সুুদ ব্যবসায়ী ও প্রতারক তহুরার শাস্তির দাবী এবং ব্যবসায়ী রনির বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার দাবীতে মানববন্ধন

নিজস্ব প্রতিনিধি: রাজশাহী মহানগরীর সুুদ ব্যবসায়ী ও প্রতারক তহুরা বেওয়ার শাস্তির দাবীতে এবং থাই ব্যবসায়ী রনির বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার ও জেল হাজত থেকে মুক্তির দাবীতে মানববন্ধন কর্মসূচী পালন করেছেন ভুক্তভূগী ও এলাকাবাসী। আজ রবিবার বেলা ১১ টার দিকে নগরীর তালাইমারী ট্রাফিক মোড় জিরো পয়েন্টে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধনে মতিহার থানাধীন কাজলা এলাকার সকল শ্রেণী পেশার দুই শতাধীক ব্যাক্তি ব্যনার ফেস্টুন নিয়ে প্রতিবাদ জানান। এসময় সুুদ ব্যবসায়ী ও প্রতারক তহুরার বেড়াজালে আটকা পড়া একাধীক ভুক্তভূগী ও এলাকাবাসী তারা রাস্তায় দাড়িয়ে শাস্তির দাবীও জানান। উক্ত মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন, ২৮ নং ওয়ার্ড (পশ্চিম) আওয়ামীলীগ সভাপতি আব্দুস সাত্তার, ২৮ নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর আনসার আলী, অনলাইন নিউজ রাজশাহীর সময় ডট কম এর সম্পাদক মোঃ মাসুদ রানা রাব্বানী। এছাড়াও মোঃ জয়নাল আবেদীনসহ তহুরার বেড়াজালে আটকা পড়া দুই শতাধীক ভুক্তভূগী ও এলাকার সাধারণ জনতা এবং শতাধীক গণ্যমান্য ব্যাক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। জানা যায়, রাজশাহী মহানগরীর ২৮ নং ওয়ার্ড মতিহার থানাধীন কাজলা বড় মসজিদ এলাকার বিপদের অপর নাম সুদ ব্যবসায়ী তহুরা বেওয়া। তিনি বিপদগামী প্রতিবেশীদের কাছে সপ্তাহে হাজারে ২০০ টাকা হারে সুদ দিয়ে থাকেন। কিন্তু তিনি জামানত হিসেবে ১শত টাকা মূল্যের তিনটি ননজুডিশিয়াল ফাঁকা স্ট্যাম্প ও ব্যাংকের ৩টি চেক এর ফাঁকা পাতায় স্বাক্ষর নিয়ে থাকেন। প্রতিবেশিদের সুদের বড় অংকের টাকা দেন তা কিন্তু নয়। দুই হাজার থেকে ১লক্ষ টাকা পর্যন্ত দেয়ায় কথা শোনা গেছে ভূক্তভোগীদের মুখে। নিয়মিত সুদ দিলে ভাল যত বছর ইচ্ছা টাকা রেখে সুদ দেন কোন অসুবিধা নাই, কিন্ত সমস্য হলো সুদের টাকা পরিশোধ করলেই। কারন, সুদের টাকা পরিশোধ করলে তহুরার কাষ্টমার কমে যায়। তখনই প্রতারক, টাকা খাদক, সুদ ব্যবসায়ী তহুরা বেওয়া কুটুবুদ্ধি ও খারাপ ব্যবহার শুরু করেন কাষ্টমারের সাথে। যেমন: টাকা পরিশোধ করার পর চেক-স্ট্যাম্প ফেরত চাইলেই তার গায়ে জ্বর, মাথা ব্যাথা, হাই প্রেসার, ইত্যাদি অসুখ দেখা দেয়। ভূক্তভূগীদের কাছ থেকে টাকা ফেরত নিয়ে দরজা বন্ধ করে দিয়ে বলে, আমার এখন শরীর খারপ চেক স্ট্যাম্প পরে ফেরত দিবো। এখন কোথায় রেখেছি খুঁজে পাচ্ছিনা এ রমক বিভিন্ন তাল-বাহনা করে দিনের পর দিন ভূক্তভূগীদের ঘুরাতে থাকে। এরপর তার পরমেন্ড এ্যাডভোকেটের নিকট থেকে উকিল নোটিশ পাঠায়। সেখানে বলা হয় আপনি আমার মক্কেলের নিকট ২লক্ষ, সাড়ে ৩লক্ষ, ৫লক্ষ ৮০হাজার, ৭লক্ষ , ১০ লক্ষ টাকা নিয়েছেন তাহা আগামী ৩০দিনের মধ্যে স্ব-শরীরে অথবা একজন এ্যাডভোকেট নিয়ে আপোষ মিমাংসা করে নিবেন, অন্যাথায় আপনার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। এরপর ৩০দিনের পরেই হয় মামলা। আদালত থেকে আসে সমন। এবং সমনে কোটে হাজির হওয়ার দিন ধার্য থাকে। ঠিক এমনি ভাবে থাই ব্যবসায়ী কাজলা এলাকার মোঃ মোজাম্মেল হক (রনি) বিভিন্ন মেয়াদে নিয়েছিল ১ লক্ষ ৩৭ হাজার টাকা। সুদসহ মোট ৩ লক্ষ ২৮ হাজার ৮০০ শত টাকা পরিশোধ করার পরও তার নামে আরো সাড়ে ৩লক্ষ টাকার মামলায় বর্তমানে রনি জেল হাজতে রয়েছে। শুধু তাই নয় রনির মা রেনুয়ারা বেগমের নামে ৭লক্ষ টাকার চেকের মামলা আদালতে চলমান। বর্তমানে তাকে হুমকি দিচ্ছে তহুরা বেওয়া। তার ছেলের জামিন ধরলে আরো একটি চেক পাতায় ৭লক্ষ টাকা বসিয়ে আদালতে মামলা করবে বলেও হুমকি দিচ্ছে। অপর এক বিধবা আনোয়ারা বেওয়া জানান, রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (রুয়েট) শাখার ১০টি চেকের পাতার একটি বই ও একশত টাকা মূল্যের তিনটি ননজুডিশিয়াল স্ট্যাম্প জামানত রেখে ৭০ হাজার টাকা সুদে নেয় তুহুরার নিকট থেকে। পরে ওই টাকা বাবদ ৫০ হাজার টাকা সুদ দেয়। এক সময় তার সম্পূর্ন টাকা পরিশোধ করার জন্য বল্লে তহুরা ৩০০ টাকা মূল্যের স্ট্যাম্পে ৮ লক্ষ টাকা লিখে আড়াই লক্ষ টাকা দাবী করে। তা না দিলে কোর্টে ৮ লক্ষ টাকার মামলা করার হুমকি দেয়। আদালতে মামলা না করার শর্তে ২০০ টাকা মূল্যমানের ননজুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে (০৯ ডিসেম্বর ২০১৬) এ্যাডভোকেট ফারজানা বিনতে সফিক এর বাড়ীতে নগদ আড়াই লক্ষ টাকা দিয়ে ৮ লক্ষ টাকার আপোষ মিমাংসা হয়। কিন্তু সুকৌশলে চেক বইয়ের ১০টি পাতার ভেতর থেকে (ঝইখচ-৮৫৬৫৫৯৬) নাম্বারের ১টি চকের পাতা বের করে নেয় তহুরা। পরে চেক ফেরতের নামে দিনের পর দিন ঘুরিয়ে অবশেষে লুকিয়ে রাখা ঐ একটি চেকের পাতায় ১০ লক্ষ টাকার অংক বসিয়ে উকিল নোটিশ পাঠায় এবং নিয়ম অনুযায়ী ৩০ দিনের পরে ১০ টাকার মামলা করে। বর্তমানে ওই বিধবার চোখের পানি আর আর আল্লাহ্ পাকের উপর ভরসা করা ছাড়া কোন উপায় নাই। অপর এক গৃহবধূ দিনারা বানু ও তার স্বামী মোঃ খলিলুর রহমান ,সহকারী কন্ট্রোলার (অব.) রাবি তহুরা বেওয়ার নিকট গত আনুমানিক ৭ বছর পূর্বে জামানত হিসাবে একশত টাকা মূল্যের তিনটি ননজুডিশিয়াল স্ট্যাম্প ও চেকের পাতা রেখে তহুরা বেওয়ার নিকট ১ লক্ষ টাকা সুদে নেয়। পরে এক মাসের মাথায় ২৮নং ওয়ার্ড (সাবেক) কাউন্সিলর মোঃ আনসার আলির উপস্থিতিতে সুদসহ ১ লক্ষ ৭০ হাজার টাকা পরিশোধ করেন ওই দম্পতি। কিন্তু ওই চেক-স্ট্যাম্প পুঁজি করে তাদের নামে আদালতে ৫ লক্ষ ৮০ হাজার টাকার মামলা করে তহুরা। বর্তমানে মামলাটি মহামান্য হাইকোটে চলামান রয়েছে। এছাড়া ইতি পূর্বে অনেক নিরিহ্ গরিব মানুষের সাথে একই কায়দায় প্রতারনা করে লক্ষ লক্ষ হাতিয়ে নিয়েছে তহুরা। এ বিষয়ে, প্রশাসনের উদ্ধর্ত্তন কর্মকর্তাদের নিকট ভূক্তভোগীদের আবেদন, কুচক্রি, প্রতারক, টাকা খাদক, সুদ ব্যবসায়ী তহুরা বেওয়ার বিরুদ্ধে তদন্ত পূর্বক দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিসহ সুদ ব্যবসা বন্ধের অনুরোধ জানান ভূক্তভূগিরা। আরো জানা যায়, আনুমানিক ৩০ বছর পূর্বে চোরাই পথে ভারতীয় শাড়ি এনে পাড়াগাঁয়ে বিক্রি করতো রিক্সা চালকের স্ত্রী তহুরা বেওয়া। পাশাপাশি নিজ বাড়িতে ফেন্সিডিলের খুচরা ব্যবসা করতো সে। পরে সুদের ব্যবসা আর সাধারণ অসহায় মানুষকে কৌশলে ব্ল্যাকমেইল করেই বর্তমানে সে কোটিপতি।

 

 

 

এই রকম আরও খবর দেখুন

সর্বশেষ আপডেট

অ্যার্কাইভ ক্যালেন্ডার
সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০