ভাতিজা হত্যা মামলার বাদী হওয়ায় হত্যা মামলার আসামী কাউন্সিলর কামাল হোসেন

নিজস্ব প্রতিবেদক : গতমাসের ৩০জুন রাজশাহীতে জমি দখলকে কেন্দ্র করে পূর্ববিরোধের জেরে দাশপুকুর বউবাজার এলাকায় দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে দাশপুকুর এলাকার সাজদার আলীর ছেলে শফিকুল ইসলাম (৪৫) এবং একই এলাকার গিয়াস উদ্দিনের ছেলে ও রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন রাসিক এর ৩নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর কামাল হোসেনের ভাতিজা জয়নাল (৪৫) নিহত হয়। ভাতিজা জয়নাল হত্যার ঘটনায় কাউন্সিলর কামাল হোসেন বাদি হয়ে ১৯জনের নাম উল্লেখ করে রাজপাড়া থানায় মামলা করায় প্রতিপক্ষ পরিবার কাউন্সিলর কামাল হোসেনকে শফিকুল ইসলাম এর হত্যা ঘটনার ১নম্বর আসামী করা হয়েছে বলে সাংবাদিকদের লিখিত বিবৃতি দিয়েছেন রাসিক এর ৩নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর কামাল হোসেন। পাঠকদের সুবিধার্থে ওয়ার্ড কাউন্সিলর কামাল হোসেনের বিবৃতি নিম্নে দেয়া হলো।

কাউন্সিলর কামাল হোসেনের বিবৃতি:-
প্রিয় সাংবাদিক ভাইয়েরা সকলকে জানাই আন্তরিক সালাম ও মোবারকবাদ , প্রিয় ভাইয়েরা আপনারা জানেন যে, আমি মোঃকামাল হোসেন ৩নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি। এর আগে আমি ২০০২ সাল থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত দায়িত্বপালন করেছি । এখন পর্যন্ত অনুষ্ঠিত রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের ৫ টি নির্বচানেই আমি অংশগ্রহণ করেছি এবং মহান আল্লাহ্ রাব্বুলআলামিন এর অশেষ রহমত যে কখনই আমার ভোট কমেনি অর্থ্যাৎ ১৯৯৪ সালে যে ভোট পেয়েছি ২০০২ সালে তার চেয়ে বেশি পেয়েছি, ২০০৮ সালে তার চেয়েও বেশি পেয়েছি, ২০১৩ সালে ২০০৮ এর চেয়ে বেশি এবং ২০১৮ সালে তাঁর চেয়ে বেশি পেয়েছি ।

আমি আমার এলাকার সন্তান হিসেবে সবার সাথেই সৌজন্যতা বজায় রেখে চলি । আমি কখনই কোনদিনও অন্যের ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায় নি । বিশ্বব্যাপী করোনা মহামারি কোভিড-১৯ এর ভয়াবহতার মাঝেও মাননীয় মেয়র মহোদয় জননেতা এ,এইচ,এম খায়রুজ্জামান লিটন ভাই এর নির্দেশে আমার এলাকার মানুষের কাছে খাদ্র্য সহায়তা পৌছে দিয়েছি । জনগণের সেবা করাই আমার জীবনের অন্যতম লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যে । বিনিময়ে পেয়েছি জনগণের অকুন্ঠ সমর্থন, দোয়া ও ভালবাসা ।

২০১৮ সালের নির্বাচনে আমার ওয়ার্ডের চিন্হিত ভূমিদস্যু, চাঁদাবাজ ও মানুষের দূর্বলতার সুযোগ নিয়ে মানুষকে সর্বশান্ত করা একটি চক্র একত্রিত হয়ে আমার বিরোধিতা শুরু করে । তাঁরা নীতিহীন ও স্বার্থবাজ তাঁদের কোন আদর্শ নেই তাঁদের একমাত্র আদর্শ হচ্ছে টাকা উপার্জন ও ভূমি দখল । যখন যে দল ক্ষমতায় তারা সে দলের হয়ে যায়। আমার পিতা মরহুম ছাইতুল্লাহ্ মন্ডল, জাতির জনক, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর ভক্ত এবং শহীদ এ এইচ এম কামরুজ্জামান হেনার সাথে আওয়ামীলীগের মিছিল করা মানুষ ছিলেন । ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগষ্টের পর ও ৩রা নভেম্বর আমাদের বাড়ীতেও হামলা করা হয়। রাজশাহী তথা আমাদের এই অঞ্চলের অনেকেই সে কথা জানেন ।

আমার বড় ভাই মোঃ মাহাতাব আলী আজ দীর্ঘ ২০ বছর ৩নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন । প্রিয়, সাংবাদিক ভাইয়েরা আপনাদের অবগতির জন্য জানাচ্ছি যে, শফিকুল কানা ও তার ভাই মোঃআব্দুস সালাম,তাঁর ছেলে শিশির ও শাওন এবং কানা শফিকুলের ছোট ভাই নাজির, কানা শফিকুলের আরেক বড় ভাই মজিবুর তাঁর ছেলে মানিকসহ তাদের পরিবার দাশপুকুর, বহরুমপুর, ডিঙ্গাডোবা ব্যাংকলোনী সহ এই এলাকার চিন্হিত ভূমিদস্যু ও সুদের ব্যবসায়ী। মানুষের পরিবারের দূর্বলতার সুযোগ নিয়ে তাদের জমি/বাড়ী দখল করাই হচ্ছে এই চক্রটির প্রধান কাজ। এই কাজে তাঁদের অন্যতম সহযোগি ৩নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর হাবিবুর রহমান হাবিব ও তাঁর ভাইয়েরা ।

গত সিটি কর্পোরশন নির্বাচনে কানা শফিকুল ও হাবিব গ্রুপ একহয়ে আমার বিরুদ্ধে নির্বাচন করে পরাজিত হয়। দাশপুকুর মহল্লার মরহুম হাসেন আলীর (ভাটা হাসেন) এর মাদকাসক্ত ছেলে কাদের এর নামে থাকা সিটি হাটের পশ্চিমে অবয়া হাটের কাছে ১১ বিঘা জমি ৭/৮ বছর পূর্বে কানা শফিকুল কাদেরের কাছ থেকে লিখে নেয় এবং সেই ধারাবাহিকতায় হাবিব কাউন্সিলর থাকাবস্থায় হাসেনের ছেলে কাদেরের কাছ থেকে দাশপুকুর সংলগ্ন কাদের৷ নামে থাকা হাসেনের বাড়ী ভিটা ১৫ কাঠা জমি মাদকাসক্ত কাদেরের কাছে থেকে লিখে নেন হাবিবের ছোট ভাই পিন্টু গংয়েরা , হাসেন আলী নিজ বাড়ী ভিটা পুনরুদ্ধারে জন্য দেড় কোটি টাকার বিনিময়ে তা ফেরতনেন যার বিনিময় হিসেবে নগদ ৭৫ লক্ষ টাকা এবং বসুয়াতে হাসেনের নামে থাকা ১৫ কাঠা জমি লিখে দেন , হাবিব কাউন্সিলর এর ভাই ও ভাতিজাদের নামে । সেই শোকে হাসেন ও তাঁর ছেলে কাদের মৃত্যু বরণ করেছে । হাবিব কাউন্সিলর থাকাবস্থায় এই চক্রটির ভূমিদস্যুতায় অতিষ্ঠ হয়ে পড়ে ওই এলাকার জনগণ। প্রতিবাদ করে কোন প্রতিকার নেই কারণ তারা প্রভাবশালী ও টাকার মালিক। প্রশাসন তাদের হাতের মুঠোয়। কানা শফিকুল ও তার বংশের লোকজন গত ২২ বৎসর পূর্বে চরখানপুর এলাকায় জমি দখল করতে গিয়ে কালাম নামের এক ব্যক্তিকে প্রকাশ্যে হত্যা করেছিলো। টাকার বিনিময়ে সেটি মিমাংসা করে। কানা শফিকুলের বড় ভাই আব্দুস সালাম ও হাবিব কাউন্সিলর এর বড় ভাই আব্দুর রশিদ ঠিকাদারি ও জমির ব্যবসায়িক পার্টনার। তাদের সাথে গত একবছরে যুক্ত হয়েছে বহরুমপুর এলাকার ঠিকাদার মোঃ হারুন।দাশপুকুর মোড়ের পশ্চিমে যেই জমি নিয়ে সংঘাত সেই পুরো সেই জায়গায়টি সালাম,তাঁর ছেলে শিশির, নাজির, কানা শফিকুল, রশিদ, হাবিব সহ অন্যরা ঠিকাদার হারুন কে পাইয়ে দিবে এই শর্তে হারুন তাদের সাথে থাকে।

এই চক্রটি গত১ মাস পূর্বে আমার বড় ভাই ৩নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সভাপতি মোঃ মাহাতাব আলীর ছেলে মোঃসেলিমের ক্রয়সূত্রে দখলকৃত জমিটি দখল নেওয়ার জন্য পূরোনো একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল করে মোঃসেলিমকে গ্রেফতার করায় ঠিকাদার হারুন ও প্রশাসনের যোগসাজশে ।

পরবর্তীতে ঠিকাদার হারুনের বুল ড্রেজার দিয়ে সেলিমের অধীনে থাকা সিটি বাইপাশ সংলগ্ন দোকানঘর রাতের আঁধারে গুড়িয়ে দেয়। গত ২৯/৬/২০২১ রোজ মঙ্গলবার বহরুমপুর মোড়ে হারুন ঠিকাদারের ডন এন্টার প্রাইজ এর চেম্বারে আব্দুস সালাম,কানা শফিকুল, রশিদ, হাবিব, শিশির,নাজির সহ আরো অনেকেই ঘন্টার পর ঘন্টা বৈঠক করেন।সেলিমের বাবা মোঃ মাহাতাব আলী ও তাঁর আত্মীয়স্বজনেরা সকালে সেই জায়গায় বেড়া দিতে গেলে সালাম,রশিদ, শিশির, হাবিব,নাজির, কানা শফিকুলের তাদের পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী সেখানে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা করেন।

আমার আরেক বড় ভাই মোঃ গিয়াস উদ্দীনের বড় ছেলে মোঃ জয়নাল আবেদিন(৫০) কে হত্যা করে। ঝামেলার কথা শুনে আমি সেখানে পৌছাতে দেখি আমার ভাতিজার রক্তাক্ত দেহ, আমার স্ত্রী মোসাঃ সালমা বেগমের রক্তাক্ত শরীর, আমার আরেক বড় ভাই মোঃ জামাল রক্তাক্ত অবস্থায়, আমার বড় ভাই ৩নংওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সভাপতি মোঃ মাহাতাব আলীকে তাঁর ব্যক্তিগত চেম্বার থেকে বের করে রক্তাক্ত করে রাস্তায় ফেলে রাখা হয়েছে । আমি দেখতে পাই আমার ভাতিজির ছেলে অর্থ্যাৎ আমার নাতীকে মোঃসোহেল রানা সড়কে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। এমতবস্থায় আমি লোকজনের সহযোগিতায় আহতদের হাসপাতালে নিয়ে যায় কিছুক্ষণ পড়েই কর্তব্যরত চিকিৎসক আমার ভাতিজা মোঃ জয়নাল আবেদিনকে মৃত ঘোষনা করেন । ঘটনার পরের দিন আমি বাদী হয়ে রাজপাড়া থানায় একটা হত্যা মামলা দায়ের করি । আমি জয়নাল আবেদিন হত্যা মামলার বাদী হওয়ায় আমার অপরাধ। যার কারণে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে এবং আমাকে ক্ষতিগ্রস্ত করার উদ্দেশ্যেই আমাকে হুকুমের আসামী করে ওই ভূমিদস্যুচক্রটি। মানুষের ঘড়বাড়ী দখলকারী, সন্ত্রাসী ও চিন্হিত ভূমিদস্যু,পুলিশের উপর হামলাকারী,রাষ্ট্রবিরোধীকাজে জড়িত, অসংখ্য মামলার আসামী কানা শফিকুল হত্যা মামলায় আমাকে আসামী করেছে ।

প্রিয় সাংবাদিক ভাইয়েরা, আপনার জাতির বিবেক, সমাজের আয়না। আপনারা খোঁজ নিয়ে দেখতে পারেন ২০০২ সাল ২০০৮ পর্যন্ত যে উন্নয়ন ও নাগরিক সুবিধা ওয়ার্ডবাসী পেয়েছিলো তা বিগত সময় মুখথুবড়ে পড়েছিলো ২০১৮ সালে পুনরায় নির্বাচিত হওয়ার পর মাননীয় মেয়র মহোদয় জননেতা এ,এইচ,এম খায়রুজ্জামান লিটন ভাইয়ের এর সহযোগিতায় আবারো ৩নং ওয়ার্ডে উন্নয়ন কার্যক্রম চলমান। জনগণ এখন নাগরিক সকল সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছে । গরীব অসহায়রা পাচ্ছে সরকারী সকল সুযোগ-সুবিধা । নাগরিকদের প্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচিত হয়ে ৩নং ওয়ার্ডের জনগণের আস্থার প্রতিদান দিতে পারছি এই ঈর্ষাকাতর হয়ে এলাকার কু-চক্রী মহল, ভূমিদস্যু,সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজরা আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে এবং সে ধারাবাহিকতায় আমার এবং আমার পরিবারের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে ।

প্রিয় সাংবাদিক ভাইয়েরা, আপনাদের মাধ্যমেই এ সমাজ ও দেশের মানুষ ঘটে যাওয়া প্রকৃত সত্য দেখতে পাই । প্রতিদিন অসংখ্য ঘটনার সত্য উদঘাটন করছেন আপনারা । তাই আপনাদের কাছে আকুল আবেদন আপনারা সত্য প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করুন। আমি ন্যায় বিচার পেতে আপনাদের সহযোগিতা কামনা করছি । ৩নং ওয়ার্ডের সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ ও ভূমিদস্যুদের বিরুদ্ধে আপনারা সোচ্চার হবেন এই প্রত্যাশা করি। আপনাদেরকে অসংখ্য ধন্যবাদ ।

এই রকম আরও খবর দেখুন

সর্বশেষ আপডেট

অ্যার্কাইভ ক্যালেন্ডার
সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০