ভোলাহাটে নির্মাণ শ্রমিককে পিটালেন ইউএনও

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি : প্রধানমন্ত্রীর উপহার ভূমিহীনদের গৃহ নির্মানকালে একাধীক নির্মাণ শ্রমিককে পিটালেন ভোলাহাটের ইউএনও সমর কুমার পাল। ভোলাহাট উপজেলার চরধরমপুর বিন্দুপাড়ায় ১’শটি ভূমিহীনদের জন্য প্রধানমন্ত্রীর উপহার বাড়ী নির্মাণ কাজ চলছে। ভূক্তভূগি আহত নির্মাণ শ্রমিকেরা অভিযোগ করে বলেন, ২৯ জুলাই বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে পরিদর্শনে যান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সমর কুমার পাল। সাথে ছিলেন, সহকারী কমিশনার (ভুমি) শেখ মেহেদী ইসলাম, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোঃ কাউসার আলম সরকার, স্থানীয় ভোলাহাট ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য মোঃ মোয়াজ্জেম হোসেন ভুটু, মোঃ আফজাল হোসেন হিরো।

বাড়ীর র্নিমাণ কাজ পরিদর্শণকালে কাজের ত্রুটি হয়েছে এমন অভিযোগ এনে নির্মাণ শ্রমিদের পেটাতে তাঁর বডিগার্ড আনসারদের নির্দেশ দেন। নির্দেশ পেয়ে আনসার সদস্যরা নির্মাণ শ্রমিকদের বেধড়ক পিটাতে থাকে। নির্মাণ মিস্ত্রী মোঃ বল্টু(৫০), মোঃ আনোয়ার(৩৫), মোঃ সামাউন, মোঃ কাবিরুল(৩০), মোঃ রবিউল(৪০)কে বেধড়ক পিটাতে থাকলে কর্মরত বাঁকী ৪০/৫০জন নির্মাণ শ্রমিক কাজ ছেড়ে বিভিন্ন দিকে পালিয়ে নিজেদের রক্ষা করেন।

ভূক্তভুগি নির্মাণ শ্রমিক মোঃ বল্টু বলেন, আমরা কাজ করছিলাম এমন সময় উপজেলা নির্বাহী অফিসারসহ সহকারী কমিশনার (ভূমি), পিআইও, মেম্বার পরিদর্শনে গিয়ে কাজের ভুল হয়েছে বলে আমাদের ডেকে আনসারকে পিটাতে বলেন। আমাদের ৫ জনকে পিটাতে থাকলে বাঁকী নির্মাণ শ্রমিকেরা বিভিন্ন দিকে পিটনির ভয়ে পালিয়ে যায়। অপর ভূক্তভূগি মোঃ কাবিরুল বলেন, ইউএনও স্যার কাজের কাছে গিয়ে ভুল ধরে আমাদের পিটাতে বলেন আনসারকে। আনসার সদস্যকে ইউএনও স্যার বলছেন, এক একজনকে মেরে ফেলে দাও জেলে দিলে বৌ-বাচ্চা কষ্ট পাবে। দু’হাত জোড় করে মাফ চেয়েও পিটালো। আনসার সদস্যের পা ধরতে গেলে তিনি ইউএনও স্যারের পা ধরতে বলেন। পা ধরেও পিটনী থেকে রক্ষা হয়নি নির্মাণ শ্রমিকের।

ভূক্তভূগি নির্মাণ শ্রমিক মোঃ আনোয়ার একই অভিযোগ করেন। ভূক্তভূগিরা বলেন, আমরা ভোলাহাট সদর ইউনিয়ন চেয়ারম্যানকে বিষয়টি বলেছি। অন্যায় ভাবে মারার সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত কাজ করবেন না বলে জানান। তাঁরা বলেন, ইউএনও স্যার মারলেন কার কাছে বিচার চাইবো।
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নির্মাণ শ্রমিকদের বেধড়ক পিটানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পরিদর্শণকালে সাথে থাকা ভোলাহাট ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য মোঃ মোয়াজ্জেম হোসেন ভুটু, মোঃ আফজাল হোসেন হিরো। ভোলাহাট সদর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ইয়াজদানী জর্জ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, নিমার্ণ শ্রমিকেরা আমাকে বলেছেন, এ ঘটনার সমাধান না করা হলে নির্মাণ কাজে যোগ দিবেন না।

বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সমর কুমার পালকে জানানো হয়েছে। তিনি বলেছেন ভালোভাবে কাজ করিয়ে নেন। এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সমর কুমার পালের সাথে মুঠো ফোনে বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করে রিং হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।এ ব্যাপারে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মোঃ রাব্বুল হোসেনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ দিন বাইরে থাকায় বিষয়টি তাঁর জানা নেই বলে জানান। চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোঃ জাকিউল ইসলামের সাথে যোগযোগ করা হলে তিনি এ ব্যাপারে কিছু জানেন না। বিষয়টি দেখবেন বলে জানান।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি কাবিখা ও কাবিটা প্রকল্পের অনিয়ম দূর্ণীতি নিয়ে প্রধানমন্ত্রীসহ বিভিন্ন দপ্তরে প্রতিকার চেয়ে অভিয়োগ কারলে অভিয়োগকারীকে অফিসে ডেকে দের ঘন্টা অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। পরে বিষয়টি ভাইরাল হলে বিভিন্ন প্রকার হুমকি ধামকি দিয়ে মুক্তি দেন। এদিকে নামোমুশরীভূজা গ্রামের এক নির্মাণ শ্রমিককে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার তাঁর নিজ অফিসে ডেকে বেধরক পেটান। এদিকে ২৫ জুলাই রাতে নতুন হাজিপাড়া গ্রামে বাল্যবিয়ে অভিযানে গিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সামনে তাঁর আনসার সদস্য দিয়ে মোঃ তোফজুল হক (৬৫), মোঃ গোলাম আজম (৩৯) ও মোঃ সারোয়ার (২১)কে পেটান।

এই রকম আরও খবর দেখুন

সর্বশেষ আপডেট

অ্যার্কাইভ ক্যালেন্ডার
সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০