হাসপাতাল থেকে ছুটি নিয়ে বাসায় এমপি পত্নী এলিনা

কেনো খেয়েছিলেন মাত্রাতিরিক্ত ঘুমের ঔষধ সেটি এখনো অজানা

হাসপাতাল থেকে ছুটি নিয়ে বাসায় এমপি পত্নী এলিনা

স্টাফ রিপোর্টার : গত ১৮ নভেম্বর রাত্রি আনুমানিক ১১ টা বেজে ৫৫ মিনিটে রাজশাহী-৩ (পবা-মোহনপুর) আসনের সংসদ সদস্য আয়েন উদ্দিনের স্ত্রী রাবির সংস্কৃতি বিভাগের শিক্ষক এলিনা আক্তার পলি অসুস্থ হয়ে পড়লে চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যাওয়া হয়। প্রথমাবস্থায় তাকে ৩৮ নম্বর মেডিসিন ওয়ার্ডে ভর্তি করা হলেও শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়াতে দায়িত্বরত ডাক্তার তাকে জরুরীভাবে আই.সি.ইউ (ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট) বিভাগে রেফার্ড করেন। কি এমন হয়েছিল যে, সুস্থ একটি মানুষকে হঠাৎ অসুস্থতার কারণে আই.সি.ইউ এর মতো অত্যন্ত স্পর্শকাতর একটি বিভাগে রেফার্ড করতে হলো।

বিষয়টি নিয়ে সরেজমিনে গিয়ে জানতে পারা যায় নানা অজানা তথ্য। তবে, অনেকেই এবিষয়ে জেনেও মুখে তালা লাগিয়ে রাখছেন সম্ভাব্য ভয় আর ভীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কায়। তবে, কেউ কেউ বলছেন, মাত্রাতিরিক্ত ঘুমের ঔষধ খাবার ফলেই হঠাৎ করেই এমপি পত্নির শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। কিন্তু, কি কারণে মাত্রাতিরিক্ত ঘুমের ঔষধ তিঁনি খেয়েছিলেন সে বিষয়ে তার ঘনিষ্টজনেরা জেনেও মুখ খুলতে নারাজ। তবে, সরেজমিনে রাজশাহীর কাদিরগঞ্জস্থ ৩৮২/বি নাম্বার বাড়ি গিয়ে স্থানীয়দের সাথে কথা বলে ঐদিনের অনাকাঙ্খিত ঘটনা সম্পর্কে কিছুটা অবগত হওয়া সম্ভব হয়েছে। শুধু কি পারিবারিক দ্বন্দ্বই নাকি এর ভেতরেও আছে অপ্রকাশিত ও ভাষ্যহীন কোন রহস্যঘেরা গল্পকাহিনী। বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন ব্যক্তিদের মধ্যে এখনো চলছে নানারকম তদারকি আর জানার কৌতুহল।

নগরীর কাদিরগঞ্জ এলাকার ৩৮২/বি নাম্বারের একটি এ্যাপার্টমেন্টের চতুর্থ তলায় দীর্ঘদির ধরে দুই মেয়ে, তিনজন কাজের বুয়া আর মোহনপুর নিবাসী এনতাম নামের একজন কেয়ারটেকার নিয়ে বসবাস করেন এমপি পত্নী এলিনা। ঐ এলাকার স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, ঐদিন (১৮ নভেম্বর) সকালেও এলিনা ম্যাডাম সুস্থবস্থায় ক্যাম্পাসে গিয়েছিলেন। আবার সুস্থবস্থায় তিনি বাসাতেও ফিরে ছিলেন। কিন্তু গভীর রাতে উনাকে কেনো হাসপাতালে ভর্তি করা হলো সেটি নিয়ে নানাপ্রশ্ন এখন এলাকার স্থানীয়দের।

এমপি’র ফ্লাটে দীর্ঘ সময় ধরে কাজ করা রফিক কানার বৌউ রোজি সেদিনের বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেন, ঐদিন বিকেল সাড়ে চারটার সময় আমি ম্যাডামের বাড়িতে দ্বিতীয় বেলার কাজ করতে গিয়েছিলাম। বাসায় যাবার একঘন্টা পরেও ম্যাডাম আমাকে নাস্তার কথা না বলাতে আমি নিজে থেকেই ম্যাডামের ঘরের দরজা নক করে ভেতরে প্রবেশ করে দেখি ম্যাডাম ক্যাম্পাস যাবার ড্রেস পরিবর্তন না করেই বিছানায় চোঁখবন্ধ করে শুয়ে আছে। পাশে উনার ছোট মেয়েটা বসা ছিল। আমি সেটা দেখে কিছু না বলেই বের হয়ে চলে আসি। কিছুক্ষণ পর আবার ম্যাডামের কাছে গিয়ে জিজ্ঞাসা করলাম, ম্যাডাম ড্রেস পাল্টাবেন না, নাস্তায় আজ কি দেবো। ম্যাডাম কোন উত্তর না দেওয়াতে আমি আবারো জিজ্ঞাসা করলাম, ম্যাডাম কিছু খাবেন। প্রতুত্তরে তিনি বলেছিলেন, না খাবানো।

আমি উনার ড্রেস পরিবর্তন করার কথা বললে তিনি আমায় বলেন, আমার শরীরটা ভাল লাগছেনা। আমি উঠে বসতে পারছিনা। উনাকে ধরে কোনরকম বিছানার উপর বসালেও তিনি বারবার বিছানার উপর পরে যাচ্ছিলেন। বারবার তিঁনি বলছিলেন, রোজি আমার ভেতরটা কেমন জানি করছে। শরীরে আমি কোন শক্তি পাচ্ছিনা। শারীরিক অবস্থা ধীরে ধীরে অবনতির দিকে ধাবিত হওয়াতে কোন উপায় না পেয়ে আমি কেয়ারটেকার ইলিয়াসকে মোবইল করি।

উল্লেখ্য যে, কেয়ারটেকার ইলিয়াস ঘটনার দিন বিকেলেই কোন এক কারণে ম্যাডামের কাছ থেকে ছুটি নিয়ে নিজের গ্রামের বাড়ি চলে গিয়েছিল। পরবর্তীতে এমপি সাহেবকে বিষয়টি জানানোর পরে তিনি ঐদিন রাত ১১:৩০ মিনিটে একজন ডাক্তারকে সঙ্গে নিয়ে রাজশাহীর বাসায় এসে এলিনা ম্যাডামকে তাৎক্ষণিক হাসপাতালে নিয়ে যান। তবে, হাসপাতাল যাবার পূর্বে এমপি সাহেব স্ত্রীর সামনে অনেক কান্নাকাটি করেছিলেন। এলিনা ম্যাডামের অসুস্থ হবার বিষয়কে কেন্দ্র করেই হয়তোবা এমপি সাহেব সেদিন অনেক কান্নাকাটি করেছিলেন।
এদিকে, গত রবিবার দুপুরের পরেই এমপি পত্নী এলিনাকে আইসিইউ থেকে রিলিজ দেয়া হয়েছে বলে জানায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আরো জানান, তিঁনি আশঙ্কামুক্ত হওয়াতে রিলিজ দেয়া হয়েছে।

এদিকে এলিনা আক্তার পলির বাসাতে কাজ করা বেশ কয়েকজন জানান, এখনো এমপি সাহেবের স্ত্রীর অবস্থা খুব একটা ভাল না। তিনি স্বাভাবিকভাবে হাটতে পারছেন না। কিছুক্ষণ দাড়িয়ে থাকলে মাথাঘুড়ে পরে যাচ্ছেন। হাসপাতালের ৩৮ নং মেডিসিন ওয়ার্ডের বেশকয়েকজন শিক্ষানবিশ চিকিৎসক জানান, ০.৫ এমজি (শূণ্য দশমিক পাঁচ) মাত্রার পনের থেকে বিশটি ঘুমের ট্যাবলেট কিংবা এর চাওতে বেশি মাত্রার দশটি ঘুমের ট্যাবলেট কোন সুস্থ ব্যক্তি খেলে তাকে সাধারণ ওযার্ডে চিকিৎসা দেয়াটা অনেকটাই ঝুঁকিপূর্ণ। ঐ ধরণের রোগীকে তাৎক্ষণিকভাবে আইসিইউ বিভাগে ভর্তি না করলে যে কোন মুহুর্তে ঘটতে পারে মৃত্যুর মতো অনাকাঙ্খিত ঘটনা।

এবিষয়ে এমপি আয়েন উদ্দীনকে ফোন করা হলে তিঁনি জরুরী একটি মিটিংয়ে আছেন, পরে কথা বলবেন বলে ফোন কেটে দেন। পরবর্তীতে তিনি আর ফোন রিসিভ করেননি।

এমপি আয়েন উদ্দীনের সাথে এবিষয়ে কথা বলতে না পেরে উনার ‘পিএ’ ইকবালের কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, ম্যাডাম কোন এক কারণে সেদিন এমপি সাহেব কে একাধিকবার ফোন দিয়েছিলেন, কিন্তু এমপি সাহেব ফোন রিসিভ না করাতে তিনি পাঁচ থেকে ছয়টি ঘুমের ঔষধ খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন ! ধামিন নওগাঁ এলাকার মোস্তাকিন সম্পর্কে ইকবালের কাছে জানতে চাইলে, ‘এবিষয়ে আমি কিছু জানিনা বলেই ফোনের সংযোগ কেটে দেন।

এমপি সাহেবের রাজশাহীস্থ বাসাতে কাজ করেন এমন একজন বলেন, এমপি পত্নী এলিনা আক্তার পলি প্রায় ত্রিশ-পত্রিশটা ঘুমের ঔষধ খেয়ে ছিলেন। কিন্তু কি কারণে তিনি এতোগুলো ঘুমের ঔষধ একসাথে খেয়েছিলেন সে বিষয়ে কিছু বলতে পারেননি। এমপি’র রাজশাহী কাদিরগঞ্জস্থ বাসাতে গিয়ে সরাসরি কথা বলতে চাইলে বাসার কেয়ারটেকার এনতাজ বলেন, ম্যাডাম এখন গোসল করছেন। তাছাড়া তিঁনি কারও সাথে এবিষয়ে কথা বলবেন না।

এই রকম আরও খবর দেখুন

সর্বশেষ আপডেট

অ্যার্কাইভ ক্যালেন্ডার
সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
২৯৩০