সাকিব পাবেন হ্যাটট্রিক শিরোপা

ক্রীড়া ডেস্ক :  আইপিএলে সাকিব আল হাসানের পথচলা শুরু হয়েছিল কলকাতা নাইট রাইডার্সের সঙ্গে। ২০১১ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত ছয় বছর দলটির সঙ্গে ছিলেন তিনি। কলকাতা যে দুটি শিরোপা জিতেছিল, তার সঙ্গী ছিলেন বাঁহাতি অলরাউন্ডার। চার বছর পর সেই কলকাতায় ফিরে তৃতীয়বার ফাইনালে, এবারো কি শিরোপার স্বাদ পাবেন সাকিব? ৩ কোটি ২০ লাখ রুপিতে সাকিবকে চার বছর পর ‘ঘরে’ ফেরায় কলকাতা। বাংলাদেশি তারকাকে নিয়েই তাদের ঘোষণা, ‘ময়না ঘরে ফিরেছে।’ করোনার কারণে ভারতে আইপিএল স্থগিত হওয়ার আগে দলের মতো সাকিবও ছিলেন ব্যর্থ। প্রথম তিন ম্যাচে ৩৮ রান করেন, নেন ৩ উইকেট। তারপর থেকে শুধু দলের সঙ্গে ‘বোঝা’ হয়ে ঘুরেছেন।

অপেক্ষার পালা শেষ হয় ৯ ম্যাচ পর সানরাইজার্স হায়দরাবাদের বিপক্ষে। ২০ রান খরচায় নেন ১ উইকেট। রাজস্থান রয়্যালসের বিপক্ষে বাঁচা-মরার লড়াইয়ে ১ ওভারে ১ রান দিয়ে পান একটি উইকেট। ২৪ রান দিয়ে উইকেটশূন্য থাকা সাকিব ব্যাটিং করার সুযোগ পান এলিমিনেটরে। ওই ম্যাচে সংকটপূর্ণ মুহূর্তে শেষ ওভারের প্রথম বলে দারুণ স্কুপে বাউন্ডারিতে দলে স্বস্তি ফেরান এবং জেতান অপরাজিত ৯ রানে। দিল্লি ক্যাপিটালসের বিপক্ষে দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারে বল হাতে ২৮ রান দিয়ে উইকেটশূন্য। শেষ ওভারে দলকে জিতিয়ে হতে পারতেন নায়ক, কিন্তু ডাক মারেন সাকিব। অবশ্য রাহুল ত্রিপাঠীর ছক্কায় কলকাতা উঠেছে তৃতীয় ফাইনালে।

আমিরাতে চার ম্যাচ খেলে আহামরি পারফর্ম করতে না পারলেও অধিনায়ক এউইন মর্গ্যানের আস্থা আদায় করেছেন সাকিব। দুবাইয়ে আজ ফাইনালে একাদশে থাকা স্বাভাবিক। যদিও শোনা যাচ্ছে আন্দ্রে রাসেল ফিট হলে জায়গা হারাতে পারেন ৩৪ বছর বয়সী অলরাউন্ডার। সে যাই হোক, সাকিবের ফাইনাল খেলার অভিজ্ঞতা দুইবারই হয়েছে কলকাতার সঙ্গে। তাই কিছুটা হলেও একাদশে জায়গা পাওয়ার দৌড়ে এগিয়ে থাকবেন তিনি। ২০১২ সালে কলকাতার প্রথম শিরোপা জয়ের ম্যাচে সাকিব ছিল সমহিমায় উজ্জ্বল। যদিও বড় কোনো অবদান রাখেননি। কিন্তু ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন। চেন্নাই সুপার কিংসকে ৩ উইকেটে ১৯০ রানে থামাতে সাকিব বল হাতে ৩ ওভারে ২৫ রান খরচায় নেন ইনিংস সেরা ব্যাটসম্যান সুরেশ রায়নার (৭৩) উইকেট। এছাড়া ওপেনার মুরালি বিজয়ের (৪২) ক্যাচও ধরেন তিনি।

ব্যাট হাতে সাকিব রাখেন গুরুত্বপূর্ণ অবদান। ১৮তম ওভারের প্রথম বলে রবিচন্দ্রন অশ্বিনের কাছে ইউসুফ পাঠান উইকেট হারালে ছয় নম্বরে ব্যাট করতে নামেন তিনি। অন্য প্রান্তে ছিলেন জ্যাক ক্যালিস। তাদের জুটিতে ভালোভাবে এগোচ্ছিল কলকাতা। কিন্তু ১৯তম ওভারের পঞ্চম বলে ক্যালিস (৬৯) আউট হলে বিপদের আভাস পায় তারা। পরের বলে সাকিব জোরে শট খেলেন, মিডউইকেটে মুরালি বিজয় ক্যাচ ধরে উল্লাসে মাতেন। কিন্তু নো বলের সংকেত বাঁহাতি ব্যাটসম্যানের জীবন বাঁচায়, দুটি রান নেন। তাতে শেষ সাত বলে ১৩ রানের লক্ষ্য দাঁড়ায় কলকাতার সামনে। ষষ্ঠ বলে হিলফেনহাসকে দারুণ স্কুপে চার মেরে স্বস্তি ফেরান সাকিব। শেষ ওভারে দরকার ৯ রান, সাকিব আর একটি রান নেন। বাকি কাজ সারেন মনোজ তিওয়ারি। সাত বলে ১১ রানে অপরাজিত ছিলেন সাকিব। ওই আসরে ৮ ম্যাচ খেলে ৯১ রান করেন তিনি আর বল হাতে নেন ১২ উইকেট।

২০১৪ সালের আইপিএলে সাকিব ছিলেন ব্যাটে-বলে দারুণ ফর্মে। ১৩ ম্যাচ খেলে করেন ২২৭ রান, বল হাতেও নেন ১১ উইকেট। করেন নিজের প্রথম আইপিএল হাফ সেঞ্চুরি। ওইবার বেঙ্গালুরুতে কলকাতার দ্বিতীয় ফাইনালে প্রতিপক্ষ ছিল কিংস ইলেভেন পাঞ্জাব। ঋদ্ধিমান সাহার অপরাজিতক সেঞ্চুরিতে ৪ উইকেটে ১৯৯ রানের পাহাড় গড়ে তারা। বল হাতে ৪ ওভারে ২৬ রান দিয়ে সাকিব ছিলেন উইকেটশূন্য। ওই ফাইনালে বাঁহাতি ব্যাটসম্যান বড় কোনো অবদান রাখতে পারেননি। ৭ বলে দুটি চারে ১২ রান করে রান আউট হন জর্জ বেইলির থ্রোতে। তবে মানীষ পান্ডের ৫০ বলে ৯৪ রানের ইনিংসে জয়ের যে ভিত গড়েছিল কলকাতা, তা শেষ করে আসেন পিযুষ চাওলা ও সুনীল নারিন উইকেটে থেকে। তিন বল হাতে রেখে ৩ উইকেটে কলকাতা দ্বিতীয়বারের মতো চ্যাম্পিয়ন হয়। সাকিবের হাতে ওঠে দ্বিতীয় ট্রফি। ২০১৮ ও ২০১৯ সালে সাকিব সানরাইজার্স হায়দরাবাদের হয়ে খেললেও ফাইনালের মুখ দেখেননি। কলকাতায় তিনি ফিরলেন, সাত বছর পর আবারো ফাইনালে দলটি। ৭ ম্যাচে ৪৭ রান ও ৪ উইকেট নেওয়া সাকিব কি পারবেন এবার তৃতীয় ট্রফিটা হাতে নিতে?

এই রকম আরও খবর দেখুন

সর্বশেষ আপডেট

অ্যার্কাইভ ক্যালেন্ডার
সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
২৯৩০