়া, সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল আহমেদ রুনু, রুয়েট ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক চৌধুরী মাহফুজুর রহমান প্রমূখ।
এর আগে মঙ্গলবার সকাল সাড়ে নয়টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের রাকসু ভবনে রিপোর্টার্স ইউনিটির কার্যালয়ে কেক কেটে ও ফেস্টুন উড়িয়ে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদ্বোধন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক আনন্দ কুমার সাহা। এরপর রাকসু ভবনের সামনে থেকে একটি র‌্যালি বের হয়ে ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিনস্ কমপ্লেক্সের সামনে গিয়ে শেষ হয়। পরে সকাল সাড়ে ১০টায় ডিনস কমম্লেক্সের সম্মেলন কক্ষে উদ্বোধনী আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
আলোচনার সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন রাজশাহী এক আসনের সাংসদ ও সাবেক রাকসু ভিপি ফজলে হোসেন বাদশা। তিনি বলেন, বাংলাদেশকে নিয়ে চক্রান্ত চলছে। বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িকতার বিষ বাষ্প ছড়িয়ে দিতে চক্রান্ত করা হচ্ছে। মুক্তিযদ্ধের স্বপক্ষের শক্তিগুলোর মধ্যে স্বাধীনতা বিরোধী অপশক্তিগুলোও ঢুকে যাচ্ছে। এখন আমাদের দায়িত্ব হবে স্বাধীনতার স্বপক্ষের সব শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে এই অপশক্তিদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর। গণমাধ্যমের কাজ হবে বস্তুনিষ্ঠ ভাবে মুক্তিযদ্ধের চেতনার ধারায় সাংবাদিকতা করা। বাংলাদেশে অসাম্প্রদায়িকতার ধারা অব্যাহত রাখতে সাংবাদিকরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার রাখেন।

 

রাবি রিপোর্টার্স ইউনিটির সাধারণ সম্পাদক হোসাইন মিঠুর সঞ্চালনায় সভায় আরও বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তর প্রশাসক অধ্যাপক প্রভাষ কুমার কর্মকার, ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. জান্নাতুল ফেরদৌস, রাজশাহী সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি কাজী শাহেদ, রাবি রিপোর্টার্স ইউনিটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক জয়শ্রী ভাদুরী। রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি কায়কোবাদ আল মামুন খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন সংগঠনটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক সৈকত মনির।
আলোচনা সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন প্রক্টর অধ্যাপক ড. লুতফর রহমান, সহকারী প্রক্টর শিবলী ইসলাম, যমুনা নিউজের রাজশাহী ব্যুরো চিফ শিবলী নোমান, বাংলাদেশ প্রতিদিন’র সাংবাদিক রফিকুল ইসলাম, সোনালী সংবাদের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মুহাম্মদ জামান কাদেরী, সাংবাদিক ইউনিয়নের সদস্য জাবেদ অপু প্রমূখ।
এর পর দুপুরে অভিজ্ঞতা বিনিময় ও সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সেখানে প্রধান অতিথি ছিলেন, প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক হাসান আজিজুল হক। তিনি বলেন, ‘সুন্দরবন বাংলাদেশের রক্ষাকবচ। সুন্দরবন যদি না না বাঁচে তাহলে বাংলাদেশও বাঁচবে না। সুন্দরবন থেকে রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র যতটা সম্ভব দূরে সরিয়ে নেয়া উচিৎ।
অনুষ্ঠানে হাসান আজিজুল হক আরও বলেন, পরিবেশবাদীরা রামপালকে সুন্দরবন থেকে সরিয়ে নিতে বলছেন, কারণ এতে সুন্দরবনের ক্ষয়ক্ষতি হবে। আবার সরকার আশ্বস্ত করে বলছে কিছু হবে না। জানিনা আসলে কিসে ক্ষতি হবে। তবে আমার ব্যক্তিগত অভিমত হল, যদি পারা যায় তাহলে রামপালকে যতটা সম্ভব সুন্দরবন থেকে দূরে সরিয়ে নেয়া উচিৎ।
অনুষ্ঠানে সুন্দরবনের জলদস্যুদের আত্মসমর্পনের উদ্যোক্তা ও এ নিয়ে দীর্ঘ প্রতিবেদনকারী যমুনা টিভির বিশেষ প্রতিনিধি মোহসীন উল হাকিম নিজের অভিজ্ঞতা বিনিময় করেন। এসময় রাবি রিপোর্টার্স ইউনিটির পক্ষ থেকে তাকে বিশেষ সম্মাননা দেয়া হয়।
রাবি রিপোর্টার্স ইউনিটির সাবেক সভাপতি মেহেরুল সুজনের সঞ্চালনায় আরও বক্তব্য রাখেন গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সভাপতি সহযোগি অধ্যাপক প্রদীপ কুমার পাণ্ডে, সহযোগী অধ্যাপক মশিহুর রহমান প্রমূখ। অনুষ্ঠানের অতিথি হাসান আজিজুল হক ও মোহসীন উল হাকিমকে উত্তরীয় পরিয়ে বরণ করেন রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক।

এই রকম আরও খবর দেখুন

সর্বশেষ আপডেট

অ্যার্কাইভ ক্যালেন্ডার
সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০৩১