বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ নেতার চেষ্টায় মায়ের বুকে ফিরলো হারানো মাদ্রাসা ছাত্র শাকিল

নিজস্ব প্রতিবেদক : গত ১৭ই জুলাই হঠাৎ ট্রেনে ঢাকা যাবার সময় শাকিল নামের এক ছেলের সঙ্গে দেখা হয় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ নেতা তানভীরের, তিনি তাকে জিজ্ঞেস করেন, ছেলেটির মানুসিক সমস্যা থাকার কারনো কিছু বলতে পারে না, শুধু কিছু খেতে চায় আর বলে আমাকে বাড়ি নিয়ে যাবেন? পরে তানভীরের সন্দেহ হলে, তাকে বুঝিয়ে জিজ্ঞাসা করে ও তার কাছে থাকা আইডি কার্ডের সুত্র ধরে তাকে তার মায়ের কাছে ফিরিয়ে দেয় ৷

উল্লেখ্য যে, শাকিল মিয়া, পিতাঃ অহিদ মিয়া, পড়ে বুড়িচৎ ছয়গ্রাম আলিম মাদ্রাসায়, এবং বাড়ি কৃষ্ণনগর, বুড়িচং, কুমিল্লা ৷ তাকে প্রায় ১০-১২ দিন থেকে খুজে পাওয়া যাচ্ছিলো না ৷ ছেলেটি মাদ্রাসায পড়তে গিয়ে বাসায় ফেরেনি দেখে মাও খোজ নেয়নি, পরে, মাদ্রাসায় খোজ নিয়ে জানতে পারে যে সেখানেও নেই , পরে তারা খোজাখুজি করেও পায়নি ৷ ছেলেটি ভুল বসত রাজশাহী’র ট্রেনে চড়ে রাজশাহী তে চলে এসেছিলো ৷

এই পুরো বিষয় নিয়ে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন ও ফেসবুক স্ট্যাটাসে বলেন, একটা জরুরী কাজে ঢাকা যাচ্ছিলাম সকাল ৭টার বনলতা ট্রেন, স্বভাবতই আমি ঢাকা গেলে ট্রেনের সিটে না বসে একটু এদিক-সেদিক ঘোরাফেরা করি অথবা ট্রেনের দুই ভাগের মাঝখানে যে ফাঁকা জায়গা দরজার পাশে দাঁড়িয়ে হয়তো একটু চিপস আর সফট ড্রিংকস খায়৷ সেদিনও তার ব্যতিক্রম হয়নি তাই সেদিনও দাঁড়িয়ে ছিলাম দরজার পাশে হঠাৎ দেখি একটি ছেলে একটি ছেলে এসে আমার বুকের বোতলটি চাইলো, আমি প্রথমে দেখে একটু অবাক হলাম যে অনেকে এসে টাকা চাই,,, সে টাকা না চেয়ে খেতে চেলো !!! আমি তাকে দিলাম বাদ দেওয়ার পরেও সে আমাকে বলছে ভাই আমাকে কি কুমিল্লা নিয়ে যাবেন???

আমি একটু ওর কথা শুনে অবাক হলাম কুমিল্লা কেন ওকে রাজশাহী স্টেশন দেখছিলাম কয়েকজন চিল্লাফাল্লা করছিল বাট, আমি তাড়াহুড়ার কারণে দাঁড়াতে পারিনি পরে দেখি ওর গলায় একটা আইডি কার্ড ঝুলছে ৷ যেখানে কুমিল্লা ছয় গ্রাম মাদ্রাসা ঠিকানার আইডি কার্ড একটু সন্দেহ হল যে আইডি কার্ড গলায় নিয়েও কি করছে পরে দেখি যে ওর বাসা কুমিল্লার ছয়গ্রাম বুড়িচং থানা অন্তর্গত ৷ কিন্তু সে রাজশাহীতে জিজ্ঞেস করলাম তুমি এখানে কিভাবে এসেছ পরনে পাঞ্জাবি পরা একটা ট্রাউজার পরা মনে হল ওর সাথে কথা বল একটু মানসিকভাবে বিধ্বস্ত কম বুঝে হয়তোবা ৷

পরে ওর আইডি কার্ডের নাম্বার আছে গার্জিয়ান এর ঐ নাম্বারে কল দিলাম কল দিয়ে দেখি ছেলের নাম শাকিল আমি বললাম যে আপনি কি শাকিল এর কেউ হন শাকিল নামটা শুনে সে হাহা করে কাঁদতে লেগেছেন, কে বলছেন আমার ছেলে কোথায়? পরে আমি বললাম যে আমি রাজশাহী থেকে যাচ্ছি আমি আমার পরিচয় ক্লিয়ার করলাম এবং বললাম যেরকম আপনার ছেলেকে এখানে দেখলাম উনি বললো যে কোনো মূল্যে আমার ছেলেকে একটু আমার কাছে ফিরিয়ে দেন না !!!

বললাম যে আমরা তো রাজশাহী থেকে ঢাকা যাচ্ছি আপনি যদি ঢাকা আসতে পারেন তাহলে আমরা নিজেরাই আপনাকে ছেলেটা কে তুলে দিতাম কিন্তু উনি বললো যে ওর বাবা স্ট্রোক করা এবং একদমই উনারা চলতে পারেনা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ, আসতে পারবেনা ৷ চিনেনা কিছু শুধু ফোনটা ধরতে পারে আর কাটতে পারে ৷

পরে আমি কি করলাম ওদের যে বুড়িচং থানা সেই থানার নাম্বার আমার পুলিশ অ্যাপ থেকে কালেক্ট করে সে থানার উপ-পুলিশ কমিশনারকে ফোন দিলাম এরপর উনি হয়তো ব্যস্ত ছিলে ছিলেন কল ধরলেন না পরবর্তীতে আমি বুড়িচং থানার ওসির নাম্বার কালেক্ট করে ওসি সাহেব কে ফোন দিলাম উনি বললেন যে পুরো বিষয়টি শুনেছেন আমিতো কোন রিপোর্ট আমাদের কাছে নেই বাট তারপরেও আপনি ওকে ঢাকাস্থ রেলওয়ে থানা ওই থানায় আপনি ওকে দিয়ে দিন এবং আমার কথা বলুন ৷

এরপর কমলাুুপুরে ট্রেন থেকে নেমেথেকে নেমে ছেলেটিকে এক কনস্টেবল এর মাধ্যমে আমি ঢাকাস্থ রেলওয়ে পুলিশ থানায় হস্তান্তর করি ৷ এবং বলি যেন যত্ন সহকারে একটু পৌছিয়ে দেন ৷ পরবর্তীতে রাত সাড়ে এগারটা থেকে বারোটার দিকে সেই মহিলা আমাকে ফোন দেন ৷ ফোন দিয়ে অনেক কান্নাকাটি করেন এবং বলেন যে তাহাজ্জুদের নামাজ আপনার জন্য দোয়া করব ৷ আমার কলিজা, ছেলেটাকে আমি অনেক খুজেছি পায়নি দীর্ঘ ১০-১২ টা দিন পর আমি আমার ছেলেটাকে ফিরে পেলাম ৷

এটা শোনার পর আমার চোখের পানি ধরে রাখতে পারিনি আমি, খুশিতে কেঁদে ফেলসি, আসলে আমার মনটা এতটাই ভরে গেল মনে হল যে কেন জানি জীবনের সার্থকতা আজকে ফিরে পেলাম এবং জীবনে একটা হলেও আজকে ভালো কাজ করেছি,

ভালো থাকুক শাকিল এবং শাকিল এর পরিবার ৷
ভালো থাকুক পৃথিবীর সকল মানবতা ৷৷৷

এই রকম আরও খবর দেখুন

সর্বশেষ আপডেট

অ্যার্কাইভ ক্যালেন্ডার
সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০৩১